|
উখিয়ায় আলোচিত রহিমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বামী জসিম বোয়ালখালী থেকে গ্রেফতার
নতুন সময় প্রতিনিধি
|
![]() উখিয়ায় আলোচিত রহিমা হত্যাকাণ্ডে জড়িত স্বামী জসিম বোয়ালখালী থেকে গ্রেফতার রবিবার (১ ডিসেম্বর) রাতে র্যাব-১৫–এর একটি বিশেষ আভিযানিক দল, র্যাব-৭ ও স্থানীয় সোর্সের সহযোগিতায় পূর্ব গোমদন্ডী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। গত ১৩ নভেম্বর উখিয়া উপজেলার হলদিয়াপালং ইউনিয়নের তচ্ছাখালী খাল থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় অর্ধগলিত এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পরিচয় শনাক্ত হলে জানা যায়, নিহতের নাম রহিমা আক্তার (৩০)। তিনি উপেজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের বাসিন্দা আমির হোসেনের মেয়ে এবং পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার জসিম উদ্দিনের স্ত্রী। পরিবার জানায়, ৬ নভেম্বর রাত ১১টার পর থেকে রহিমা নিখোঁজ ছিলেন। এ ঘটনায় নিহতের মা সেলিনা আক্তার বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে উখিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। র্যাব-১৫ জানায়, প্রায় এক দশক আগে রহিমা ও জসিমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই জসিম শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। সম্প্রতি দাম্পত্য কলহ চরমে পৌঁছালে জসিম প্রায়ই স্ত্রীকে তালাক ও হত্যার হুমকি দিতেন। তদন্তের বরাতে র্যাব জানায়, ৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় ‘শ্বশুরবাড়ি যাওয়ার’ প্রলোভন দেখিয়ে জসিম স্ত্রীকে বাড়ির পাশের নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সহযোগী মোবারকের সহায়তায় হাত-পা চেপে ধরে গলায় ছুরিকাঘাত করে রহিমাকে হত্যা করা হয়। পরে মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরদিন ঘটনাস্থলে রক্ত দেখে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে জসিম দাবি করেন, সেখানে একটি মৃত গরু পুঁতে রাখা হয়েছে। তবে সন্দেহ ঘনীভূত হওয়ায় রাতেই মরদেহ তুলে বস্তায় ভরে তচ্ছাখালী খালে ফেলে দেওয়া হয়। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই জসিম পলাতক ছিলেন। র্যাব–১৫–এর সহকারী পরিচালক (ল’ অ্যান্ড মিডিয়া) আ. ম. ফারুক বলেন, “ঘটনাটির শুরু থেকেই র্যাবের গোয়েন্দা দল অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে আসছে। তথ্য-প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা নজরদারির সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রধান আসামি জসিম উদ্দিনের অবস্থান শনাক্ত সম্ভব হয়। পরে চট্টগ্রাম বোয়ালখালীতে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।” তিনি বলেন, “স্ত্রী রহিমা আক্তারকে হত্যার পর মাটিতে পুঁতে রাখা ও পরে সেখান থেকে তুলে বস্তাবন্দি করে তচ্ছাখালী খালে ফেলে দেওয়ার কথা স্বামী জসিম উদ্দিন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।” |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
