|
সুনামগঞ্জে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা
মাইনুল হক, সুনামগঞ্জ
|
![]() সুনামগঞ্জে গলায় ফাঁস লাগিয়ে গৃহবধূকে হত্যার চেষ্টা বিয়ের পর থেকে শুরু হয় শশুর বাড়ির লোকজন কর্তৃক পিয়ালী বেগমের উপর যৌতুকের জন্য শারিরিক নির্যাতন। বার বার শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়ে নিরবে সহ্য করে সংসার করে চলছে অসহায় মেয়েটি। বাবা দিন মজুর হওয়ায় যৌতুক দিতে নাপাড়ায় দিনের পর দিন অমানবিক অত্যাচার শুরু হয় মেয়েটির উপর। বর্তমানে মেয়েটির ১বছর বয়সি একটি কণ্যা সন্তান রয়েছে। শিশু সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে শশুর বাড়ির লোকজনের অত্যাচার সহ্য করে সংসার করতে থাকে গৃহবধূ পিয়ালী বেগম। কিন্তু শশুর কাসেম, ননদ জুমা বেগম, ফুফুশাশুরি আয়শা বেগম, মামা শশুর হামিদ, দেবর শিপন, শাশুড়ি ঋণা বেগম, ভাশুরের স্ত্রী ও স্বামী রিপন মিয়া মিলে গৃহ-বধুঁ পিয়ালী বেগমকে শারিরীক নির্যাতন করতে থাকে। অবশেষে গত ২৯ সেপ্টেম্বর বিকেলে পরিকল্পিত ভাবে গলায় ফাসঁ লাগিয়ে মেরে ফেলার জন্য পরিল্পনা করে মারধর শুরু করে । গৃহবধূর বাবার বাড়ি পাশাপাশি হওয়া পিয়ালী বেগমের মা মেয়েকে দেখতে গেলে শশুর বাড়ির লোকজন ঘরে প্রবেশ করতে না দিয়ে ফিরিয়ে দেয়। এসময় পিয়ালী বেগমের চিৎকার শুনতে পান মেয়ের মা। শশুর বাড়ির লোকেরা পিয়ালী বেগমের মাকে মারধর করতে এগিয়ে আসলে তিনি নিজ বাড়িতে চলে আসেন । অপর দিকে গৃহবধূকে গলায় ফাসঁ লাগিয়ে মেরে ফেলার জন্য গলায় ওড়না পেছিয়ে মারধর করে শশুর বাড়ির লোকেরা। গৃহবধূ পিয়ালী বেগমের গলায় প্রচন্ড আঘাতের কারনে কথা বলার ভারসাম্য হারিয়ে পেলে গুরুতর আহত হয় সে। কোন রকম প্রাণে বাচাঁর জন্য ছোটাছুটি করে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে গৃহবধূ আশ্রয়নেয় শশুর বাড়ির আত্তিয় এক সাংবাদিকের ঘরে। সেখানে গিয়েও রেহায় নেই, মেয়েটিকে ঘর বন্ধি করে মারধর করতে থাকে শশুর বাড়ির লোকেরা। এদিকে খবর পেয়ে মেয়েটির স্বজনরা গিয়ে মেয়েটিকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এসময় সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মো: সহিদুর রহমানকে বিষয়টি মোবাইল ফোনে জানালে তাৎক্ষনিক পুলিশ সদস্যরা হাসপাতালে মেয়েটিকে দেখতে যান এবং জিজ্ঞাসা করেন কিন্তু মেয়েটির গলায় পচন্ড আঘাতের কারনে কথা বলার ভারসাম্য হারিয়ে পেলে। একটি কাগজে লিখে পুলিশকে তার উপর অত্যাচার ও মেরে ফেলার পরিকল্পনার বর্ণনা দেয় মেয়েটি। পুলিশ সদস্যরা তার স্বজনদের থানায় মামলা দায়ের ও চিৎিসার পরামর্শ দেন। মেয়েটি বর্তমানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন। নির্যাতিত গৃহবধূর স্বজনরা চিকিৎসা শেষে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
