ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বুধবার ১০ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪৩২
প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক
নতুন সময় প্রতিনিধি
প্রকাশ: Sunday, 30 November, 2025, 11:06 AM

প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

প্রকাশ্যে অস্ত্রের প্রদর্শন, এলাকাজুড়ে আতঙ্ক

উপজেলার কদলপুর ইউনিয়নের আলোচিত সন্ত্রাসী জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমকে ঘিরে নতুন করে আতঙ্ক ছড়িয়েছে একটি ভাইরাল ভিডিও। এতে দেখা যায়, জানে আলমের পাশে দাঁড়িয়ে আছে অন্তত পাঁচজন সশস্ত্র সহযোগী। কারও হাতে শর্টগান, কারো হাতে শাটারগান, আবার একজনের হাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত একে-৪৭ ধাঁচের অস্ত্রও রয়েছে। ভিডিওটি কে বা কখন ধারণ করেছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাউজান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিওটি তাদের হাতে এসেছে এবং এটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কোনো অপরাধীই নজরদারির বাইরে নেই। স্থানীয়দের ভাষ্য, রাউজানে বর্তমানে আতঙ্কের অন্য নাম জানে আলম। একসময় আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে ২০-৩০ জনকে নিয়ে একটি সন্ত্রাসী বলয় গড়ে তুলেছেন। অস্ত্রের মহড়া, অপহরণ, চাঁদাবাজি, জিম্মি করে স্বীকারোক্তিমূলক ভিডিও ধারণ, দখলদারি- এমন নানামুখী অপরাধ কার্যক্রমে জড়িত তিনি ও তাঁর সহযোগীরা।

পুলিশের হিসাবে, জানে আলমের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। তাঁর কাছে চারটি পুলিশি মানের বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট এবং পাহাড়তলী মোড়ের সিসিটিভি ক্যামেরার সরাসরি ফিড দেখার ব্যবস্থাও রয়েছে, যা তাঁর স্মার্টফোনে দেখা যায়।

স্থানীয় কয়েকটি পরিবার অভিযোগ করেছে, যে বাড়ি থেকে ভাইরাল ভিডিওটি ধারণ করা হয়েছে, সেই বাড়ির লোকজনের কাছে আলম ৪ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় পরিবারটিকে ঘরছাড়া হতে বাধ্য করা হয়। গ্রামবাসীর ভাষ্য- এখন শুধু অস্ত্র নয়, গোটা ইউনিয়নকে ভয়-ভীতি দেখিয়ে দখলে রাখতেই তৎপর হয়ে উঠেছেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা জানান, আলম বর্তমানে অস্ত্র ও ইয়াবা ব্যবসার পাশাপাশি পাহাড়ি চোলাই মদের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের মধ্যে রয়েছেন- মাহামুদ, রুবেল, তানুর আলম, মামুন, আসাদ, মিল্টন বড়ুয়া, উত্তম বড়ুয়া, সাগর বড়ুয়া, রোটন বড়ুয়াসহ অনেকে। এলাকাবাসীর দাবি, জানে আলমকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।

পুলিশ জানায়, ২০০৫ সালে যৌথবাহিনীর অভিযানে আলমের ভাই আজাদসহ চারজন নিহত হন। ওই সময় অল্পের জন্য বেঁচে যান আলম। অভিযানের পর একটি লাইসেন্সধারী বন্দুক নিখোঁজ হয়, যা দিয়েই পরে তাঁর অপরাধ নেটওয়ার্ক আরও বিস্তৃত হয় বলে অভিযোগ।

সূত্র অনুযায়ী, ৫ আগস্টের পর থেকেই জানে আলম প্রকাশ্যে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার শুরু করেন। পরীর দীঘির বাজারে বাইলে প্রকাশ বাইল্লে তোতাকে প্রকাশ্যে হত্যা করে আলোচনায় আসেন তিনি। পরে ৬৯ পাড়ার নূর মোহাম্মদ হাজী (প্রকাশ পোয়ান হাজী) হত্যাকাণ্ড, লাইসেন্স করা বন্দুক লুট, কাপ্তাই সড়কের জিয়ানগরে ট্রাক ডাকাতির সময় চালককে গুলি করে হত্যা, কদলপুরের জয়নগর বড়ুয়া পাড়ার মৃদুল বড়ুয়াকে হত্যা- এমন বহু ঘটনার সঙ্গে তাঁর জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া কাউখালী বেতবুনিয়ায় এক পাহাড়ি নারীকে গুলি করে হত্যা, চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদে ছিনতাই করতে গিয়ে এক হোটেল মালিককে ছুরিকাঘাতে হত্যা, রাঙ্গুনিয়া পোমরায় ডাকাতির সময় এক প্রবাসীকে গুলি করে হত্যা, রাঙ্গুনিয়া বেতাগী থেকে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও পরে মুক্তিপণ আদায়ের পর হত্যা- এসব অপরাধেও তাঁকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগীরা।

অভিযোগ রয়েছে- কদলপুরের ভোমর পাড়ার ডা. ফরিদের এক মেয়েকে অপহরণ করে রাঙ্গামাটিতে নিয়ে ধর্ষণ করে আলম। ওই মামলায় তাঁর সাজাও হয়েছিল এবং তিনি দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জানে আলম দাবি করেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও ‘প্রযুক্তি দিয়ে বানানো’। তাঁর ভাষ্য, ‘এর আগে মেয়ে দিয়ে ভিডিও বানিয়ে, কখনও অন্যভাবে ছবি বানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়ানো হয়েছে। সিসিটিভি লাগানোর টাকা আমার নেই। আমি গরিব মানুষ।’

রাউজান থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ‘অপরাধ করলে রাজনৈতিক পরিচয় যাই হোক, কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয়।’

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপারেশন অ্যান্ড ক্রাইম) সিরাজুল ইসলাম বলেন, রাউজানে বর্তমানে সাতটি গ্রুপ সক্রিয়। তাদের ধরতে নিয়মিত অভিযান চলছে। প্রায় প্রতিদিনই অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। ‘ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া ভিডিও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। কোনো অপরাধী নজরদারির বাইরে নয়।’

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে রাউজানে ১৮টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ বলছে, এসব ঘটনার বেশিরভাগই রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজির ভাগ-বাটোয়ারা ও দখলদারিকে কেন্দ্র করে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক : নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি: এমদাদ আহমেদ | প্রকাশক : প্রবাসী মাল্টিমিডিয়া কমিউনিকেশন লি.-এর পক্ষে কাজী তোফায়েল আহম্মদ | কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status