ফেনীর সোনাগাজীতে গৃহবধূকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে সৎ মামাসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ চরছান্দিয়া গ্রাম থেকে অভিযুক্ত মামা মো. হারুন ও তার সহযোগী মাসুমকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তার হারুন ওই গ্রামের সিরাজুল ইসলাম ও মাসুম একই গ্রামের কোরবান আলীর ছেলে। তারা পরস্পরের আত্মীয়। এর আগে শুক্রবার বিকালে ধর্ষণের শিকার ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে মামাসহ তিনজনের বিরদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা আইনে সোনাগাজী মডেল থানায় দায়ের করেন।
মামলার এজহার ও পুলিশ সুত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই নারীর স্বামীর বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। গত শুক্রবার স্বামীর সঙ্গে তার ঝগড়া হয়। এরপর ওই নারীকে তার স্বামী সোনাগাজী উপজেলার চরছান্দিয়া গ্রামের তার নানার বাড়িতে রেখে যান। বিষয়টি জানতে পেরে গত ২৪ এপ্রিল বিকেলে হারুন বিরোধ মীমাংসা করে দিতে ভাগ্নিকে নিয়ে নানা বাড়ি থেকে কোম্পানীগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা দেন। কিন্তু সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় হারুন তার শ্বশুর বাড়িতে ওই নারীকে রেখে দেন। ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যায় মাসুম ও হৃদয় নামে তার দুই সহযোগী হারুনের শ্বশুর বাড়িতে যান।
এরপর হারুন ভাগ্নিকে তার স্বামীর সঙ্গে কথা হয়েছে বলে ওই নারীকে স্বামীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য তৈরি হতে বলেন। রাত আটটার দিকে ওই নারীকে নিয়ে হারুনসহ তিনজন অটোরিকশায় করে রওনা হন। কিছু দূর যাওয়ার পর তারা ওড়না দিয়ে ওই নারীর হাত-পা, চোখ বেঁধে এবং মুখ চেপে ধরে সোনাগাজী উপজেলার দক্ষিণ চর চান্দিয়া এলাকার একটি পুকুর পাড়ে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় নির্যাতনের শিকার নারী জ্ঞান হারিয়ে ফেললে তারা আবার তাকে গাড়িতে করে হারুনের শ্বশুর বাড়িতে নিয়ে যান। পথে ওই গৃহবধূর জ্ঞান ফিরলে ঘটনাটি কাউকে জানালে তাকে ও তার স্বামীকে হত্যার হুমকি দেন ধর্ষকরা। পরদিন সকালে গৃহবধূর স্বামী ঘটনা জানতে পেরে ওই নারীকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত মামা হারুন ও তার সহযোগী মাসুমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আরেক আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, শুক্রবার রাতেই ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে ধর্ষণের শিকার গৃহবধূর শারিরীক পরীক্ষার পর তাকে স্বামীর জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।