ফেনীর সোনাগাজীতে মারধরের অপমান সইতে না পেরে ইমরান হোসেন জিসান (১৮) নামে এক যুবক নিজ ঘরে ফাঁসিতে ঝুলে আত্মহত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সে পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি ও টিকটকার জিসান হিসেবে পরিচিত। সে পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের ট্রাক চালক মাঈন উদ্দিনের ছেলে। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে জিসান ছিল সবার বড়।
সোমবার (৮ নভেম্বর) দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছ। গতকাল রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়নের পশ্চিম চরদরবেশ গ্রামের ইব্রাহীমের নতুন বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ রাত ১০টার দিকে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবার, এলাকাবাসী ও পুলিশ আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, জিসান রাজমিস্ত্রি কাজের ফাঁকে টিকটক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছেড়ে দিত। সাম্প্রতিক সময়ে ওই এলাকার তিনজন স্কুল ছাত্রী স্কুলে যাওয়ার সময় একটি টিকটক ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছেড়ে দেয়। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে ওই ছাত্রীদের পরিবারের সদস্যরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
গত ৬ নভেম্বর শনিবার বিকেল ৪টার দিকে একছাত্রীর ভাইসহ এলাকার চার যুবক তাকে পশ্চিম চরদরবেশ রাশেদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ডেকে নিয়ে মারধর করে জিসানের ব্যবহৃত ফোন থেকে টিকটক ভিডিওটি মুছে দেয়। এই অপমান সইতে না পেরে জিসান একটি ওড়না দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে নিজ ঘরে আত্মহত্যা করে।
ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা তার স্বহস্তে লেখা একটি চিরকুটে সে তার মৃত্যুর জন্য এক ছাত্রীর ভাইসহ আরও কয়েকজনকে দায়ী করেন।
চিরকুটে উল্লেখ করেন, এই অপমান আমি সহ্য করতে পারছিনা। আমার মৃত্যুর জন্য এক ছাত্রীর ভাই বিজয় সহ এলাকার আরও তিন যুবক সিফাত, ইমরাজ ও তারেক দায়ী। আর সবাই আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
আমার পরিবারের কাছে একটাই দাবি যে, আমি এদের ন্যায্য বিচার চাই। তবে ছেলের রেখে যাওয়া চিরকুটের সূত্র ধরে দোষীদের শাস্তি দাবী করেছেন নিহত জিসানের পিতা মাঈন উদ্দিন। তিনি এ ব্যাপারে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
স্থানীয় লোকজনের বরাত দিয়ে চর দরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য পলান উদ্দিন নাডু আরটিভি নিউজকে জানিয়েছেন, কয়েক দিন আগে টিকটক ভিডিও করার সময় স্থানীয় এক মেয়ের ছবি ভিডিওতে থাকা নিয়ে ওই মেয়ের ভাইসহ সাত-আটজন ইমরানকে মারধর করেছেন। ইমরান তাদের কাছে বিষয়টির জন্য ক্ষমা চেয়েছিলেন। এরপরও রোববার সন্ধ্যায় স্থানীয় মসজিদে নামাজ আদায় করতে গেলে আবারও ইমরানকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। তাদের নির্যাতন ও অপমান সইতে না পেরে ইমরান আত্মহত্যা করেছেন।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাজেদুল ইসলাম আরটিভি নিউজকে জানিয়েছন, ১৮ বছরের ওই ছেলের মৃত্যু নিয়ে এলাকায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর পর উদ্ধার হওয়া ‘সুইসাইড নোটে’ উল্লেখ করা ঘটনাটি পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে। যাদের নাম উল্লেখ আছে, তাদের বিষয়েও পুলিশ বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছেন।