ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২০ আগস্ট ২০২৬ ৫ ভাদ্র ১৪৩৩
৮০০ ইলেকট্রিক বাস কিনবে সরকার, বাড়বে নারীদের ‘গোলাপি বাস’
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 20 August, 2026, 10:43 AM

৮০০ ইলেকট্রিক বাস কিনবে সরকার, বাড়বে নারীদের ‘গোলাপি বাস’

৮০০ ইলেকট্রিক বাস কিনবে সরকার, বাড়বে নারীদের ‘গোলাপি বাস’

নারীদের নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ যাতায়াত নিশ্চিত করতে ঢাকাসহ তিন জেলায় ‘গোলাপি বাস’ সেবা চালু করেছে সরকার। ভবিষ্যতে সম্পূর্ণ নারী পরিচালিত এ সেবার পরিসর বাড়াতে পরিবেশবান্ধব বাস কেনার পরিকল্পনা চলছে। খোঁজা হচ্ছে তিন হাজার ৫৪৬ কোটি টাকার বৈদেশিক ঋণ।

দুটি আলাদা প্রকল্পের আওতায় মোট ৮০০ এসি সিঙ্গেল ডেকার ইলেকট্রিক এসি বাস কেনা হবে। যার মধ্যে কিছু বাস ব্যবহার হবে ‘গোলাপি বাস’ সেবার জন্য। এতে বাড়বে গোলাপি বাসের রুট, সংখ্যা ও পরিসর। বাকিগুলো পরিবেশবান্ধব নাগরিক সেবায় কাজে লাগাবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)।

ঋণের চাহিদা মেটাতে সম্ভাব্য উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়া ও চীনকে বিবেচনা করা হচ্ছে। দুটি প্রকল্পের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে চার হাজার ৫৮৩ কোটি ৭০ লাখ টাকা। বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) একাধিক সূত্র জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করে।

আমরা পর্যায়ক্রমে এক হাজার বাস কিনবো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পিংক সিটি সার্ভিসের পরিষেবা আরও বাড়বে।-বিআরটিসির পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) পরিচালক (প্রশাসন ও অপারেশন) মো. রাহেনুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা পর্যায়ক্রমে এক হাজার বাস কিনবো। এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে পিংক সিটি সার্ভিসের পরিষেবা আরও বাড়বে।’

তবে চীন থেকে ৫শ ও দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি রাহেনুল ইসলাম।

নারীদের নিরাপদ যাতায়াতে রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ায় মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) থেকে  চলাচল করছে গোলাপি রঙের ‘মহিলা বাস’। বাসগুলোর মধ্যে ডাবল ডেকার বেশি। এগুলোতে এসি নেই।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ‘প্রকিউরমেন্ট অব ইলেকট্রিক সিঙ্গেল ডেকার ৩০০ এসি বাস ফর বিআরটিসি’ প্রকল্পের আওতায় বাসগুলো কেনা হবে। এ প্রকল্পের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে ঋণ দুই হাজার ৯ কোটি এবং বাকি ৭০৩ কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে মেটানো হবে। বাসগুলো কেনা হবে চলতি সময় থেকে জুন ২০৩০ মেয়াদে। প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুমোদন করেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়।

অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী দক্ষিণ কোরিয়ান বাসের বিষয়ে ইতিবাচক। এজন্য তিনি প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (পিডিপিপি) সই করেছেন। প্রকল্প ঋণের উৎস হিসেবে দক্ষিণ কোরিয়ান অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিলকে (ইডিসিএফ) নির্ধারণ করেছে সরকার। ইডিসিএফ থেকে ঋণ পেতে এরই মধ্যে ইআরডির মাধ্যমে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

আরও ৫০০ বাস কেনারও পরিকল্পনা করছে সরকার। এ খাতে ব্যয় হবে এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। তবে এ প্রকল্পের প্রাথমিক উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) সই করেননি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী। তিনি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগে প্রকল্পটি ফেরত পাঠিয়েছেন আরও যাচাই-বাছাই করার জন্য। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

চীনা বাসগুলো কতদিন সার্ভিস দেবে, ঋণে সুদের হার কত হবে, বাসগুলোর পার্টস নষ্ট হলে কীভাবে সংগ্রহ করা হবে- ইত্যাদি বিষয় যাচাই-বাছাই করে পুনরায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জাগো নিউজকে বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনার বিষয়ে পিডিপিপি অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী অনুমোদন করেছেন। তবে চীনের বিষয়ে আরও যাচাই-বাছাই হচ্ছে

৩০০ বাস কিনতে দরকার ২ হাজার ৯ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ
৩০০টি একতলা ইলেকট্রিক বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন প্রাপ্তির বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) বরাবর চিঠি দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। এই চিঠি চলতি মাসে দক্ষিণ কোরিয়া বরাবর পাঠিয়েছে ইআরডি। প্রকল্পের মোট সম্ভাব্য ব্যয় দুই হাজার ৭১৩ কোটি ১৯ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৭০৩ কোটি ৪২ লাখ টাকা বাকি বৈদেশিক ঋণ দরকার ২ হাজার ৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা হবে। ঋণের বিষয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ায় চিঠি পাঠিয়েছি।-ইআরডির উপসচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) আইরিন পারভীন

ইআরডির উপসচিব (এশিয়া, জেইসি ও এফঅ্যান্ডএফ) আইরিন পারভীন জাগো নিউজকে বলেন, ‘দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩শ বাস কেনা হবে। ঋণের বিষয়ে আমরা দক্ষিণ কোরিয়ায় চিঠি পাঠিয়েছি।’

উদ্দেশ্য
আন্তঃনগরের নির্ভরযোগ্য ও আরামদায়ক গণপরিবহন সুবিধা বাড়ানো, আধুনিক প্রযুক্তিগত পরিবহন ব্যবস্থায় প্রবেশ, বিআরটিসি বহর থেকে পুরোনো বাস প্রতিস্থাপন, শহরে যানজট ও পরিবেশ দূষণ কমানো এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করা।

প্রধান কার্যক্রম
৩শ ইলেকট্রিক ভেহিক্যাল (সিঙ্গেল ডেকার এসি বাস) কেনা খাতে এক হাজার ৩৮৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে। মোট ব্যয়ের ১৫ শতাংশ ধরা হয়েছে ইভির স্পেয়ার পার্টসে, এ খাতে ২০৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে। ২৫টি ইলেক্ট্রিক চার্জিং স্টেশন (ইসিএস) খাতে ব্যয় রাখা হয়েছে ৯২ কোটি ২৫ লাখ টাকা।

ইসিএস স্পেয়ার পার্টস খাতে রাখা হয়েছে ১৩ কোটি ৮৪ লাখ টাকা। ২৫টি জেনারেটর ও ট্রান্সফরমার কিনতে ২৬ কোটি ১৪ লাখ, ২০টি ইভির ওয়ার্কিং শেড খাতে ১২ কোটি ৩০ লাখ, তিনটি স্পেয়ার পার্টসের ওয়্যারহাউজ (গুদামঘর) খাতে তিন কোটি ৬৯ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

নীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ থাকবে তিনটি। এ খাতে ব্যয় ৫ কোটি ৫৪ লাখ। ২০টি ওয়াশিং প্ল্যান্ট খাতে ৩৬ কোটি ৯০ লাখ, ভিডিও মনিটরিং সিস্টেমসহ (ভেতর ও বাইরের দৃশ্য) বিল্ট-ইন সফটওয়্যারভিত্তিক ভিটিএস (ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম) খাতে ১০ কোটি, চার্জিং স্টেশন/যানবাহনের গ্যারেজের জন্য সিভিল ওয়ার্কস/অবকাঠামো/গ্যারেজ ও চার্জিং স্টেশন উভয়ের সংলগ্ন সেন্সরভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা (জরুরি অবস্থার জন্য) থাকবে ২০টি, এ খাতে মোট ব্যয় হবে ১২৩ কোটি টাকা।

২৫ টনের ২৫টি রেকার কিনতে ৩৯ কোটি ৩৬ লাখ, ২০টি জেনারেটরসহ ভেহিক্যাল মাউন্টেড পোর্টেবল চার্জার কিনতে ৪৯ কোটি ২০ লাখ এবং বৈদেশিক ও স্থানীয় প্রশিক্ষণ খাতে চার কোটি টাকা ব্যয় রাখা হয়েছে।

চীন থেকে ৫০০ বাস কেনার পরিকল্পনা
বিআরটিসির জন্য ৫০০টি একতলা বৈদ্যুতিক এসি বাস সংগ্রহের জন্য বৈদেশিক অর্থায়ন পেতে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ পিডিপিপি প্রস্তাব পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে। তবে এ প্রকল্পের পিডিপিপিতে পরিকল্পনামন্ত্রী সই করেননি। যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

পিডিপিপিতে প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয় এক হাজার ৮৭০ কোটি ৫১ লাখ টাকা। প্রকল্পে সরকারি অর্থায়ন ৩৩৩ কোটি ও প্রকল্প ঋণ হিসেবে চীন থেকে এক হাজার ৫৩৭ কোটি টাকা বৈদেশিক ঋণ পাওয়ার সম্ভাব্য উৎস হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার। বাস কেনার বাস্তবায়নকাল ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৯ পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে।

চীনের বাস কেনার উদ্দেশ্য
বায়ুদূষণ ও গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমন কমাতে প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের পরিবর্তে শূন্য কার্বন নিঃসরণকারী বৈদ্যুতিক এসি বাস চালু করা, যাত্রীদের জন্য নিরাপদ, আধুনিক, শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং আরামদায়ক পরিবহন সেবা নিশ্চিত করা, প্রচলিত ডিজেলচালিত বাসের তুলনায় বৈদ্যুতিক বাসের জ্বালানি ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় হ্রাস তথা পরিচালন ব্যয় কমানো।

গোলাপি বাসের জানালায় বদলের স্বপ্ন
এছাড়া ন্যাশনালি ডিটারমাইন্ড কন্ট্রিবিউশন, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল ও কর্মপরিকল্পনা (বিসিসিএসএপি) এবং খসড়া জাতীয় বৈদ্যুতিক বাস নীতির লক্ষ্য ও অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সহায়তা করা, বিআরটিসির বাস বহর আধুনিকীকরণের মাধ্যমে সেবার নির্ভরযোগ্যতা, কার্যকারিতা ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি বাড়ানো, অধিক সংখ্যক যাত্রী আকর্ষণ করা এবং সড়ক পরিবহন ব্যবস্থার দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে যানজট নিরসনে অবদান রাখা।

প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রম
৫০০ বৈদ্যুতিক যানবাহন (একতলা এসি বাস) কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ২৩০ কোটি টাকা। ইভির জন্য স্পেয়ার পার্টস কিনতে ১২৩ কোটি টাকা, ইলেকট্রিক চার্জিং স্টেশন (প্রতিটিতে চারটি করে ৩২০ কিলোওয়াট ফাস্ট চার্জার এবং অবকাঠামোসহ) খাতে ৩০ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

এছাড়া প্রয়োজনীয় সরঞ্জামসহ ইভি রক্ষণাবেক্ষণ ও মেরামতের জন্য স্ট্যান্ডার্ড ওয়ার্কশপ (কম্পিউটারভিত্তিক ডায়াগনোসিস সিস্টেমসহ) খাতে ১৩৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা, পাঁচটি জেনারেটরসহ যানবাহনে স্থাপিত বহনযোগ্য (পোর্টেবল) চার্জার ১২ কোটি ৩০ লাখ, চালক, টেকনিশিয়ান ও অপারেটরদের জন্য প্রশিক্ষণ খাতে ৬ কোটি ১৫ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status