বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ভোগের ফলে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পলাতক ধর্ষক
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 31 October, 2019, 6:16 PM
বুদ্ধি প্রতিবন্ধীকে ভোগের ফলে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা, পলাতক ধর্ষক
যশোরের মণিরামপুর উপজেলায় এক বুদ্ধি প্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে ভগিরথ বিশ্বাস (৪৫) নামে এক ঘের ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। অভিযোগ করা হচ্ছে, স্ত্রীর সহায়তায় তিনি তাকে ধর্ষণ করেন। ধর্ষণের ফলে ১৩ বছর বয়সের ওই কিশোরী চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভগিরথ এলাকা ছেড়ে পালিয়েছেন।
ভগিরথ উপজেলার কপালিয়া রাজবংশীপাড়ার মৃত রঞ্জন বিশ্বাসের ছেলে। আর মেয়েটি পাশের অভয়নগর উপজেলার একটি গ্রামের। সে স্থানীয় একটি প্রতিবন্ধী স্কুলের ছাত্রী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার কিশোরীর বাবা বেঁচে নেই। তার মাও বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। ভগিরথ তার প্রতিবেশী ও সম্পর্কে কাকা। ভগিরথের স্ত্রী ময়না বিশ্বাস প্রায়ই মাছ-তরকারি দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে আসতো তাকে। স্ত্রীর সহায়তায় ভগিরথ ওই কিশোরীকে নিজের ঘর ও ঘেরপাড়ে টং ঘরে নিয়ে একাধিকবার ধর্ষণ করে। এতে ওই কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
কিশোরীর এক কাকি বলেন, ‘কয়েকদিন ধরে মেয়েটি খাওয়ার পর বমি করছিল। আমাদের সন্দেহ হলে প্রাথমিক টেস্ট করে জানতে পারি, সে অন্তঃসত্ত্বা। চলতি মাসের ১২ তারিখ তাকে খুলনায় একটি ক্লিনিকে নিয়ে পরীক্ষা করালে সে চার মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানান ডাক্তার। লোকলজ্জায় আর মেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে তার পেটের বাচ্চা নষ্ট করা হয়েছে।’
এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে দুই পক্ষ ঘরোয়াভাবে বৈঠকে বসে। সেখানে মেয়েটিকে এক লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। পরে টাকা না দিয়ে ভগিরথ বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যান। সহায়-সম্বলহীন হওয়ায় এই ঘটনায় পরিবারটি মামলা করতে পারছে না বলে স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে। পলাতক থাকায় অভিযোগের বিষয়ে ভগিরথের বক্তব্য জানা যায়নি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য কার্তিক বিশ্বাস বলেন, ‘ঘটনাটি সত্য। কিন্তু ভগিরথ আগে মণিরামপুরের লোক হলেও গত ৭-৮ বছর ধরে অভয়নগর উপজেলার বাসিন্দা সে। তাই বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাইনি।’
তবে মনোহরপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জাহিদ হাসান বলেন, ‘ভগিরথ মনোহরপুর ইউনিয়নের ভোটার। প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনাটি সত্য। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হবে।
মনোহরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। মণিরামপুর থানার ইনসপেক্টর (তদন্ত) শিকদার মতিয়ার রহমান বলেন, এমন কোনো ঘটনা থানায় কেউ জানায়নি।