ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ ১ মাঘ ১৪৩২
প্রযুক্তি কি জাপানের ডিমেনশিয়া সংকট ঠেকাতে পারবে?
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Monday, 8 December, 2025, 11:46 AM

প্রযুক্তি কি জাপানের ডিমেনশিয়া সংকট ঠেকাতে পারবে?

প্রযুক্তি কি জাপানের ডিমেনশিয়া সংকট ঠেকাতে পারবে?

জাপানে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বয়স্কদের হার দ্রুত বাড়ছে। শুধু গত বছরই ১৮ হাজারের বেশি প্রবীণ বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিখোঁজ হন; যাদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন পরে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানায়, ২০১২ সালের তুলনায় এ ধরনের ঘটনা এখন দ্বিগুণ।

৬৫ বছরের বেশি বয়সী মানুষের সংখ্যা এখন জাপানের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩০ শতাংশ—বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা কমে যাওয়া এবং বিদেশি কর্মী ভর্তিতে কড়াকড়ির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

জাপানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ডিমেনশিয়া-সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবাখাতে ব্যয় ২০২৫ সালের ৯ ট্রিলিয়ন ইয়েন থেকে ২০৩০ সালে বেড়ে দাঁড়াবে প্রায় ১৪ ট্রিলিয়ন ইয়েনে। এ সংকট মোকাবিলায় সরকার প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের দিকে জোর দিচ্ছে।

জিপিএস নজরদারি থেকে এআই—নানামুখী উদ্যোগ

দেশজুড়ে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিদের হারিয়ে যাওয়া রোধে জিপিএসভিত্তিক ডিভাইস ব্যবহারের প্রচলন বাড়ছে। কিছু এলাকায় বয়স্কদের জন্য বিশেষ জিপিএস ট্যাগ দেওয়া হয়, যা নির্দিষ্ট এলাকা ছাড়লেই কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে। কোথাও কোথাও কনভেনিয়েন্স স্টোরের কর্মীরাও রিয়েল-টাইম অ্যালার্ট পান, যাতে দ্রুত নিখোঁজ ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যায়।

আবার ফুজিতসুর aiGait প্রযুক্তি মানুষের হাঁটা-চলা বিশ্লেষণ করে ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক লক্ষণ শনাক্ত করতে সাহায্য করছে। ভঙ্গি, হাঁটার ধরন বা ঘোরার সময় ধীরগতির মতো পরিবর্তনগুলো এআইয়ের মাধ্যমে চিকিৎসকের কাছে পৌঁছে যায়।

রোবট যত্নদাতা

টোকিওর ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয় ১৫০ কেজি ওজনের হিউম্যানয়েড রোবট ‘AIREC’ তৈরি করছে, যা ভবিষ্যতে রোগীর পোশাক পরানো, রান্না করা এমনকি বিছানার চাপজনিত ক্ষত প্রতিরোধের মতো কাজ করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে কিছু রোবট ইতোমধ্যে নার্সিং হোমে সঙ্গীত বাজানো, হালকা ব্যায়াম করানো এবং রাতে রোগীদের ঘুম পর্যবেক্ষণের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষকে নিরাপদভাবে সহায়তা দেওয়ার মতো নিখুঁত দক্ষতায় পৌঁছাতে রোবটের আরও কমপক্ষে পাঁচ বছর সময় লাগবে।

একা থাকা প্রবীণদের সঙ্গী ছোট রোবট

শার্প তৈরিকৃত ছোট রোবট ‘পোকেতোমো’ ওষুধ খাওয়ার সময় মনে করিয়ে দেওয়া, আবহাওয়া জানানোর পাশাপাশি একাকী মানুষের সঙ্গে কথা বলে মানসিক সহায়তা দেয়।

প্রযুক্তি সহায়ক, বিকল্প নয়

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রযুক্তি ডিমেনশিয়া ব্যবস্থাপনায় বড় ভূমিকা রাখতে পারে, তবে মানবিক সংযোগই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

এরই উদাহরণ টোকিওর ‘রেস্টুরেন্ট অব মিসটেকেন অর্ডারস’—যেখানে ডিমেনশিয়া আক্রান্ত ব্যক্তিরা সার্ভার হিসেবে কাজ করেন। তাদের ভুল অর্ডারও গ্রহণ করে আনন্দ করেন আগত অতিথিরা। এখানে কাজ করে আত্মমর্যাদা ও সামাজিক বন্ধন বজায় রাখতে সক্ষম হন তারা।

প্রবীণ কর্মীদের একজন তোশিও মরিতা বলেন, “নানান মানুষের সঙ্গে দেখা করতে ভালো লাগে। এটিই কাজের আনন্দ।”

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status