ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ৩০ আগস্ট ২০২৬ ১৫ ভাদ্র ১৪৩৩
নেপালে ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে কী? বেরিয়ে এলো ১০০ কিমির ধ্বংসযজ্ঞের রহস্য
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Sunday, 30 August, 2026, 11:40 AM

নেপালে ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে কী? বেরিয়ে এলো ১০০ কিমির ধ্বংসযজ্ঞের রহস্য

নেপালে ভয়াবহ বন্যার নেপথ্যে কী? বেরিয়ে এলো ১০০ কিমির ধ্বংসযজ্ঞের রহস্য

২৬ আগস্ট সকাল। চীন-নেপাল সীমান্তের কাছে হিমালয়ের ৫ হাজার মিটারের বেশি উচ্চতায় শুরু হয় এক ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়। শনাক্ত হয় ভূকম্পন। পাহাড় থেকে নেমে আসে বরফ। সঙ্গে পাথর, কাদা ও বিপুল পরিমাণ পানি।

প্রথমে এটিকে ৪ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্প মনে করা হলেও পরে যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানায়, কম্পনটি সম্ভবত নেপালের লাংটাং ন্যাশনাল পার্কে হিমবাহ-জড়িত একটি বিশাল ভূমিধসের কারণে সৃষ্টি হয়েছিল।

তবে ভারতের রিমোট সেনসিং সেন্টারের প্রাথমিক বিশ্লেষণ বলছে, ৪ দশমিক ৯ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হিমবাহ ধসের সূত্রপাত ঘটাতে পারে। অর্থাৎ, এই বিপর্যয়ের মূল কারণ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে এখনও মতভেদ রয়েছে।

কিন্তু এরপর যা ঘটে, তা ছিল ভয়াবহ।

পাহাড় থেকে নেমে আসা বিশাল ধ্বংসাবশেষ একটি নদীর প্রবাহ আটকে দেয়। পরে সেই পানি বাধ ভেঙে প্রবল বেগে ছুটে যায়। প্রথমে ধ্বংস হয় চীনের সীমান্তবর্তী গিয়েরং বন্দর। এরপর ভয়াবহ ঢল প্রবেশ করে নেপালে।

লহেন্দে খোলা, ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী দিয়ে পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ প্রায় ১০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়। ভয়ংকর বিষয় হলো—নেপালের ত্রিশূলী নদীর পানির উচ্চতা মাত্র ৩০ মিনিটে প্রায় ৯ মিটার বেড়ে যায়।

প্রথম ২২ কিলোমিটার পথ এই ভয়াবহ ঢল গড়ে ঘণ্টায় প্রায় ১৯৩ কিলোমিটার গতিতে অতিক্রম করে বলে বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ। এতে নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিংসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হয়। বন্ধ হয়ে যায় ১০টিরও বেশি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প, যা নেপালের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার ১২ শতাংশেরও বেশি। এই ভয়াবহ স্রোতকে অনেকটা স্থলভাগের সুনামি বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

পরে ত্রিশূলী নদীর পানি নারায়ণী নদী হয়ে ভারতে প্রবেশ করে। বিহারের গান্ডাক ব্যারেজে পানির প্রবাহ একপর্যায়ে বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কিউসেক। পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যারেজের ৩৬টি গেটই খুলে দেওয়া হয়।

তবে বিপদ এখনও পুরোপুরি কাটেনি। চীন জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে নতুন একটি হ্রদ তৈরি হয়েছে, যেটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে। সেটি ভেঙে গেলে আবারও বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে ভারতের গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, উত্তরপ্রদেশেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সেখানে নদী থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, যেগুলো নেপাল থেকে ভেসে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি পাহাড়ি ধস থেকে শুরু হওয়া এই বিপর্যয় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দূরের নেপাল ও ভারতের বিস্তীর্ণ এলাকায় ভয়াবহ প্রভাব ফেলেছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status