স্কুুল থেকে ছেলেদের তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছেন রাজধানীর স্কলাসটিকা স্কুলের ক্যারিয়ার গাইডেন্স কাউন্সেলর ইভানা লায়লা চৌধুরীর স্বামী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসান রুম্মান। সম্প্রতি ইভানার মোবাইল ফোনে এমন হুমকি-ধমকি আসছে বলে অভিযোগ করেছেন তার মা। এছাড়া রুম্মান ইভানার বোনের সরকারি অফিসে সশরীরে গিয়েও হুমকি দিয়েছেন। রুম্মানের এই হঠাৎ হিংস্র আচরণে ভীত তার দুই ছেলে এবং ইভানার পরিবার। এ বিষয়ে ঘটনার পরপরই গত রোববার ইভানার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী পরিবার এবং দুই নাতির নিরাপত্তা চেয়ে বনানী থাকায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। ডায়েরিতে তিনি উল্লেখ করেন, বিবাদী আব্দুল্লাহ মাহমুদ হাসানের সঙ্গে গত ১০ বছর আগে তার মেয়ে ইভানা লায়লা চৌধুরীর বিয়ে হয়। আকস্মিকভাবে গত ১৫ই সেপ্টেম্বর ইভানা মারা যায়। এ ঘটনায় বিবাদী রুম্মানের বিরুদ্ধে শাহবাগ থানায় মামলা হয়।
ইভানার দুই ছেলে আরমান (৭) এবং আয়মান (৬) বর্তমানে তার বাসায় লালিত-পালিত হচ্ছে। কিন্তু বিবাদী রুম্মান তাদেরকে (নাতি) তুলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে হুমকি এবং নানান ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। গত ৪ঠা নভেম্বর রাতে রুম্মান তার শাশুড়িকে টেলিফোনে ফোন দিয়ে নাতিদের বাসা থেকে তুলে নিয়ে যাবার হুমকি প্রদান করে। উক্ত বাচ্চা দুটি নানা-নানির কাছে থাকতে সাচ্ছন্দবোধ করে। যেহেতু বাচ্চারা ছোট তাই তাদের অন্য কোথাও নিয়ে গেলে শারীরিক এবং মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আমান উল্লাহ চৌধুরী।
ইভানার পারিবারিক সূত্র জানায়, স্বামী রুম্মান ইভানার মাকে বিভিন্ন সময় ফোন দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখায়। বড় ছেলে আরমানের স্কুলে গিয়ে তাকে বিভিন্নভাবে বিরক্ত করে। ইভানার বড় বোন একজন স্থাপত্যবিদ। সম্প্রতি রম্মান তার অফিসে গিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ হয়রানি করার চেষ্টা করেছেন। ইভানার মাকে রুম্মান ফোনে হুমকি দিয়ে বলেন, সংশ্লিষ্ট থানায় অবহিত করে দুই ছেলেকে যেকোনো সময় নিয়ে যেতে পারবেন। অথচ দুই শিশু এখনো তাদের বাবাকে দেখলে ভয় পায়। মাকে হারানোর পরে তারা যে একটি মানসিক ধাক্কা খেয়েছেন সেটা এখন পর্যন্ত কাটিয়ে উঠতে পারেননি। বিভিন্ন ধরনের উত্যক্ত এবং ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে রুম্মান। এ বিষয়ে জানতে ব্যারিস্টার রুম্মানের মোবাইলে ফোন দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ইভানার মৃত্যুতে দায়ের হওয়া মামলার আইনজীবী এম. সরোয়ার হোসেন বলেন, ইভানার দুই ছেলেসহ পুরো পরিবার বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। দুই নাতির নিরাপত্তা চেয়ে ইতিমধ্যে বনানী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন তার বাবা আমান উল্লাহ চৌধুরী। এখন পর্যন্ত ইভানার স্বামীকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মওদুদ হাওলাদার বলেন, হুমকি-ধমকির বিষয়ে ইভানার পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আজম মিয়া বলেন, এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে।