ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৭ জুন ২০২৬ ২ আষাঢ় ১৪৩৩
অভিমানে ঐক্যমতে রাজ্যের সব পতিতাপল্লি
দুর্গাপুজায় সোনাগাছি বেশ্যালয় আর মাটি দিবে না
নতুন সময় (আন্তর্জাতিক) প্রতিবেদক
প্রকাশ: Saturday, 2 October, 2021, 6:54 PM
সর্বশেষ আপডেট: Sunday, 3 October, 2021, 6:05 PM

দুর্গাপুজায় সোনাগাছি বেশ্যালয় আর মাটি দিবে না

দুর্গাপুজায় সোনাগাছি বেশ্যালয় আর মাটি দিবে না

দুর্গাপুজায় সোনাগাছি বেশ্যালয় আর মাটিদেবে না। অভিমানে ঐক্যমতে অবস্থান নিয়েছে রাজ্যের সব পতিতাপল্লি।  দুর্গাপুজায় ‘বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা’ লাগে বলে উল্লেখ রয়েছে শাস্ত্রে। কিন্তু বাংলার বেশ্যা সমাজ সেই রীতি মানার জন্য বারোয়ারি কমিটিগুলির পাশে আর দাঁড়াতে চায় না। অতীতে এমন কথা উঠলেও এ বার গোটা বাংলার সব পতিতাপল্লিই এক হয়েছে এই সিদ্ধান্তে। বাংলার পতিতাদের সংগঠন দুর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটির সম্পাদক কাজল বসু বলেন, ‘আগেও আমরা এই কথা বলেছি যে, আমাদের দরজার মাটি না পেলে পুজো হবে না, কিন্তু কেউ আমাদের ঘরের চৌকাঠ পার হলেই অপরাধী। কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন আইনই সেটা বলেছে। তাই আমরা ঠিক করেছি, গোটা রাজ্যেই এ বার সব পতিতাপল্লি এক সুরে বলবে, দরজার মাটি দেব না।’


কিন্তু কেন এই অভিমান? দুর্বারের বক্তব্য, সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সরকার যে মানবপাচার-বিরোধী আইন তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে তাতে এই পেশায় যুক্ত যৌনকর্মীরা বিপদের মধ্যে পড়বেন। এমনকি, এই পেশাটাই উঠে যেতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে। প্রসঙ্গত,‘ট্র্যাফিকিং পার্সনস (প্রিভেনশন, প্রোটেকশন অ্যান্ড রিহ্যাবিলেটশন) বিল ইতিমধ্যেই লোকসভায় পাশ হয়ে গেছে। এখন রাজ্যসভার অনুমোদন পেলেই তা আইনে রূপান্তর হবে।   সেই বিলটাই সিলেক্ট কমিটি-তে পাঠানোর দাবি তুলে গত আগস্ট মাসে সংসদ চলাকালীন সরব হয়েছিল দুর্বার।


সংগঠনের আইনজীবী অভিজিৎ দত্ত বলেন, ‘আমাদের দেশে আগের পাচারবিরোধী আইন রয়েছে। সেটির পরে এই বিলে কোথাও ইচ্ছুক-অনিচ্ছুক যৌনকর্মীদের কথা আলাদাভাবে উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ ইচ্ছাকৃতভাবেও যারা এই পেশায় আসবেন তাঁদের পুনর্বাসন দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু যারা স্বেচ্ছায় এই পেশায় এসেছেন তাঁদের তো বাধ্য করা যায় না। মানবপাচার রোধের নামে আসলে যৌনকর্মীদের পেশাটাকেই তুলে দিতে চাইছে কেন্দ্র।’ সেই রেশ টেনেই সর্বজনীন দুর্গাপুজোকে বয়কট করতে চাইছেন পতিতাপল্লির বাসিন্দারা।


সোনগাছি তথা পতিতাপল্লির সংগঠন দুর্বার অবশ্য এবারও নিজেদের পুজো করছে। তবে অতীতে সেই পুজোয় পুলিশের অনুমতি নিয়ে চাপে পড়তে হয়েছিল দুর্বারকে। সেই সময় কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে অনুমতি আদায় করেছিল দুর্বার। এবার নিজেদের পুজোয় বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা ব্যবহার করা হবে তো? জবাবে দুর্বারের সদস্য তথা সোনাগাছির পুরনো বাসিন্দা বিমলা রায় বলেন, ‘এত কাল তো আমাদের মাটি নিয়ে সবার পুজো হয়েছে। এ বার থেকে আমাদের মাটি, আমাদের পুজো। এটাই আমাদের পুজোর থিম বলতে পারেন।’


কিন্তু সত্যিই কি দুর্গাপুজো বেশ্যদ্বার মৃত্তিকা ছাড়া সম্ভব নয়? এর জবাবে পুরোহিত প্রশিক্ষক তথা ‘দুর্গাপুজোর জোগাড়’ বইয়ের লেখক নবকুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘সবাই শুধু বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকার কথা বলে। কিন্তু শাস্ত্র অনুযায়ী একই সঙ্গে পুজোয় রাজদ্বার, সর্বতীর্থ, বৃষশৃঙ্গ, গজদন্তের মৃত্তিকাও লাগে। কিন্তু সে সব তো আর পাওয়া যায় না। গঙ্গামাটিকে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। একান্তই বেশ্যাদ্বার মৃত্তিকা না পাওয়া গেলে সে ক্ষেত্রে প্রতীকী ব্যবহারের অনুমোদন রয়েছে শাস্ত্রে।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status