স্যার ক্লাস শেষে আমাকে দাঁড়াতে বলেন, বাজেভাবে ইনসাল্ট করেন!
প্রকাশ: Saturday, 4 March, 2023, 11:59 AM
স্যার ক্লাস শেষে আমাকে দাঁড়াতে বলেন, বাজেভাবে ইনসাল্ট করেন!
শিক্ষক অপমান করেছেন এই অভিযোগ তুলে বৃহস্পতিবার রাতে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের আবাসিক ছাত্র এবং হল ছাত্রলীগের প্রশিক্ষণ বিষয়ক উপসম্পাদক এস এম এহসান উল্লাহ ধ্রুব আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনি ২০১৮-১৯ সেশনে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী।
বৃহস্পতিবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক তানজীমউদ্দিন খানের নাম উল্লেখ করে তাঁর বিরুদ্ধে ‘অপমান’ ও ‘অন্যায়ের’ অভিযোগ তুলে একটি পোস্ট দেন এহসান। পোস্ট দেওয়ার পর থেকে তাঁর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না বলে জানান ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।
তাঁকে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ড. মুহাম্মদ শহিদুল্লাহ হলের পুকুর পাড়ে অবচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (৩ মার্চ) সকাল ৮টায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ‘একই বিভাগের ছাত্রীর সঙ্গে এহসানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল। এহসান ওই বান্ধবীকে প্রেমের প্রস্তাব দিলে ওই ছাত্রী সেটা প্রত্যাখ্যান করেন। মেয়েটি অন্য এক ছেলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে এহসান মেয়েটির নামে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে দিতে থাকে। এটি নিয়ে তানজিম উদ্দীন এসব করতে নিষেধ করেন। এতে এহসান ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষককে ফাঁসাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করছে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক তানজীম উদ্দীন খান বলেন, এ ধরনের অভিযোগ মিথ্যা। তার সঙ্গে আমি গত বৃহস্পতিবার রাতেই কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম। তবে শুক্রবার সকালে তার মায়ের সঙ্গে কথা হয়েছে। তার খোঁজ-খবর নিয়েছি।
সার্বিক বিষয় নিয়ে এহসান উল্লাহ ধ্রুবর সঙ্গে কথা বলতে কয়েকবার কল করা হলেও তার ফোন ব্যস্ত বলছিল। এ বিষয়ে তিনি তার ফেসবুক প্রোফাইলে একটি পোস্ট শেয়ার করেছেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই শারীরিক অবস্থা নিয়েই ছড়ানো প্রোপাগান্ডার বিরুদ্ধে লিখতে হলো- আমি স্যারকে স্বপ্রোণদিত হয়ে কোনোদিন কিছু বলতে যাইনি। স্যারের কাছে আমি গিয়েছিলাম তিন দিন আগে। আমার নামে স্যারের কাছে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল সেই প্রেক্ষিতে আমি যে দোষী না সেটা বলতে গিয়েছিলাম। স্যারের মুখ থেকেই শুনলাম ‘আমি ছাত্রলীগ করি, ছাত্রলীগের বড় বড় নেতারা আমাকে চিনে’। স্যার বামপন্থী, (স্যার আমার দেখা সবচেয়ে ভালো একজন শিক্ষক) তাঁর কাছে আমার ছাত্রলীগ ট্যাগ আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করে কানভারী করা হয়। ডিপার্টমেন্টের শিক্ষকদের নিকট আমি শুধুমাত্র ডিপার্টমেন্টের একজন ছাত্র এবং একজন ফটোগ্রাফার হিসেবেই পরিচিত। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়ে পরিচিত না। আমি আমার পক্ষের সব কথা স্যারকে বলি। প্রুফসহ স্যারকে দেখাতে চেয়েছিলাম। স্যার ওগুলো দেখতে চাননি। স্যারকে বলি আমি এই ব্যাপারে দোষী না।
গতকাল ক্লাস ছিল। ক্লাসে আমি আধ ঘণ্টা পরে ঢুকি। স্যার ক্লাস শেষে হঠাৎ আমাকে দাঁড়াতে বলেন। বলেন, এবার বলো এই রিউম্যার কারা কারা ছড়িয়েছে। আমি বলি, I can show you screenshots sir as proofs) but I can't tell you my friends name. স্যার এরপরে সবার সামনে আমাকে খুব বাজেভাবে ইনসাল্ট করেন, এমনকি আমার পার্সোনাল লাইফ নিয়েও ইনসাল্ট করেন। আমি যত বড় নেতাই হই না কেন তিনি ছয়তলা থেকে ধরে আমাকে ফেলে দেবেন। আমি তাকে বিনীতভাবে বলি ‘I want to say something’। তিনি আমাকে কিছুই বলতে দেননি।
ক্লাস শেষে আমি স্যারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়েছিলাম স্যারকে কাঁদতে কাঁদতে বলেছিলাম স্যার আমি তো এই কাজ করিনি, আমাকে অনেকে বলেছে। কিন্তু তাদের নাম তো আমি বলতে পারব না। আপনি কেন সবার সামনে আমাকে এইভাবে ইনসাল্ট করলেন। স্যার তখনো আমার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলেন। তখন স্যারকে বলি আমি যদি আজকে সুইসাইড করে বসি এই দায়ভার আপনার স্যার। স্যার তখন আমাকে কয়েকবার ডাকেন। আমি স্যারের ডাক না শুনে চলে আসি। নিচে গিয়ে দেখি স্যার আমাদের কয়েকজন ব্যাচমেটের সঙ্গে দাঁড়িয়ে আছেন। আমি ইগনোর করে চলে আসছিলাম। আমাদের একজন ব্যাচমেট রিকোয়েস্ট করে স্যারের কাছে নিয়ে যান। স্যার জোর করে ধরে নিয়ে গিয়ে ফুচকা খাওয়ান। আমি স্যারকে তখন আবারো বলি স্যার ফুচকা খাওয়ালে তো আর আমাকে যে অন্যায়ভাবে অপমান করা হলো সেটা তো আর ঠিক হয়ে যাবে না!’