|
তাড়াশে ২৯ কমিউনিটি ক্লিনিকে দেড় বছর ধরে বেতন বন্ধ, স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবেতর জীবনযাপন
সাব্বির মির্জা, তাড়াশ
|
![]() তাড়াশে ২৯ কমিউনিটি ক্লিনিকে দেড় বছর ধরে বেতন বন্ধ, স্বাস্থ্যকর্মীদের মানবেতর জীবনযাপন এ নিয়ে ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকে ২৯ জন কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারকে (সিএইচসিপি) নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা এলাকার লোকজনকে নিয়মিত সেবা দিয়ে এলেও গত দেড় বছর ধরে বেতন পান না তারা। এতে করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডাররা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। বেতন বন্ধের বিষয়ে তাড়াশ পৌর এলাকার কাউরাইল কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডার শাহিন আলম জানান, উপজেলায় ২৯টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে রাজস্বভুক্ত রয়েছি ২৩ জন। এ ছাড়া নতুন নিয়োগকৃত রয়েছে ৬ জন। এদের মধ্যে আমরা ২৩ জন ৬ মাস ধরে বেতন পাই না। আর নতুন ৬ জনের বেতন বন্ধ দেড় বছর ধরে। তিনি আরও বলেন, আমার নিজের জমিজমাও নেই। ফলে এই চাকরি করেই সবার মুখের খাবার জোগাতে হয়। ওই চাকরির বেতন দিয়ে ভালোই চলছিল ছয় সদস্যের পরিবার। তবে ৬ মাস ধরে বেতন না পাওয়ায় সংসারে নেমে এসেছে অভাব-অনটন। এখন সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রতিনিয়িত হিমশিম খেতে হচ্ছে আমাকে। বর্তমানে খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে আমার পরিবার। এ বিষয়ে তাড়াশ সদর ইউনিয়নের সোলাপাড়া কমিউনিটি ক্লিনিকের কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডর ফিরোজ আহমেদ জানান, সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত ডিউটি করায় অন্য কোনো কাজও করা যায় না। তার মতো উপজেলার বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত ২৯ জন সিএইচসিপি পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। উপজেলায় কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডরদের দীর্ঘদিন ধরে বেতন-ভাতা বন্ধ রয়েছে। কবে নাগাদ বেতন পাবেন সেটিও অনিশ্চিত। ফলে দ্রব্যমূল্যের এই ঊর্ধ্বগতির বাজারে বেতন না পেয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন সবাই। একাধিক কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার বলেন, বাড়ির ভিটা ছাড়া আর কিছুই নেই। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির এই বাজারে সামান্য ওই বেতন দিয়ে টেনেটুনে কোনো রকমে সংসার চালাই। তারপর আবার দেড় বছর থেকে সেটিও বন্ধ। দোকানদাররা আর বাকিতে জিনিস দিতে চাচ্ছেন না। কী যে বিপদে রয়েছি, কাকে বলব? আমরা এই সমস্যার একটি সমাধান চাচ্ছি। এখন আমাদের একটাই দাবি, দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকা আমাদের সবার বেতন-ভাতা দিয়ে দেওয়া হোক। আশা করছি সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আমাদের এই সমস্যা নিরসনে কাজ করবে। গত দেড় বছর ধরে বেতন বন্ধ থাকার বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এরফান আহমেদ বলেন, একটি ট্রাস্টের মাধ্যমে সিএইচসিপিদের বেতন-ভাতাদি পরিশোধ করা হয়। সারা দেশেই তাদের বেতন-ভাতাদি বন্ধ রয়েছে। এখন আমাদের স্বাক্ষরে তাদের বেতন-ভাতা হয় না। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
