পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই লিখে ছাত্রীর আত্মহনন
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Thursday, 4 June, 2026, 6:34 PM
পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই লিখে ছাত্রীর আত্মহনন
গত ৩ মে অনুষ্ঠিত ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট-ইউজি) পরীক্ষায় প্রায় ২২ লাখ শিক্ষার্থী অংশ নেয়। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে পরীক্ষাটি বাতিল করা হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ২১ জুন পুনঃপরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।
দরিদ্র পরিবারের ১৮ বছর বয়সী আকাঙ্ক্ষা চতুর্বেদীও ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পরিবারের আর্থিক সংকট সত্ত্বেও বাবার নেওয়া ঋণের টাকায় তার মেডিকেল পরীক্ষার প্রস্তুতির কমতি ছিল না। পরীক্ষার পরেও উত্তীর্ণ হওয়ার নিশ্চয়তা ছিল খুব মেধাবী এই তরুণীর।
কিন্তু পরীক্ষা বাতিল হওয়ার খবরটি সহ্য করতে না পেরে অবশেষে আত্মহত্যার পথ বেচে নিলেন আকাঙ্ক্ষা। মৃত্যুর ঠিক আগে পরিবারের উদ্দেশ্যে এক চিরকুটে তিনি লেখেন, পুনরায় পরীক্ষা দেয়ার সাহস নেই, আমাকে ক্ষমা করে দিও।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানায়, মৃত্যুর দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় পর তার কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া একটি হাতে লেখা চিরকুটে এসব তথ্য জানা গেছে।
চিঠিতে আকাঙ্ক্ষা তার বাবা-মায়ের উদ্দেশে লিখেছেন, মা-বাবা, তোমরা বিশ্বাস করেছিলে তোমাদের মেয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ডাক্তার হবে। কিন্তু আবার নিট পরীক্ষা দেওয়ার আমার আর সাহস নেই। প্রথমবারেই আমি ভালো নম্বর পেতাম, কিন্তু এখন আর কোনো নিশ্চয়তা নেই। আমি সবকিছু নষ্ট করে ফেলেছি, আমাকে ক্ষমা করে দিও।
যেভাবে নিভে গেল চিকিৎক হবার স্বপ্ন
আকাঙ্ক্ষার বাবা কৃষ্ণ কুমার চতুর্বেদী জানান, নাগপুরে কোচিং করে আসা তার মেয়ে পরীক্ষার পর খুবই আত্মবিশ্বাসী ছিল। তিনি বলেন, পরীক্ষা দিয়ে ফোন করে আমার মেয়ে খুব খুশি ছিল।কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁস ও পরীক্ষা বাতিলের খবর আসার পর সে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। তার মনে হয়েছিল, এত দিনের সব পরিশ্রম বৃথা গেল।
প্রায় দুই দশক ধরে নাগপুরে রাঁধুনির কাজ করেন কৃষ্ণ কুমার। পরিবারের আর্থিক সংকট সত্ত্বেও মেয়ের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে তিনি প্রায় ৩ লাখ রুপি ঋণ নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমার মেয়ে খুব মেধাবী ছিল। ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখত। আমরা ঋণ নিয়ে তার পড়াশোনার খরচ চালিয়েছি। পরীক্ষার পর সে নিশ্চিত ছিল যে নির্বাচিত হবে।
আর্থিক চাপ
আকাঙ্ক্ষার চাচা দাদ্দি প্রসাদ চতুর্বেদী বলেন, পরীক্ষা বাতিলের পর মেয়েটি ধীরে ধীরে সবার কাছ থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়। ঠিকমতো খেত না, কারও সঙ্গে কথা বলত না। তার ধারণা হয়েছিল, এবার সুযোগ হাতছাড়া হলে পরিবার আরেকবার কোচিং ও পরীক্ষার খরচ বহন করতে পারবে না।
পরিবারের দাবি, আকাঙ্ক্ষার কোচিং ও শিক্ষার খরচ চালাতে কৃষক ঋণ (কিষাণ ক্রেডিট কার্ড) এবং আত্মীয়-স্বজনদের কাছ থেকেও টাকা ধার করা হয়েছিল।
কী ঘটেছিল সেদিন?
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে দুপুরে পরিবারের সবাই খাবার খেলেও আকাঙ্ক্ষা পরে খাবে বলে নিজের ঘরে চলে যায়। দুপুরের পর পরিবারের অন্য সদস্যরা বিশ্রাম নিতে যান। বিকেল ৩টার দিকে মা নীলম চতুর্বেদী তাকে ডাকলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে ঘরে গিয়ে তাকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে ঘটনার সময় কোনো সুইসাইড নোট পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের সদস্যরা তার জিনিসপত্র গোছাতে গিয়ে হাতে লেখা ওই চিঠিটি খুঁজে পান।
আকাঙ্ক্ষার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে নাগপুরের আম্বাজরি থানায় অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, পরীক্ষাটি বাতিল হওয়ায় আকাঙ্ক্ষা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবার জানিয়েছে।