জাতিসংঘের দেয়া গুমের তালিকা নিয়ে বিতর্ক থামছেই না। দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এবার ভারতের গণমাধ্যমেও শিরোনাম হয়েছে সাংঘর্ষিক ও গোঁজামিলের এ তালিকা প্রসঙ্গ। এতে সত্যিকারের গুম নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে, তেমনি জোরপূর্বক গুমের সংখ্যা বাড়িয়ে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা বলে রাজনীতি করছে একটি মহল।
জাতিসংঘকে সাংঘর্ষিক তথ্য সরবরাহের নেপথ্যে বাংলাদেশের কয়েকটি সরকারবিরোধী এনজিওর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন ওঠেছে। ভারতের ইন্ডিয়া টুডে পত্রিকার রিপোর্টে ১৯৯৬ সালে ১২ জুন কল্পনা চাকমা, ২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বরিশালের ছাত্রলীগ নেতা শফিকউল্লাহ মোনায়েম এবং ২০০৮ সালের ২৫ মে হাসান খান নিখোঁজের ঘটনা উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এ তিনটি ঘটনার কোনোটিই আওয়ামী লীগের আমলের নয়; তারপরও দায় দেয়া হচ্ছে বর্তমান সরকারকে। এ ছাড়া ভারতের দুই বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসীর নাম বাংলাদেশের গুমের তালিকায় থাকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
পত্রিকাটির রিপোর্টে আরও বলা হয়, জাতিসংঘ যে ৭৬ জনকে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ করছে এর মধ্যে ২৮ জনই হত্যা, নাশকতা এবং মাদকসহ বিভিন্ন মামলায় অভিযুক্ত। গ্রেফতার এড়াতে নিজেরা নিজেকে আত্মগোপন করে রেখেছেন। সরকার বলছে, তালিকার ১০ জন এরই মধ্যে বাসায় ফিরেছেন। অথচ বিতর্কিত এ তালিকা ধরেই বাংলাদেশকে বারবার অভিযুক্ত করছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আমাদের দেশে মানবাধিকারের কথা বলে; অথচ তাদের দেশের মানবাধিকার নিয়েই প্রশ্ন আছে। একই দেশ আবার যখন বিশেষ করে বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয় দেয়, তখন স্বাভাবিকভাবেই তাদের মানবাধিকার প্রতিবেদনের বিষয় মানুষ বড় করে দেখেন না।
মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামাল মনে করেন, জাতিসংঘের উচিত ছিলো তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই করে নেয়া।
তিনি বলেন, ‘আমরা যেন শেষ পর্যন্ত চেষ্টা করি বস্তুনিষ্ঠ হওয়ার এবং আমাদের যে তথ্য-উপাত্ত থাকবে সেটা যেন কোনোক্রমেই ভুল না হয়। যাচাই-বাছাই করাটা একটা জরুরি বিষয়। রাষ্ট্র অনেক সময় বলে, এমন ঘটনা ঘটেনি; কিন্তু সেটা প্রমাণ করার দায়িত্ব কিন্তু রাষ্ট্রের।’
জাতিসংঘ কিংবা যুক্তরাষ্ট্র- কে কী বলল সেদিকে মাথা না ঘামিয়ে গুমের যে কোনো অভিযোগ শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনার পরামর্শ বিশ্লেষকদের।