|
শ্রেণিকক্ষে তালা, বাইরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() শ্রেণিকক্ষে তালা, বাইরে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা শিক্ষকদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের মধ্যে বুধবার দুপুরে ময়মনসিংহ নগরের শাঁখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দেখা মিলেছে এমন দৃশ্যের। দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী উম্মে হাবিবা মেহের বলল, “আমাদের বাংলা পরীক্ষা ছিল। কিন্তু ম্যাডামদের কর্মবিরতির কারণে পরীক্ষা হচ্ছে না। ক্লাস রুমেও তালা, তাই বসে আছি। মা আসলেই বাসায় যাবো। সায়ন্তী মনি নামে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী বলল, পরীক্ষা না হওয়ায় বসে রয়েছি। ম্যাডামরা ক্লাসে আসছে না। মা আমাকে রেখে বাসায় চলে যাওয়ায় যেতেও পারছি না। শুধু শাঁখারীপট্টির স্কুল নয় বুধবার সকাল থেকে ক্লাস বন্ধ করে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি পালন করছেন ময়মনসিংহের অধিকাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। আন্দোলনরত শিক্ষকদের দাবি, লাগাতার কর্মবিরতি ও বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের পরও তিনদফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাধ্য হয়ে তারা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ পালন করছেন। শাঁখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জান্নাতুল নাহার বলেন, “আমাদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে নির্ধারণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড প্রাপ্তির বিষয়ে জটিলতার অবসান, সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতির দাবিতে বাধ্য হয়ে শাটডাউন কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছি। “আমরা শিক্ষার্থীদের কষ্ট দিতে চাই না। সরকার দাবি মেনে নিলেই ক্লাসে ফিরব।” নগরের সানকিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক খাদিজাতুল কোবরা বলেন, “সফল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবেই। আমরা আমাদের দাবিতে অনড়।” গোহাইলকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সারমিন সুলতানা বলেন, “সকালে আমরা প্রত্যেকটি শ্রেণি কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছি। ছাত্ররা এসে স্কুল থেকে ঘুরে গেছে। তবে আমাদের দাবির ব্যাপারে সকলেই সহমত।” শাঁখারীপট্টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিপি মনিকর বলেন, “সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করায় একা পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই পরীক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। তবে কর্মবিরতি প্রত্যাহার হলে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া হবে।” তিনি আরও বলেন, “স্কুলে পরীক্ষা বন্ধের বিষয়টি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আগেই জানান হয়েছিল। তারপরও অনেক অভিভাবক হয়তো পরীক্ষা হবে, এমন আশা থেকে শিক্ষার্থীদের স্কুলে নিয়ে আসেন।“ শিক্ষকদের দাবির বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জানিয়ে অচিরেই সমাধান হওয়ার আশা ব্যক্ত করেছেন সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আবু ইউসুফ। তিনি বলেন, “জেলার ২ হাজার ১৪০টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাড়ে পাঁচ লাখ শিক্ষার্থী এবং শিক্ষক রয়েছেন ১৩ হাজার। আশা করছি আগামীকাল থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে পড়বে। প্রাণ ফিরে পাবে প্রতিষ্ঠানগুলো।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
