|
প্রযুক্তি নির্ভর ইউরোপে কেন কমে যাচ্ছে দক্ষ কর্মী?
নতুন সময় ডেস্ক
|
![]() প্রযুক্তি নির্ভর ইউরোপে কেন কমে যাচ্ছে দক্ষ কর্মী? স্টেম বলতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের সমন্বিত শিক্ষা বোঝায়। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক শিল্পবিপ্লবের যুগে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত জ্ঞানই যথেষ্ট নয়। সৃজনশীলতা, শিল্পচর্চা ও বহু-বিষয়ক চিন্তাভাবনাই ভবিষ্যতের কর্মবাজারে বেশি প্রয়োজন হবে। ফিনল্যান্ডের আল্টো মিডিয়া ল্যাব সেই পরিবর্তনেরই উদাহরণ—যেখানে ডিজাইন, শিল্পকলা এবং প্রযুক্তিকে একসঙ্গে শেখানো হচ্ছে। সবুজ জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং ইমার্সিভ মিডিয়ার মতো দ্রুত বিকাশমান খাতে প্রতিনিয়ত নতুন চাকরি তৈরি হচ্ছে। ফলে এমন কর্মী প্রয়োজন যাঁরা প্রযুক্তি জানার পাশাপাশি দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেদের দক্ষতাও আপডেট রাখতে পারেন। এজন্য শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয় নিয়োগদাতা ও নীতিনির্ধারকদেরও নতুন বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে চলার তাগিদ রয়েছে। ওইসিডির ২০২৫ সালের ‘স্কিলস-ফার্স্ট’ বাজার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন নিয়োগদাতারা সার্টিফিকেটের চেয়ে বাস্তব দক্ষতা ও বহু-বিষয়ক জ্ঞানকে বেশি মূল্য দিচ্ছেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বয়ে এমন কারিকুলাম তৈরি করতে হবে, যা বাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং ভবিষ্যতের কর্মশক্তি তৈরি করে। ইউরোপীয় কমিশন ২০২৫ সালে ‘স্টেম এডুকেশন স্ট্র্যাটেজিক প্ল্যান’ প্রকাশ করেছে এবং গঠন করেছে ‘ইউরোপীয় স্টেম এক্সিকিউটিভ প্যানেল’। এই প্ল্যানে শিল্প–শিক্ষার সম্পর্ক শক্তিশালী করা, ভবিষ্যৎ দক্ষতার পূর্বাভাস তৈরি এবং পাঠ্যসূচি আধুনিকায়নের মতো সুপারিশ রয়েছে। উদ্যোগগুলো ‘ইউনিয়ন অফ স্কিলস’ ও ‘ইউরোপিয়ান স্কিলস এজেন্ডা’র লক্ষ্যগুলোর সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের প্রায় এক কোটি ১০ লাখ চাকরির বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত এআই–সম্পর্কিত চাকরির চাহিদা ২১ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে ডিগ্রি-শর্ত কমেছে ১৫ শতাংশ, যা ইঙ্গিত দেয়—ডিগ্রি নয়, দক্ষতাই এখন চাকরির সবচেয়ে বড় মাপকাঠি। এমনকি দক্ষ এআই–পেশাজীবীরা বহু ক্ষেত্রে স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারীদের চেয়েও বেশি আয় করছেন। স্টেম খাতকে শক্তিশালী করতে নারী, অভিবাসী, নিম্নআয়ের পরিবারসহ পিছিয়ে থাকা গোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা জরুরি। শিল্পখাতের সঙ্গে সরাসরি অংশীদারত্ব শিক্ষার্থীদের নেটওয়ার্ক বাড়ায় এবং কর্মসংস্থানের সম্ভাবনাও বৃদ্ধি করে। ইউরোপে দুই মিলিয়ন স্টেম কর্মীর অভাব পূরণ করতে হলে বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্পখাত এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। বাজারমুখী শিক্ষা, দক্ষতা–কেন্দ্রিক প্রশিক্ষণ এবং সৃজনশীলতা ও শিল্পকলার সমন্বয়ই ইউরোপকে সবুজ ও ডিজিটাল রূপান্তরের পরবর্তী ধাপে এগিয়ে নিতে পারে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
