|
চোখে আলো নেই, তবু থেমে নেই জীবন
অন্ধত্ব ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে উখিয়ার এক পরিবারের ছয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধির নিরন্তর সংগ্রাম
বলরাম দাশ অনুপম, কক্সবাজার
|
|
অন্ধত্ব ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে উখিয়ার এক পরিবারের ছয় দৃষ্টিপ্রতিবন্ধির নিরন্তর সংগ্রাম দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আরমান বলেন, “বর্তমানে আমাদের পরিবারে দাদি, বাবা, ভাই-বোনসহ ছয়জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ৬ জন সদস্য রয়েছেন। এর আগে আরও দুজন মারা গেছেন। সমাজসেবা থেকে যে ভাতা পাই, তা দিয়ে কোনোরকমে এক মাস চলে। আমরা কথা বলতে পারি, কিন্তু চোখে দেখতে পাই না। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা কিংবা উপজেলা প্রশাসনের কাছ থেকে ইতোপূর্বে তেমন কোনো সহযোগিতা পাইনি। রমজানে অনেক দিন শুধু পানি দিয়ে ইফতার করেছি।” স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, একই পরিবারের এতজন সদস্যের দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হওয়া অত্যন্ত মর্মান্তিক ও বিরল ঘটনা। তারা সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। উপজেলা প্রতিবন্ধী নেতা রফিক উদ্দিন ফকির বলেন, “এটি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ঘটনা। একই পরিবারের এতজন সদস্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। তাদের জন্য সরকারি বিশেষ সহায়তা, উন্নত চিকিৎসা এবং পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা জরুরি।” উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, “পরিবারটি সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিয়মিত ভাতা ও অন্যান্য সহায়তা পেয়ে আসছে। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত কোনো সহযোগিতার সুযোগ এলে তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে দেওয়া হবে।” উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আসমা বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। পরিবারটির সার্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখে গত শুক্রবার (২৯ মে) সন্ধ্যায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের কাছে কোরবানির মাংসসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।” সম্প্রতি সহায়তা পাওয়ার পর দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী জামাল উদ্দিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “ উপজেলা প্রশাসন এবার আমাদের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে। ভবিষ্যতেও নতুন কোনো সহযোগিতা এলে তা দেওয়ার আশ্বাস পেয়েছি উখিয়ার মানবিক ইউএনও রিফাত আসমার কাছ থেকে।” তবে পরিবারের সদস্যদের প্রধান দাবি একটাই— বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মাধ্যমে তাদের রোগের কারণ নির্ণয় করা হোক এবং সম্ভাব্য চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক। পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় এনে পরিবারটিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হোক। তাদের বিশ্বাস, যথাযথ চিকিৎসা ও রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে হয়তো এই অন্ধকার জীবনে একদিন আলোর দেখা মিলতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে প্রাণ দেওয়া দুলালের পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন
শহীদ জিয়ার নেতৃত্বেই স্বাধীন বাংলাদেশের ভিত্তি: সোহেল মনজুর
আলফাডাঙ্গায় মালা শহীদ আসাদুজ্জামান উচ্চ বিদ্যালয়ে ২০ দলীয় স্কুল ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনাল সম্পন্ন: চ্যাম্পিয়ন ২০১২ ব্যাচ
নরসিংদীতে মূল্য না পেয়ে রাস্তার পাশে,নদীতে কুরবানির চামড়া ফেলার অভিযোগ, পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ
