ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১৭ জুন ২০২৬ ২ আষাঢ় ১৪৩৩
দুই শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আইনজীবী থাকছেন না
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 30 September, 2021, 6:14 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 30 September, 2021, 6:17 PM

দুই শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আইনজীবী থাকছেন না

দুই শিশুকে নিয়ে বাবা-মায়ের লড়াইয়ে আইনজীবী থাকছেন না

দুই শিশুকে নিয়ে বাংলাদেশি বাবা ও জাপানি মায়ের মধ্যে চলা আইনি লড়াইয়ে আর থাকছেন না দেশের প্রখ্যাত আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ। তিনি বাংলাদেশি বাবার পক্ষের আইনজীবী ছিলেন। এখন নিজেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন এই আইনজীবী।

আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ গণমাধ্যমকে জানান, তিনি না করে দিয়েছেন।

শিশুদের মা জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকোর আইনজীবী শিশির মনির জানান, বৃহস্পতিবার এই মামলাটির শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ছিল। তবে আদালতের নির্দেশে বুধবার বিকালে বাবা ও মাকে নিয়ে চূড়ান্ত পর্যায়ে সমঝোতার জন্য বসার কথা ছিল। তবে এরই মধ্যে আইনজীবী রোকন উদ্দিন মাহমুদ এই মামলা থেকে নিজেকে প্রত্যাহার করায় সেই সমঝোতার বৈঠক আর হয়নি।

শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ বলেন, তিনি (রোকন উদ্দিন মাহমুদ) না থাকলে এখন আমার পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার ফিদা এম কামাল।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর এই মামলার শুনানি নিয়ে এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ বাবা-মাকে সমঝোতার জন্য আরেক দফা সময় দেন। এজন্য দুই পক্ষের আইনজীবীকে উদ্যোগ নিতে বলেন। এরপর আদালত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বিষয়টি মূলতবি করেন।

ওইদিনই এরিকোর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, দুই শিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও কল্যাণের কথা চিন্তা করে নাকানো এরিকো ইমরান শরীফের সঙ্গে সংসার করতে চান।

২০০৮ সালের ১১ জুলাই জাপানি নাগরিক নাকানো এরিকো (৪৬) ও বাংলাদেশি আমেরিকান নাগরিক শরীফ ইমরান (৫৮) জাপানি আইন অনুসারে বিয়ে করেন।  বিয়ের পর তারা টোকিওতে বাসবাস শুরু করেন।  ১২ বছরের সংসারে তিনটি কন্যা সন্তান জন্ম নেয়। তারা হলো—জেসমিন মালিকা (১১), লাইলা লিনা (১০) এবং সানিয়া হেনা (৭)। এরিকো পেশায় একজন চিকিৎসক। মালিকা, লিনা ও হেনা টোকিওর চফো সিটিতে অবস্থিত আমেরিকান স্কুল ইন জাপান (এএসআইজে) এর শিক্ষার্থী ছিল। সেখানেই তারা পড়ালেখা করছিল। কিন্তু পারিবারিক বিরোধের জেরে চলতি বছরের ১৮ জানুয়ারি বিয়ে বিচ্ছেদের জন্য জাপানি আদালতে মামলা করেন এরিকো।

এরিকোর আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির সাংবাদিকদের বলেন, তাদের মধ্যে এখনো বিবাহ বিচ্ছেদ হয়নি। যদিও এরিকো বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেছেন কিন্তু সেটি এখনও কার্যকর হয়নি। এখনো নানা ধরনের সমঝোতা করার সুযোগ রয়েছে।

শিশির মনির জানান, কয়েকদিন পর ২১ জানুয়ারি বড় মেয়েকে নিজের সঙ্গে নিতে শরীফ ইমরান স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেন। কিন্তু এরিকোর সম্মতি না থাকায় স্কুল কর্তৃপক্ষ সে আবেদন খারিজ করে দেয়। পরবর্তীতে বড় দুই মেয়েকে স্কুলবাস থেকে নামিয়ে নিজের ভাড়া বাসায় নিয়ে যান ইমরান। এরপর বাচ্চাদের পাসপোর্ট হস্তান্তরের জন্য গত ২৫ জানুয়ারি শরীফ ইমরান আইনজীবীর মাধ্যমে আবেদন করেন। কিন্তু এরিকো তা প্রত্যাখ্যান করেন।

এ অবস্থায় গত ২৮ জানুয়ারি এরিকো টোকিও’র পারিবারিক আদালতে তার বাচ্চাদের জিম্মায় রাখতে মামলা করেন। আদালত শিশুদের সঙ্গে পারিবারিকভাবে সাক্ষাতের আদেশ দেন। পরবর্তীতে গত ৯ ফেব্রুয়ারি ইমরান তার মেয়েদের জন্য নতুন পাসপোর্টের আবেদন করেন এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করেন। এরপর ইমরান বড় মেয়ে দুটিকে নিয়ে গত ২১ ফেব্রুয়ারি দুবাই হয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন।

এদিকে টোকিও’র পারিবারিক আদালত গত ৩১ মে এরিকোর জিম্মায় মেয়ে দুটিকে হস্তান্তরের আদেশ দেয়। এ অবস্থায় গত ১৮ জুলাই এরিকো শ্রীলংকা হয়ে বাংলাদেশে আসেন। এরপর মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের চেষ্টা করেন। ইমরানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ইমরান সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতে অস্বীকৃতি জানান। অবশেষে সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও তা ছিল হৃদয়বিধারক ঘটনা।

গত ২৭ জুলাই এরিকোকে চোখ বেঁধে গুলশান থেকে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নেওয়া হয়। এরপর কোনো একটি বাসায় নিয়ে মেয়েদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়। সাক্ষাত শেষে আবার চোখ বেঁধে একই গাড়িতে করে গুলশানে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ অবস্থায় সন্তান দুটিকে আদালতে হাজির করা এবং নিজের জিম্মায় নেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে বাংলাদেশের হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন মা এরিকো।

এ আবেদনের ওপর শুনানি শেষে গত ১৯ আগস্ট বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ শিশু দুটি ও তাদের বাবার বাংলাদেশ ত্যাগের ওপর এক মাসের নিষেধাজ্ঞা দেন। একইসঙ্গে শিশু দুটিকে আগামী ৩১ আগস্ট হাইকোর্টে হাজির করতে তাদের বাবা শরীফ ইমরান ও ফুফু আমিনা জেবিনকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের আদালতে হাজির নিশ্চিত করতে গুলশান ও আদাবর থানার ওসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

আদালত অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশনার পাশাপাশি রুল জারি করেন। আদালতে রিট আবেদনকারীপক্ষে আইনজীবী ছিলেন মোহাম্মদ শিশির মনির। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিপুল বাগমার।

২২ আগস্ট ১০ ও ১১ বছর বয়সী দুই মেয়েকে হেফাজতে নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।পরে ২৩ আগস্ট জাপানি দুই শিশুকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত তেজগাঁওয়ের ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে উন্নত পরিবেশে রাখার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। এই সময়ের মধ্যে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত জাপানি মা এবং বিকাল ৩টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত বাংলাদেশি বাবা শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাতে পারবেন। ৩১ আগস্ট শিশুদের আদালতে হাজির করার নির্দেশ দিয়ে ওইদিন পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

এরপর ৩১ আগস্ট হাইকোর্ট আদেশ দেন, বাবা-মাসহ রাজধানীর গুলশানের চার কক্ষবিশিষ্ট একটি বাসায় থাকবে জাপানি দুই শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা। সেখানে তারা আপাতত ১৫ দিন থাকবে। ফ্ল্যাটের ভাড়া উভয়পক্ষ বহন করবে।

গত ১৬ সেপ্টেম্বর জাপানি শিশুদের নিয়ে বাবা-মাকে সমঝোতার বিষয়ে উভয়পক্ষের আইনজীবীদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ। এক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদকে মুরুব্বির ভূমিকা পালন করতে বলেছিলেন। আদালত বলেছিলেন, শিশুদের নিয়ে সুন্দর সমাধান হলে তাদের ভবিষ্যতও ভালো হয়, দেশের ভাবমূর্তিও উজ্জ্বল হয়। এতে দেশ-বিদেশ সবার জন্য ভালো হবে। ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই মামলা মুলতবি করেছিলেন আদালত। এ সময়ে পর্যায়ক্রমে গুলশানের বাসায় একদিন করে মা ও একদিন করে বাবা শিশুদের সঙ্গে থাকার কথা বলা হয়।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status