ঘন মোবাইল টাওয়ার ও ইঁদুর–বাদুরের আক্রমণে হুমকিতে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী নারকেল শিল্প
এ এইচ অনিক
প্রকাশ: Thursday, 27 November, 2025, 5:06 PM
ঘন মোবাইল টাওয়ার ও ইঁদুর–বাদুরের আক্রমণে হুমকিতে বরিশালের ঐতিহ্যবাহী নারকেল শিল্প
একসময় “বাংলাদেশের নারিকেলের রাজধানী” হিসেবে খ্যাত ছিল বৃহত্তর বরিশাল। জেলার প্রতিটি গ্রামজুড়ে ঘন নারিকেল বাগান, রাস্তাজুড়ে ডাব বিক্রি—সব মিলিয়ে বরিশালের নারকেল ছিল দেশের মানুষের কাছে সুস্বাদু, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী মূল্যের জন্য ব্যাপক জনপ্রিয়। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে এ অঞ্চলের নারকেল ও ডাব উৎপাদন এখন চরম সংকটে।
বর্তমানে বরিশালের বিভিন্ন জেলা ঘুরলে নারিকেল গাছ চোখে পড়লেও তেমন ফল দেখা যায় না। একসময় ঢাকা সহ দেশের বড়ো শহরগুলোর রাস্তা, ফুটপাত ও হাসপাতালের গেটগুলোতে বরিশালের বড়ো ডাব ৫০–৬০ টাকায় পাওয়া যেত। বাজারে ঝুন নারিকেল ছিল ৩০–৪০ টাকায়। কিন্তু এখন ফলন কমে যাওয়ায় ডাবের দাম ১০০–১৫০ এমনকি ২০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ঝুন নারিকেলের দামও বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০–২০০ টাকায়।
স্থানীয় কৃষক মোঃ আব্দুস ছাত্তার হাওলাদার জানান, “আগের তুলনায় এখন ডাব ও নারিকেলের দাম তিন থেকে চার গুণ বেড়ে গেছে। গাছ আছে ঠিকই, কিন্তু ফল নেই বললেই চলে।” তিনি আরো বলেন, “আমাদের ধারণা, এলাকায় ঘন ঘন মোবাইল কোম্পানির টাওয়ার বসানো এবং ইন্টারনেটের তরঙ্গ নারিকেল গাছের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। তার সাথে ইঁদুর ও বাদুরের আক্রমণে গাছের ছোট ফলও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।”
স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, অধিকাংশ গাছেই ফলন কমে গেছে। যে কয়টি নারিকেল ধরছে, সেগুলোও ছোট থাকা অবস্থায় বাদুর বা ইঁদুর খেয়ে নষ্ট করে ফেলছে। এতে আগামীতে বরিশালে নারকেল–নির্ভর খাবার, মিষ্টান্ন, এমনকি সনাতন ধর্মীয় পূজা–পার্বণেও নারকেলের সংকট দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নারিকেল উৎপাদনের এ ভয়াবহ ধস শুধু কৃষকদের আয় কমিয়ে দিচ্ছে না, বরং বরিশালের বহু বছরের ঐতিহ্যও বিলীন হওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে। কৃষক ও স্থানীয়রা দ্রুত এ সমস্যার সমাধানে বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও সরকারি সহায়তার দাবি জানাচ্ছেন।