মানুষ মরণশীল। একদিন না একদিন তাকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতেই হবে। এখন পর্যন্ত কেউই মৃত্যুকে জয় করতে পারেনি। তবে ‘দ্য ডেথ অফ ডেথ’ এমন একটি বই যেখানে দেয়া আছে কিছু অদ্ভুত তথ্য। বইটিতে দাবি করা হয়েছে যে মানুষ হবে মৃত্যুঞ্জয়ী। নিজ ইচ্ছা ছাড়া তারা কখনোই মারা যাবে না। ঠিক মহাভারতের ‘পিতামহ ভীষ্ম’-এর মতো আমরাও ‘ইচ্ছামৃত্যু’র বর পাব?
নিশ্চয়ই অবাক হয়েছেন এই তথ্য শুনে! অবাক হওয়ারই কথা। তবে ম্যাসাচুসেট্স ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি (এমআইটি)-র জেনেটিক্সের অধ্যাপক জোসে লুই কর্দেইরো ও কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিতের অধ্যাপক ও জিনতত্ত্ববিদ ডেভিড উড এমনটাই দাবি করেছেন। তাও যুক্তি দেখিয়ে।
তবে কোনো আন্তর্জাতিক বিজ্ঞান-জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে নয়, কর্দেইরো ও উড এই দাবি করেছেন তাদের প্রকাশিতব্য বই ‘দ্য ডেথ অফ ডেথ’-এ। বইটি ইংরেজি ছাড়াও ছাপা হচ্ছে স্প্যানিশ, পর্তুগিজ ও কোরীয় ভাষায়, শীঘ্রই।
তাদের বইয়ে এই দুই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ার দাবি করেছেন, ২০৪৫ সাল নাগাদ মানুষ (যার প্রজাতির নাম- হোমো সাপিয়েন্স সাপিয়েন্স) আর কোনো প্রাকৃতিক কারণে বা রোগে ভুগে মারা যাবে না। সব রকমের স্বাভাবিক মৃত্যুকে পুরোপুরি জয় করে ফেলবে মানুষ। জন্মের মতো মৃত্যুটাও আর স্বাভাবিক থাকবে না। বার্ধক্য বলতে তখন মানুষ বুঝবে রোগ। আর সেই রোগ সারিয়ে মানুষকে বার্ধক্য থেকে ফের ‘যৌবন’-এ ফেরানো যাবে।
‘দ্য ডেথ অফ ডেথ’
‘দ্য ডেথ অফ ডেথ’ স্পেনের বার্সিলোনায় ইকোয়েস্ট্রিয়ান সার্কেল-এ তাদের এই দাবির সপক্ষে বলতে গিয়ে কর্দেইরো ও উড জানিয়েছেন, জিনের ওপর মানুষের ‘দাদাগিরি’-ই এই অসম্ভবকে সম্ভব করে তুলবে। এই অবিশ্বাস্যকে করে তুলবে আক্ষরিক অর্থেই, বিশ্বাসযোগ্য। যে পদ্ধতিকে বিজ্ঞানের পরিভাষায় বলে, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং।
কী কী করা যাবে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে?
তাদের মতে, তালিকাটা এতই লম্বা যে, কী করা যাবে না বললে কাজটা খুব সহজে হয়ে যায়! শিশুদের মধ্যেও যেমন ‘ভালো’ আর ‘দুষ্টু’রা থাকে, জিনের মধ্যেও থাকে তেমনটাই। সেই দুষ্টু শিশুকে আমরা যেমন বকেঝকে, শাসন করে ধীরে ধীরে ভালো করে তুলি, ঠিক তেমনই ‘দুষ্টু’ জিন (গুলো)-কেও আমরা ‘ভালো’, আমাদের পক্ষে ‘উপকারী’ করে তুলতে পারি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মাধ্যমে। জিনের প্রযুক্তির জাদুতেই মরে যাওয়া কোষ, কলা (কোষের দল বা সমষ্টি, যাকে বলে টিস্যু)-গুলোকে আমাদের শরীর থেকে বের করে আনতে পারি।
তারা আরো বলেন, মৃতকে কি কেউ দেহে পুষে রাখতে চায়? শরীরের যে কোষগুলো বিগড়ে গিয়েছে, যে ভাবে চলা উচিত, ঠিক সেই ভাবে চলছে না, বরং আমাদের বিভিন্ন শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়াকে বাধা দিচ্ছে, তাদের সঙ্গে অসহযোগিতা করছে। সেই ‘মাথা বিগড়ে যাওয়া’ কোষগুলোকে আমরা জিনের প্রযুক্তি দিয়েই সারিয়ে তুলতে পারি। জিনের প্রযুক্তিটা সেক্ষেত্রে যেন একটা ‘সংশোধনাগার’! বিগড়ে যাওয়া, বখে যাওয়া কোষগুলোকে ‘সুস্থ, সামাজিক স্রোত’-এ ফিরিয়ে এনে স্বাভাবিক করে তুলছে। স্টেম সেল দিয়ে শরীরের বিভিন্ন রোগজীর্ণ অংশ ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোকে অনায়াসে সারিয়ে ফেলতে পারি। হৃদপিণ্ড, কিডনি, ফুসফুস, পাকস্থলী, অগ্ন্যাশয়ের মতো দেহের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোকে ‘খেলতে খেলতে’ বদলে দিতে পারি, নতুন নতুন তরতাজা ‘থ্রি-ডি প্রিন্টেড’ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ দিয়ে।
এই দুই জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারের মধ্যে একজন কর্দেইরো বলে দিয়েছেন, ‘ঠিক করেই ফেলেছি, আমি মরব না।’ এও বলেছেন, ৩০ বছর পর তো আর মরার কথাটাই ভাবব না।