|
গাজীপুর জেলা কারাগারে ভেলকিবাজি টাকার বিনিময়ে: সাত্তারের বদলী হাজতী সাইফুল
ফাহিম ফরহাদ, গাজীপুর
|
![]() গাজীপুর জেলা কারাগারে ভেলকিবাজি টাকার বিনিময়ে: সাত্তারের বদলী হাজতী সাইফুল অনুসন্ধানে উঠে আসে আতকে ওঠার মতো এহেন তথ্য। বিষয়টি অবগত করতেই তড়িঘড়ি করে আদালতকে চিঠি লিখে পুরো লুকোচুরির ঘটনাটি অবহিত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) গাজীপুরের কালিয়াকৈর ফুলবাড়িয়া রেঞ্জের কাচিঘাটা বিট অফিসার শরিফ খানের বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তথ্যমতে গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই এলাকার বন থেকে সরকারি গাছ কাটার সময় হাতেনাতে কয়েকজনকে আটক করেন বন কর্মকর্তারা। পরে দেশীয় অস্ত্রের মুখে পিছু হটলেও জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে স্থানীয় বন বিভাগের সংশ্লীষ্টরা। কাচিঘাটা বিট অফিসার শরিফ খানের মতে, ‘স্থানীয়দের অস্ত্রের মুখে আমরা অসহায় তাই আলামত জব্দ করে ফিরে এসে মামলা দায়ের করি। এ ঘটনার তিন মাস পর গত ৭ ডিসেম্বর আদালতে হাজিরা দেন প্রধান আসামি সাত্তার মিয়া। অভিযোগ আমলে নিয়ে তাকে কারাগারে পাঠান আদালতের বিচারক।’ তবে অনুসন্ধানে উন্মোচিত হয়, যে সাত্তারের থাকার কথা কারাগারে, তিনি দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছেন নিজ এলাকা ও আশপাশের অঞ্চলে আপন মনে সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়িতে নেই অভিযুক্ত সাত্তার মিয়া। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানিয়েছেন, ব্যবসায়িক কাজে অবস্থান করছেন মাওনা এলাকায়। ![]() গাজীপুর জেলা কারাগারে ভেলকিবাজি টাকার বিনিময়ে: সাত্তারের বদলী হাজতী সাইফুল আশ্চর্যের বিষয় হলো যে, কারাগারের নথিতেও বন্দির নাম সাত্তার। কিন্তু ছবি মেলাতে গীয়েই সামনে আসে ভেলকিবাজি'র এহেন প্রক্সি চরিত্র। পরে জেলে থাকা ব্যক্তির প্রকৃত পরিচয় জানা গেলো সে সাইফুল ইসলাম। কিন্তু! তাহলে সাত্তার পরিচয়ে কীভাবে কারাগারে গেলেন সাইফুল? জানতে চাইলে, তড়িঘড়ি করেই আদালতকে অসঙ্গতির বিষয়টি জানিয়ে চিঠি পাঠানোর কথা জানায় জেলা কারাগারের জেল সুপার। এ বিষয়ে জেলা কারাগারের জেল সুপার মোহাম্মদ রফিকুল কাদের জানিয়েছেন, ‘আসামি এন্ট্রি করার সময় তিনি তার নাম সাত্তার বলেছেন, তাই সন্দেহ করা হয়নি। পরবর্তীতে অসঙ্গতি জানার পর বায়োমেট্রিক পরীক্ষা করে জানতে পারি, তিনি আসলে সাত্তার নন, তিনি সাইফুল। এ বিষয়ে আমরা ইতোমধ্যে আদালতকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করেছি।’ আয়নাবাজির এই অদ্ভুত ঘটনা সম্পর্কে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করেও সাড়া মেলেনি প্রকৃত আসামি সাত্তারের আইনজীবী শ্যামল সরকারের। যদিও ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী'র পরিবার 'আয়নাবাজি'র' বিষয়ে প্রকৃত ঘটনা স্বীকার করেছেন। পরিবার জানায় জামিন পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে ১৫ হাজার টাকার বিনিময়ে প্রক্সি হাজিরা দিতে গীয়েছিলেন সাইফুল। সাত্তার পরিচয়ে কারাগারে থাকা সাইফুলের বাবা রহিম বাদশা বলেন, ‘আমার ছেলে গার্মেন্টসে চাকরি করে। আমরা জানতাম সে গার্মেন্টসে গিয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি সে নাকি কারাগারে বন্দি। আমার ছেলে টাকা নিয়ে এসব কাণ্ড করেছে। বিষয়টির জন্য আমরাও অনুতপ্ত।’ গাজীপুর কারাগার কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, রিপোর্ট প্রকাশকালীন সময় হতে গত এক মাসে এমন প্রক্সি হাজিরা ও জেল খাটার নজির হিসেবে তিনটি ঘটনা শনাক্ত করেছেন জেলা কারা কর্তৃপক্ষ। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
