|
টেলিটকের প্রযুক্তিগত বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() টেলিটকের প্রযুক্তিগত বৈষম্য নিরসনের দাবিতে মানববন্ধন মানববন্ধনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)-র সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, তরঙ্গ নিলামের ক্ষেত্রে সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জুলাই আন্দোলনের আদর্শের পরিপন্থী। একের পর এক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে, আর এবার রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটককে পিছিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের সাবেক পরিচালক খালিদ আবু নাসির বলেন, প্রযুক্তির উন্নয়নের বিপক্ষে তারা নন; তবে রাষ্ট্রীয় অপারেটর টেলিটককে বাদ দিয়ে ৭০০ ব্যান্ড বরাদ্দ দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাজারে প্রতিযোগিতা নষ্ট করবে। বর্তমানে একটি বেসরকারি অপারেটর বাজারে ৯০ শতাংশ লাভ করছে, আরেকটি ৮ শতাংশ লাভে আছে—বাকি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে টেলিটকও লোকসান গুনছে। টেলিটককে আরও অবহেলা করা হলে, বাজারে প্রাকৃতিক একচেটিয়া সুবিধা তৈরি হবে বলে তিনি সতর্ক করেন। মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে ৭০০ মেগাহার্টজ ‘গোল্ডেন ব্যান্ড’ হিসেবে পরিচিত, যা ৫জি বিস্তারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই ব্যান্ডের ৪৫ মেগাহার্টজের মধ্যে ২৫ মেগাহার্টজ নিলামের সিদ্ধান্ত এবং বাকি ২০ মেগাহার্টজ ভবিষ্যতে বিক্রয়ের সিদ্ধান্ত টেলিটকের ভবিষ্যৎকে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিটিআরসি ও অপারেটরদের সাম্প্রতিক সভায় এক বেসরকারি অপারেটর টেলিটকের জন্য কোনো ফ্রিকোয়েন্সি বরাদ্দ না রাখার প্রস্তাব দিয়েছে, যা বৈষম্যমূলক ও জনস্বার্থবিরোধী। তিনি আরও বলেন, ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত বিদেশি অপারেটরদের একচ্ছত্র ক্ষমতার কারণে গ্রাহকরা কলচার্জ, ইনকামিং চার্জ ও ব্যালেন্স কেটে নেওয়ার মতো ভোগান্তিতে পড়েছিলেন। এই বাস্তবতায় জনবান্ধব সেবা দিতে টেলিটক প্রতিষ্ঠিত হয় এবং শুরু থেকেই স্বল্প খরচে সেবা দিয়ে বাজারে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। মাত্র ৬ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগে দেশব্যাপী সেবা দিয়ে যাওয়া টেলিটক রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে কখনো পিছু হটেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন। বক্তারা বলেন, ৭০০ মেগাহার্টজ ব্যান্ড টেলিটকের জন্য অত্যন্ত জরুরি, কারণ এটি কম টাওয়ারে বৃহৎ এলাকা কভার করতে পারে। দেশের দুর্গম অঞ্চল, পাহাড়ি এলাকা ও গ্রামাঞ্চলে স্থিতিশীল নেটওয়ার্ক নিশ্চিত করতে এই ব্যান্ডের বিকল্প নেই। স্পেকট্রাম না পেলে টাওয়ার স্থাপনের অতিরিক্ত খরচের কারণে টেলিটকের কার্যক্রম ব্যয় বাড়বে, যা গ্রাহকসেবার মান কমিয়ে দেবে এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য দেন জাতীয় স্বাধীনতা পার্টির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজু, বাংলাদেশ মোবাইল ফোন রিচার্জ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আমিনুল ইসলাম, গ্রিন পার্টির চেয়ারম্যান রাজু খানসহ অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তব্যে বক্তারা দ্রুত বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে টেলিটকের হাতকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
