২০২০ সালের নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত দিনাজপুর জেলায় নারী ধর্ষণ মামলা হয়েছে ৩২৩টি, যৌতুকের জন্য নির্যাতনের মামলা হয়েছে ৭০৯টি, অপহরণ মামলা হয়েছে ১৭৯টি এবং নারী সংক্রান্ত অন্যান্য মামলা হয়েছে ১০৬টি।
বৃহস্পতিবার দিনাজপুর প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখার সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানানো হয়। 'নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ কর, সমঅধিকার নিশ্চিত কর'- এই স্লোগান সামনে রেখে ২৫ নভেম্বর থেকে ১০ ডিসেম্বর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ও বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ দিনাজপুর জেলা শাখা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।
এক বছরে ৩২৩টি ধর্ষণ মামলা দায়েরের তথ্যের উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করা হলে মহিলা পরিষদ দিনাজপুর শাখার সভাপতি কানিজ রহমান বলেন, এ তথ্য দিনাজপুর জেলা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল থেকে নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নারী নির্যাতন, অপহরণসহ অন্যান্য মামলার তথ্যগুলোও সেখান থেকেই নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বর্তমানে সারাবিশ্ব কভিড-১৯ মহামারিতে বিপর্যস্ত। মার্চ ২০২০-অক্টোবর ২০২১-এর সময়কালে তরুণ সমাজের অনেক ইতিবাচক কাজের পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণ সমাজ, বিশেষ করে নারীর অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি সমাজের ভেতরে মূল্যবোধের অবক্ষয় হচ্ছে।
নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা, ধর্ষণ, দলবদ্ধ ধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যা করার মতো ঘটনা অব্যাহতভাবে ঘটে চলেছে, যা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।হসংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনোয়ারা সানু। এ সময় সংগঠনের সভাপতি কানিজ রহমান, সহসভাপতি মাহাবুবা খাতুন, মিনতি ঘোষ, সুমিত্রা বেসরা, অর্থ সম্পাদক রত্না মিত্র, আন্দোলন সম্পাদক গৌরী চক্রবর্তী, সাংগঠনিক সম্পাদক রুবিনা আকতার, সদস্য রোকসানা বিলকিস, রেহেনা বেগম, শুক্লা কুণ্ডু, অনামিকা পান্ডে এবং জেলা কমিটি ও পাড়া কমিটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়- নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করে সমঅধিকার নিশ্চিত করতে হলে পুরুষতান্ত্রিকতা, ধর্মান্ধতা, মৌলবাদ এবং বৈষম্যমূলক আইনের পরিবর্তন অত্যন্ত জরুরি। বিগত বছরের তুলনায় দলগত ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতাসহ বৈবাহিক ধর্ষণের মতো ঘটনা বেড়েই চলেছে। সম্প্রতি ধর্ষণের শিকার নারীর সঙ্গে ধর্ষকের বিয়ের ঘটনাও ঘটতে দেখা যাচ্ছে, যা নারীর মানবাধিকার পরিপন্থি।
এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নির্যাতনের ঘটনায় মাত্র দুই ভাগ নারী আইনের সহায়তা পাচ্ছে। বর্তমান সময়ে আমরা আরও লক্ষ্য করছি, পুরুষতান্ত্রিকতা সমাজের রল্প্রেব্দ রল্প্রেব্দ এমনভাবে গেঁথে আছে যে অগণতান্ত্রিকভাবে প্রশাসনিক দায়িত্ববোধের জায়গায় থেকেও নারী-পুরুষ বিভেদ সৃষ্টি করছে এবং বিচারকের অসংবিধানিক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ধর্ষণের শিকার নারীর ন্যায্য বিচার প্রাপ্তিতে বাধার সৃষ্টি করছে।
লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ ২০২১ সামনে রেখে মহিলা পরিষদ নারী নির্যাতন প্রতিরোধে নারী নির্যাতনবিরোধী সংস্কৃতি, পরিবারে সমাজে ও রাষ্ট্রে গড়ে তোলার জন্য পুরুষ সমাজ ও তরুণ-তরুণীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।