বাংলাদেশে এবছরে বর্ষা মৌসুমে ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে বাজারে ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে বেশ কমে গেছে। ইলিশের বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে এবং ইলিশ যেন তার জীবনচক্র সম্পন্ন করতে পারে, তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের নেয়া নানা পদক্ষেপের কারণেই গত কয়েকবছরে ধারাবাহিকভাবে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এবছরের ২০শে মে থেকে ২৩শে জুলাই পর্যন্ত ৬৫ দিন ইলিশ ধরায় নিষেধাজ্ঞা ছিল জেলেদের ওপর। দীর্ঘ বিরতির পর মাছ ধরা শুরু হলে বিপুল পরিমাণে ইলিশ ধরা পড়তে থাকে জেলেদের জালে।
সেই ধারাবাহিকতায় বাজারে ইলিশের যোগান বাড়ার সাথে সাথে দামও তুলনামূলকভাবে কমতে থাকে। গত কয়েকমাস ধরে বাংলাদেশের প্রায় সব জায়গাতেই গত কয়েক বছরের তুলনায় কম দামে ইলিশ পাওয়া গেছে।
মৎস্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী গত এক দশকে বাংলাদেশে ইলিশের উৎপাদন প্রায় তিন গুণ হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান ধারণা করছেন যে, ইলিশ সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গত কয়েকবছর নেয়া পদক্ষেপগুলো আগামীতেও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে এবং দামও কম থাকবে।
বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষাকালকে ইলিশের মৌসুম হিসেবে মনে করা হয়। অন্যান্য বছরের বর্ষাকালের তুলনায় এবছর ইলিশের উৎপাদন ও আহরণ বেশি হওয়ায় মাছের দামও অন্যান্য বছরের চেয়ে তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
ইলিশ গবেষক আনিসুর রহমান মনে করছেন ইলিশের এই কম দাম পুরো অক্টোবর মাস পর্যন্ত উপভোগ করতে পারবে মানুষ।
"সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ইলিশের জন্য ''হাই টাইম'' হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সময় সাগর থেকে মোহনা বেয়ে ডিম পাড়া ও খাদ্য গ্রহণের উদ্দেশ্যে বড় নদীর দিকে যাওয়া আসা করে ইলিশ। কাজেই এই সময়ে ইলিশ ধরাও পড়ে অনেক।"
তবে অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশের দাম কমের দিকে থাকলেও নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ে ইলিশের দাম বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান আনিসুর রহমান।
"নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষের দিকে ইলিশ কমে যায়। সে সময় ইলিশ কম ধরা পরে, তাই স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়।