বিচ্ছেদের পর বিয়ের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় এসিড নিক্ষেপ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 29 January, 2022, 5:57 PM
বিচ্ছেদের পর বিয়ের প্রস্তাব, রাজি না হওয়ায় এসিড নিক্ষেপ
গার্মেন্টস কর্মী সাথী আক্তারের মুখ ও হাত এসিডে ঝলসে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাত সোয়া ২টার দিকে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ভুক্তভোগী সাথী আক্তার মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের কাটাখালী ফেরাজীপাড়া এলাকার আব্দুস সাত্তারের মেয়ে।
ভুক্তভোগীর পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা গ্রামের নিজাম উদ্দিনের ছেলে নাঈমের সঙ্গে বিয়ে হয় সাথীর। তবে বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য চাপ দিয়ে অত্যাচার করত নাঈম। নাঈম মাদকাসক্ত ও বখাটে হওয়ায় বিবাহ বিচ্ছেদ করেন সাথী।
তবে নাঈমের সঙ্গে পুনরায় সংসার না করলে সাথীকে মেরে ফেলার হুমকি দেন তিনি। এর জের ধরে নাঈম গতকাল শুক্রবার মধ্যরাতে ঘরের ভাঙ্গা জানালা দিয়ে সাথীর মুখে এসিড ছুড়ে দেয় বলে অভিযোগ সাথীর পরিবারের।
সাথী আক্তারের মা জুলেখা বেগম বলেন, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা এলাকার নিজাম উদ্দিনের ছেলে নাঈমের সঙ্গে দুই বছর আগে বিয়ে হয় সাথীর। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য সাথীকে চাপ দিয়ে অত্যাচার শুরু করে নাঈম। সে একজন বখাটে ও নেশাখোর হওয়ায় শেষমেষ সংসার বিচ্ছেদ করা দেওয়া হয়।
তিনি আরো বলেন, এতে ক্ষিপ্ত হয়ে রাস্তাঘাটে মেয়েকে বিরক্ত করতে শুরু করে নাঈম। তার সঙ্গে সংসার না করলে মেরে ফেলার হুমকিও দেয় সে। এরই জের ধরেই শুক্রবার মধ্যরাতে ঘরের ভাঙা জানালা দিয়ে তার মেয়ের মুখে এসিড মেরে হাত-মুখ ঝলছে দেয়। এ ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন জুলেখা বেগম।
মানিকগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) কাজী একেএম রাসেল বলেন, দাহ্য পদার্থে সাথীর হাত-মুখ ঝলসে গেছে। তাকে সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। এখানে তার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজে পাঠানো হতে পারে।
সাটুরিয়া থানার ওসি আশরাফুল আলম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।