১২ বছরের অটিস্টিক শিশু সেজে প্রতারণা, ব্রাজিলে গ্রেপ্তার ৩৭ বছরের নারী
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 9 June, 2026, 11:32 AM
১২ বছরের অটিস্টিক শিশু সেজে প্রতারণা, ব্রাজিলে গ্রেপ্তার ৩৭ বছরের নারী
হলিউডের বিখ্যাত হরর চলচ্চিত্র অরফ্যান -এর গল্পের মতোই এক রুদ্ধশ্বাস ও অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটেছে ব্রাজিলে। ১২ বছর বয়সী এক অটিস্টিক শিশুকে দত্তক নেওয়ার সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল একটি পরিবার। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তাঁরা জানতে পারেন, যাকে তাঁরা গত ১৪ মাস ধরে পরম স্নেহে লালন-পালন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, তিনি কোনো শিশু নন—বরং ৩৭ বছর বয়সী এক দুর্ধর্ষ প্রতারক।
অভিযুক্ত নারীর নাম আমান্দা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরা (৩৭)। গত ১৪ মাস ধরে নিখুঁত অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নিজেকে একটি অসহায় শিশু হিসেবে ওই পরিবারের কাছে তুলে ধরেছিলেন। কথিত সেই ১২তম জন্মদিনের মাত্র কয়েক দিন আগে এই প্রতারণার জাল উন্মোচিত হয়।
ব্রাজিলের সান্তা কাতারিনা অঙ্গরাজ্যের পুলিশ অভিযুক্ত আমান্দাকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাটি ২০০৯ সালের ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘অরফ্যান’-এর কাহিনির সঙ্গে হুবহু মিলে গেছে, যেখানে একজন প্রাপ্তবয়স্ক নারী শিশুর রূপ ধরে একটি পরিবারে প্রবেশ করে ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালিয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, আমান্দা মূলত বিভিন্ন গির্জাভিত্তিক গোষ্ঠী এবং স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকে লক্ষ্য করে তাঁর শিকার খুঁজতেন। নিজেকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে শিশুদের মতো আচরণ ও পোশাক পরতেন এবং শিশুদের খেলনা ও সামগ্রী ব্যবহার করতেন।
তাঁর চেহারায় বয়সের ছাপ সম্পর্কে কেউ প্রশ্ন তুললে তিনি দাবি করতেন, শৈশবের চরম মানসিক ট্রমা বা আঘাতের কারণে তাঁর শরীরে ‘প্রি-ম্যাচিউর এজিং’ বা অকাল বার্ধক্যের লক্ষণ দেখা দিয়েছে। তাঁর এই আবেগঘন ও যৌক্তিক ব্যাখ্যায় অনেকেই বিভ্রান্ত হতেন।
মানুষের সহানুভূতি ও আশ্রয় পাওয়ার জন্য আমান্দা নিজেকে গুরুতর শারীরিক নির্যাতনের শিকার বলে দাবি করতেন। রিও ডি জেনিরোতে অতীতে ঘটে যাওয়া এমনই এক ঘটনায় তাঁর শরীরে গুরুতর জখমের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।
তবে তদন্তকারী কর্মকর্তারা পরবর্তীতে জানতে পারেন, অতীতে তাঁর ওপর হওয়া নির্যাতনের দাবিকে সত্য প্রমাণ করতে তিনি নিজেই নিজের শরীর ক্ষতবিক্ষত করেছিলেন। অর্থাৎ, সহানুভূতি পাওয়ার জন্য তিনি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নিজের ক্ষতি বা আত্মপীড়ন করেছিলেন।
আমান্দার এই নিখুঁত প্রতারণার অবসান ঘটে ওই দত্তক নিতে যাওয়া পরিবারের এক আত্মীয়ের কারণে। আমান্দার আচরণে কিছুটা সন্দেহ প্রকাশ করে তিনি ইন্টারনেটে এই ধরনের সমসাময়িক অন্যান্য জালিয়াতির মামলা নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করেন।
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, যাকে তাঁরা ১২ বছরের শিশু মনে করছেন, তিনি আসলে ব্রাজিলের একাধিক রাজ্যে ওয়ান্টেড (অভিযুক্ত) তালিকাভুক্ত এক কুখ্যাত প্রতারক।
তৎক্ষণাৎ বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ আমান্দাকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেছেন।
আমান্দা মারিয়া সুজা ডি অলিভেইরার বিরুদ্ধে বর্তমানে জালিয়াতি, প্রতারণা এবং পরিচয় চুরির অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বর্তমানে তাঁর একটি পূর্ণাঙ্গ মানসিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা সাইকিয়াট্রিক মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই পরীক্ষার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে যে, অপরাধ করার সময় তিনি মানসিকভাবে সুস্থ ছিলেন কি না এবং নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য তাঁকে আইনত দায়ী করা যাবে কি না।