|
চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা: এজাহারভুক্ত ১২ আসামি গ্রেপ্তার
মো.মোক্তার হোসেন বাবু, চট্টগ্রাম
|
![]() চট্টগ্রামে সাতকানিয়ায় ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা: এজাহারভুক্ত ১২ আসামি গ্রেপ্তার বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ কর্মকর্তারা। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন-জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ। পুলিশের ভাষ্য, গত ৩০ আগস্ট রাতে পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম বাদী হয়ে ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে আরও পাঁচ থেকে ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে জেলা পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাতে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুনহাট এলাকায় জাহেদুলকে মারধর করে একটি ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগসংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদুলের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। পুলিশ বলছে, মামলার আসামি জয়নাল আবেদীন মানিক ওই ভিডিওটি প্রকাশ করেছিলেন। এ নিয়ে জাহেদুল মানিক ও তার সহযোগীদের হুমকি দিয়েছিলেন বলেও পুলিশের দাবি। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত ১০টার দিকে মো. ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাচ্ছিলেন জাহেদুল। ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। হামলায় ওয়াহিদও আহত হন। পুলিশের তথ্যমতে, হত্যাকাণ্ডের পর আসামিদের কয়েকজন চট্টগ্রামের বাইরে ও ঢাকায় আত্মগোপনে চলে যান। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে প্রথমে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া জবানবন্দি, গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও ব্যক্তিদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম বলেন, ‘পিচ্চি জাহিদ হত্যা মামলাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে মামলার এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া ১৬৪ ধারার জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’ |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
