|
১০০ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() ১০০ আসনে প্রার্থী দিচ্ছে এনসিপি এনসিপির শীর্ষনেতারা জানিয়েছেন, সারা দেশের বিভিন্ন আসনে এনসিপির হয়ে নির্বাচনে প্রার্থিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন দলটির ১৪৮৪ জন নেতা। প্রায় সব আসনেই আগ্রহী প্রার্থী থাকলেও- জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করা ও নতুন ধারার রাজনীতিতে আগ্রহ, ফ্যাসীবাদ বিরোধী রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও বিশেষায়িত শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং বৈধ আয় ও আর্থিক স্বচ্ছতা এই তিন মানদণ্ডে উত্তীর্ণদেরকেই কেবল দলীয়ভাবে প্রার্থী করা হচ্ছে। দলীয় প্রার্থী নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক এবং নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী গণমাধ্যমকে বলেন, বিভিন্ন দলের চাঁদাবাজ এবং গডফাদার প্রার্থীদের তুলনায় আমরা ক্লিন ইমেজ এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করার মতো যোগ্য লোকদের প্রার্থী মনোনীত করতে কাজ করছি। আমরা যাদেরকে প্রার্থী করব তারা দলীয় প্রার্থীর চাইতেও সাধারণ জনগণের প্রার্থী হিসেবে নিজেদের প্রমাণ করবে। দলীয় প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে এনসিপির আরেক জন শীর্ষনেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন- ৩০০ আসনে প্রার্থী দেওয়ার কথা বললেও মূলত আগ্রহী মনোনয়নপ্রত্যাশীদের নির্বাচন করার মতো সক্ষমতা না থাকায় অনেককে প্রার্থী করা হচ্ছে না। আবার প্রায় দেড় হাজার মনোনয়ন ফরম বিক্রি হলেও তার প্রায় অর্ধেক নেতা সাক্ষাৎকার দিতে আসেননি। এ কারণে ১০০ আসনের বেশি প্রার্থী দিলে অনেক প্রার্থী দলীয় কমান্ডের বাইরে কাজ করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে। এই নেতা জানান, আজ সন্ধ্যায় (গতকাল শনিবার) রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকেই ১০০ আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করা হবে এবং কালই আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে। এর আগে দলটি গত ৬ নভেম্বর মনোনয়ন ফরম বিক্রি শুরু করলেও নির্ধারিত সময়সীমা ছিল ১৩ নভেম্বর। প্রথম পর্যায়ে ১০১১টি ফরম বিক্রির পর আবেদনকারীদের আগ্রহ বিবেচনায় সময় বাড়িয়ে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত করা হয়। এ সময় বিভিন্ন সংসদীয় আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা মিছিলসহ কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আসেন। ঢাক-ঢোল, ব্যান্ড পার্টি নিয়ে এসেও অনেককে ফরম কিনতে দেখা গেছে। যারা প্রার্থী হচ্ছেন এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ঢাকা-১১ থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। তবে একইসঙ্গে তিনি ঢাকা-৯ থেকেও প্রার্থী হতে পারেন বলে জানা গেছে। সদস্যসচিব আখতার হোসেন রংপুর-৪ আসন থেকে প্রার্থী হচ্ছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের দুই ছাত্র উপদেষ্টাও এনসিপির হয়েই নির্বাচনে প্রার্থিতা করবেন বলে আভাস দিয়েছেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে ঢাকা-১২ অথবা ঢাকা-১০ এবং তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলমকে লক্ষ্মীপুর-১ আসন থেকে প্রার্থী করা হবে। এ ছাড়া দলটির শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিনকে ভোলা-১, আরিফুল ইসলাম আদিবকে ঢাকা-১৪, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারাকে ঢাকা-৯, মনিরা শারমিনকে নওগাঁ-৫, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে ঢাকা-১৮, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমকে পঞ্চগড়-১, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহকে কুমিল্লা-৪ ও সিনিয়র যুগ্ম সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদকে নোয়াখালী-৬ আসন থেকে প্রার্থী করা হচ্ছে। এর মধ্যে অনেকে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণাও শুরু করেছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষারকে নরসিংদী-২, কুড়িগ্রাম-২ থেকে আতিক মুজাহিদ, যুগ্ম আহ্বায়ক আকরাম হুসেইনকে ঢাকা-১৩, যুগ্ম আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল আমিনকে নারায়ণগঞ্জ-৪, যুগ্ম সদস্যসচিব মীর আরশাদুল হককে চট্টগ্রাম-১৬, কুমিল্লা-১০ এ জয়নাল আবেদীন শিশির, ফেনী-২ আসন থেকে যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) সালেহ উদ্দিন সিফাতের প্রার্থিতা চূড়ান্ত করা হয়েছে। |
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
