প্রকাশ: Saturday, 21 May, 2022, 6:35 PM সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 21 May, 2022, 11:18 PM
ডলার-টাকার খেলা ও আমাদের অর্থনীতি
ডলার ক্রাইসিস, টাকার অবমূল্যায়ন, দেশ শ্রীলংকা হয়ে যাচ্ছে, কি হবে দেশের? - ইত্যাদি ইস্যু গত কয়েক দিন মুদ্রা বাজারের আলোচনার বিষয় বস্তু। হয়তো আরো কয়েকদিন থাকবে।
প্রথমে বলে রাখি, বিদেশী মুদ্রা দুই ভাবে লেনদেন হয়। এক ব্যাংকিং চ্যানেলে, দুই খোলা বাজারে (কার্ভ মার্কেট)। খোলা বাজারে সাধারনত ব্যাংকিং চ্যানেল থেকে সামান্য কিছুটা বেশী থাকে। বাংলাদেশে সাধারনত এই বেশীর পরিমান ২/৩ টাকা হয়ে থাকে। একই সাথে উভয় বাজারে ক্রয় ও বিক্রয় মূল্য আলাদা থাকে, সাধারনত ক্রয় ও বিক্রয় মূল্যের পার্থক্য থাকে ০.৮০টাকা থেকেও ১.২৫ টাকা পর্যন্ত। ডিমান্ড/ সাপ্লাইয়ের উপর ভিত্তি করে ডলারের দাম উঠা নামা করে। বাংলাদেশে যদিও ফ্লোটিং রেট বলা হয়, অর্থাৎ মুদ্রা বাজার দাম নির্ধারন করবে- তদুপরি বাংলাদেশ ব্যাংক দাম নিয়ন্ত্রনের জন্য প্রয়োজনে বাজার থেকে ডলার তুলে নেয় অথবা বাজারে ডলার বিক্রি করে বাজার স্থিতিশীল রাখে।
এবার আসা যাক বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েঃ আগে আসি বর্তমানে ডলারের অফিসিয়াল রেট কতো? গত ১৯মে ডলারের অফিসিয়াল রেট ছিলো ৮৭.৫৫ টাকা (বাংলাদেশ ব্যাংক রেট)। কিন্তু খোলাবাজারে ছিলো ৯৮ টাকা (কম/ বেশী), যা খোলা বাজারে থাকা উচিত ছিলো ৮৯/৯০ টাকা। তাহলে এই বড় পার্থক্য থাকার কারন কি? সেটা হলো পেনিক বায়িং এবং ডলারের যোগান কম থাকায় অনেকে ডলার বিক্রি করছে না, এতে করে দাম আরো বেড়ে গেছে। কেউ কেউ বেশী লাভের আশায় ডলার ধরে রেখেছে। আবার অনেকে অতিরিক্ত লাভের আশায় ডলার কিনেছে। অনেকটা সয়াবিন তেলের মতো অবস্থা।
অর্থনীতির জন্য ডলারের হিসাব হয় অফিসিয়াল রেটের (সেন্ট্রাল ব্যাংক রেট) উপর ভিত্তি করে। দক্ষিন এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতির দেশ গুলির অফিসিয়াল ডলার রেট - জানুয়ারী ২০২২, বর্তমান রেট ও শতকরায় দামের পরিবর্তন নিচে দেওয়া হলো- শ্রীলংকা - ২০২ / ৩৫৫/ +৭৫.৭৪% পাকিস্তান - ১৭৬ / ২০১ / +১৪.২০% ভারত - ৭৪.৭৫ / ৭৭.৮০/ +৪.২৭% বাংলাদেশ - ৮৬.২২ / ৮৭.৫৫ / +১.৫৪%
খেয়াল করে দেখুন, ডলারের অফিসিয়াল দাম বৃদ্ধিতে আমরা পার্শ্ববর্তী দেশ গুলি থেকে যথেষ্ট ভালো আছি। অর্থাৎ, অন্য দেশ গুলিতে তাদের মুদ্রা যতো দাম হারিয়েছে আমাদের টাকা কিন্ত সে দাম হারাইনি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা শ্রীলংকার, যাদের মুদ্রা প্রায় ৭৫ শতাংশের মতো দর হারিয়েছে, এরপর পাকিস্তান ও ভারত। সবশেষে বাংলাদেশের অবস্থা, যেখানে আমাদের টাকা মাত্র ১.৫৪ শতাংশ দাম হারিয়েছে।
খোলাবাজারে যেটা চলছে সেটা যতটা না ডলার ক্রাইসিস তারচেয়ে বেশী হলো ডলার হাতে ধরে রাখা তথা কৃত্রিম ভাবে দাম বৃদ্ধি করা। কিন্তু, এটা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। খোলা বাজারের দাম কমতে বাধ্য। গত বুধবার (১০১ টাকা) থেকে বৃহস্পতিবারের (৯৮ টাকা) দাম কমেছে ৩ টাকা। সুতরাং, ডলারের দাম বাড়ছে, দেশ শ্রীলংকা বা পাকিস্তান হয়ে যাবে তা ভাবার কোন কারন নেই। অযথা পেনিক সৃষ্টি করে ডলার ক্রাইসিস তৈরী করে দাম বৃদ্ধি করা মানে এই নয় যে অর্থনীতি গোল্লায় গেলো। এসময় কিছু চালাক প্রকৃতির লোক বেশী দামে ডলার বিক্রি করে দিবে আর যারা কিনবে তারা ধরা খাবে। আর কয়েকদিন দেখুন, তাহলে বিষয়টা বুঝতে পারবেন।
শাখাওয়াত হোসেন মামুন Master in International Business (MIB), Finance