রিয়াজ-তিনার প্রেমকাহিনী, এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Monday, 14 February, 2022, 7:51 PM
রিয়াজ-তিনার প্রেমকাহিনী, এ যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়
চিত্রনায়ক রিয়াজ। একসময় দাপুটে অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনয়ে মুগ্ধ ছিলো ভক্তরা। নিজের চেহারা দিয়ে কাঁত করেছেন বহু তরুণীকে। কিন্তু তার প্রেমকাহিনী যেন হার মানায় সিনেমার গল্পকেও। আর রিয়াজের সেই গল্পের নায়িকা তার স্ত্রী তিনা।
রিয়াজ এবং তিনার গল্পের কাহিনী শুরু হয় ‘হৃদয়ের কথা’ ছবির একটি গানে প্রথমবার পারফর্মের মাধ্যমে। নাচের একটা দৃশ্য ছিল এমন, তিনা ঘুরে বসেছে এবং তার হাতটা রিয়াজের দিকে বাড়িয়ে দিয়েছে। হাতটা টেনে তোলার সময় রিয়াজ তার দিকে তাকান আর তাতেই শুরু হয় সেই গল্পের সূচনা।
এরপরে গল্পের লাইনগুলো সম্পর্কে রিয়াজ বলেন, আমরা পারফর্মেন্সটা শেষ করি। পরে বাসায় ফিরে মনে মনে তিনাকে খুঁজছিলাম। যারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে, তাদের আমি বলি- কী ব্যাপার? যে মেয়েটা আমার সঙ্গে নাচল, সে তো পরে আমাকে আর কিছুই বলল না। পরে তিনা আমাকে ফোন করে বলেছিল, ভাইয়া কেমন হয়েছে আমাদের পারফর্মেন্স? আমি তখন বলি, খুব ভালো হয়েছে। আমি তখন ইচ্ছা করে ব্যস্ততা দেখিয়ে ফোন রেখে দেই।
এরপর একটা কাজের জন্য তিনা আমাকে ফোন করে একদিন। আমি তাকে বলি, কাজটা করো না। না করাই তোমার জন্য ভালো হবে। এভাবে দু-দিন, একদিন করতে করতে তিনার সঙ্গে আমার পরিচয় মজবুত হতে থাকে। তিনার সঙ্গে প্রচুর ফোনে কথা বলতাম। সারাদিন শুটিং শেষে রাতে বাসায় ফিরে ফ্রেশ হয়ে, খেয়ে ফোনে কথা বলতাম তিনার সঙ্গে। ওর নিজস্ব ফোন ছিলনা তখন। ওদের বাসার ল্যান্ডফোনে কথা হতো। রাত ১২ টায় ফোনে কথা বলা শুরু করতাম কখন যে রাত গড়িয়ে আযান দিত, টেরই পেতাম না।
সারাদিন শুটিংয়ের পর তিনার সঙ্গে কথা বলার সময় এত এনার্জি কোথা থেকে আসত আমি নিজেই বুঝতাম না। আযান যখন দিত, তখন ফোন রেখে দিতে চাইতাম। তখন একটা মজার ঘটনা ঘটত। কে ফোন আগে রেখে দেবে এটা নিয়ে দুজনের মধ্যে তর্কাতর্কি লাগতো। আমি নাকি তিনা, কে ফোন রাখবে এটা ঠিক করতেই আরো এক ঘণ্টা চলে যেত। মাঝে মধ্যে আমি আগে ফোন করতাম। তিনার মা ফোন ধরতো। আমি বলতাম, আন্টি তিনার সঙ্গে কাজের ব্যাপারে কথা ছিল। তখন ওর মা তাকে ডেকে দিত। তখনো আমরা কেউ কাউকে ‘লাভ ইউ’ কথাটা কিন্তু বলিনি।
একবার তিনা আমার সঙ্গে দেখা করতে চাইল। আমি ঢাকায় ছিলাম না। উড়ে চলে আসি। তারপর আবার আমাদের প্রেম জোড়া লাগে। প্রায় দেড় বছর অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে দুই পরিবারের সম্মতিতে ২০০৭ সালে ১৮ ডিসেম্বর আমরা বিয়ে করি। বিয়ের পর তিনার প্রতি আমার ভালোবাসাটা আরো বেড়ে গেছে। এটা কেন হয়েছে আমার জানা নেই। আমরা দুজনেই যখন একসঙ্গে থাকি, আমরা দুজনেই সময়টাকে এনজয় করি।
মাঝেমধ্যে ঝগড়া লাগলে আমরা ভাববাচ্যে কথা বলি। যেমন, কারো কিছু লাগলে বলুক, বাসায় ফেরার সময় নিয়ে আসবো। কিংবা তিনা আমাকে বলেন, কারো খিদে লাগলে খেয়ে নিক! আমাদের খুব সিলি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। কিন্তু ২৪ ঘন্টার বেশি স্থায়ী হয়না। যার দোষ বেশি থাকে, সে আগে এসে সরি বলে। তখন আবার সবকিছু ঠিক হয়ে যায়।