ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ আশ্বিন ১৪৩৩
ডাকাতির সময় কারাগারে ছিলেন, তবু আসামি হয়ে ১০ বছর মামলায় হাজিরা
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Thursday, 17 September, 2026, 7:43 PM
সর্বশেষ আপডেট: Thursday, 17 September, 2026, 7:59 PM

ডাকাতির সময় কারাগারে ছিলেন, তবু আসামি হয়ে ১০ বছর মামলায় হাজিরা

ডাকাতির সময় কারাগারে ছিলেন, তবু আসামি হয়ে ১০ বছর মামলায় হাজিরা

বাসে ডাকাতি মামলার আসামি ইমরান হোসেন। তবে ওই ঘটনা যখন ঘটেছে, তখন তিনি কারাগারে ছিলেন। বিষয়টি জানানোর পরও পুলিশ তাঁকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। ১০ বছর ধরে ওই মামলায় তাঁকে হাজিরা দিতে হচ্ছে।

ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন (৩২) নাটোর সদর উপজেলার পাইকেরদৌল গ্রামের ইউনুছ আলীর ছেলে। তিনি এলাকায় সেচপাম্প চালান। অর্থের বিনিময়ে কৃষকদের সেচের সুবিধা দেন। ওই মামলা থেকে অব্যাহতি ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে ইমরান গত ২০ জুলাই পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি বরাবর অভিযোগ করেছেন।

ইমরান হোসেনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) উদয় কুমার সাহাকে প্রধান করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ সম্পর্কে পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ বলেন, অভিযোগটি নাটোর সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আদালতের নথি ও ওই লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ইমরান হোসেন ২০১৬ সালের ২১ সেপ্টেম্বর রাজশাহীর দায়রা জজ আদালতে একটি অস্ত্র মামলায় আত্মসমর্পণ করেন। আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে কারাগারে পাঠান। ওই বছরের ২২ নভেম্বর তিনি জামিনে মুক্ত হয়ে বাড়ি আসেন। ২০১৭ সালের ১৯ জুলাই নাটোর সদর থানার তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) এস এম আবু সাদাদ ডাকাতির মামলায় ইমরানকে গ্রেপ্তার করেন। ২০১৬ সালের ৪ নভেম্বর একটি বাসে ওই ডাকাতির ঘটনা ঘটে। অর্থাৎ ওই সময় ইমরান কারাগারে ছিলেন। আদালতে এ–বিষয়ক নথিপত্র উপস্থাপনের পর ইমরান জামিনে মুক্তি পান।

তবে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নাটোর সদর থানার তৎকালীন এসআই আলী আকবর প্রায় দুই বছর তদন্ত শেষে ইমরান হোসেনসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দেন।

আলী আকবর বর্তমানে বগুড়ার পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পরিদর্শক পদে কর্মরত। গতকাল বুধবার মুঠোফোনে তিনি  বলেন, ‘তদন্তকালে আসামি ইমরান হোসেন তাঁর বন্দিদশার কথা আমাকে জানাননি।’ ঘটনার সময় কারাগারে থাকলে কিসের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অনেক দিন আগের ঘটনা। এখন মনে নেই।

তবে ইমরান হোসেনের ভাষ্য, ডাকাতির ঘটনার সময় তিনি কারাবন্দী থাকার কথা তদন্তকারী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন। ওই বিষয়ক কাগজপত্র জমা দিয়ে তিনি জামিন পেয়েছেন। তারপরও তদন্তকারী কর্মকর্তা কিসের ভিত্তিতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিলেন, তা বোধগম্য নয়।

ইমরান হোসেন বলেন, ‘মামলাটি এখনো চলমান। ১০ বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিচ্ছি, টাকা খরচ হচ্ছে।’ তিনি আক্ষেপ করে বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই দাদি আনোয়ারা বিবির কাছে বড় হয়েছি। মিথ্যা মামলায় আমাকে গ্রেপ্তার করার শোকে এক দিন পরই তিনি স্ট্রোক করে মারা যান। দাদির মরা মুখটাও দেখতে পারিনি।’

ডাকাতি মামলায় ইমরান হোসেনের আইনজীবী রবিউল হোসেন জানান, বর্তমানে মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে। সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে তাঁর মক্কেল নিশ্চিত খালাস পাবেন। তবে তাঁর মানবেতর জীবনযাপনের জন্য কর্মকর্তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status