খুলনায় কয়রায় ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ভয়াবহ ভাঙন: মাটিয়াভাঙ্গায় বাঁধ ধসে আতঙ্কে হাজারো মানুষ
এম রোমানিয়া, খুলনা
প্রকাশ: Sunday, 7 December, 2025, 6:50 PM
খুলনায় কয়রায় ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে ভয়াবহ ভাঙন: মাটিয়াভাঙ্গায় বাঁধ ধসে আতঙ্কে হাজারো মানুষ
প্রকৃতি আর প্রশাসনিক গাফিলতির দুধারে ক্ষতবিক্ষত খুলনা-কয়রার মানুষ। কপোতাক্ষ নদকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা মাটিয়াভাঙ্গা জনপদে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে হঠাৎই দেখা দেয় বিপর্যয়। দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের পাউবোর বেড়িবাঁধের প্রায় ২০০ মিটার অংশ ঝুপঝাপ শব্দে নদীতে ধসে পড়লে আতঙ্কে রাতভর জেগে কাটান নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষ।
আগেই ছিল ফাটলের সতর্কবার্তা—শুনল না পাউবো
স্থানীয়দের অভিযোগ, এক মাস আগেই বাঁধটিতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। বারবার পাউবোকে জানানো হলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নিয়ে শুধু কিছু বস্তা ফেলে দায়সারা কাজ করা হয়—যার ফল বৃহস্পতিবারের ভাঙন।
মাটিয়াভাঙ্গার বাসিন্দা নয়ন খাঁ বলেন, “বড় বড় মাটির ঢেলা যখন শব্দ করে নদীতে পড়ছিল, মনে হচ্ছিল ভিটেমাটি আর রক্ষা হবে না। আমরা নিজেরাই রাতেই রিং বাঁধ দিয়ে এলাকা কোনোমতে বাঁচিয়েছি। কিন্তু ১২০০ কোটি টাকার প্রকল্প চলছে, অথচ আমাদের এভাবে মরতে হচ্ছে কেন?”
ইউপি সদস্য মোঃ দিদারুল আলম জানান, “জরুরি সময়ে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এখন সাময়িক রিং বাঁধ দিয়েছি। কিন্তু দ্রুত ব্লক ডাম্পিং শুরু না হলে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বাঁধ টিকবে না।”
১২০০ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রশ্নের ঝড়
উত্তর ও দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ সংস্কারে প্রায় ১,২০০ কোটি টাকার পুনর্বাসন প্রকল্প চলছে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে। কিন্তু কাজের গতি ও মান নিয়ে স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভ।
পাউবোর সাতক্ষীরা-২ বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আলমগীর কবীর জানিয়েছেন, “কাজ চলমান অবস্থাতেই বাঁধটি ভেঙে গেছে। এতে ব্লক নির্মাণের সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
অন্যদিকে উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী রাশিদুল ইসলাম বিলম্বের কারণ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা, বরাদ্দ পেতে দেরি এবং মাটি-বালুর সংকটের কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, “জরুরি ভিত্তিতে কাজ শুরু হয়েছে, আতঙ্কের কিছু নেই।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন—বর্ষার আগে কাজ না হলে কী হবে?
প্রকৌশলীদের আশ্বাসে ভরসা রাখতে পারছেন না সাধারণ মানুষ। প্রবীণ কৃষক অজিয়ার শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আগামী বর্ষায় যদি কাজ ঠিকমতো শেষ না হয়, তখন আমাদের কী হবে? সরকার কি আমাদের ডুবে মরার জন্য ছেড়ে দেবে?”
দ্রুত কাজ শেষের দাবিতে এলাকাবাসীর একটাই ডাক
কয়রা উপকূলজুড়ে এখন একটাই দাবি— দ্রুত, সুষ্ঠু ও মানসম্মতভাবে বাঁধ সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। না হলে কপোতাক্ষ-সংলগ্ন সুন্দরবন উপকূলের এই জনপদ আর কোনোদিন ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।