জাতীয় সশস্ত্রবাহিনী দিবস ২০২৫ উপলক্ষে পটুয়াখালীর বাউফলে দোয়া ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত হয়েছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক কল্যাণ সোসাইটি (অসকস) বাউফল উপজেলা শাখার আয়োজনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
দিনের শুরুতে সংগঠনের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জি. এম. ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অসকস বাউফল উপজেলা শাখার সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জি. এম. ফারুক হোসেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অসকস পটুয়াখালী জেলার সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির অর্থ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের বাউফল উপজেলা প্রার্থী মাওলানা মালেক বিন আনোয়ারি খেলাফত মজলিসের বাউফল উপজেলা প্রার্থী মাওলানা আইয়ুব বিন মুসা (ঘড়ি), গণধিকার পরিষদের প্রার্থী মোঃ হাবিবুর রহমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাউফল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রফেসর খালিদুর রহমান এবং অসকস বাউফল উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন।
অসকস পটুয়াখালী জেলার সভাপতি অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় সশস্ত্রবাহিনীর বীরত্ব, আত্মত্যাগ ও দেশের প্রতি অটল আনুগত্যের কথা তুলে ধরেন।
বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের জেলা শাখার সহ-সভাপতি মাওলানা আইয়ুব বিন মুসা ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ এবং ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরায়েল “ছয় দিনের যুদ্ধ”-এ অংশগ্রহণকারী বিশ্বখ্যাত বাঙালি পাইলট গ্রুপ ক্যাপ্টেন সাইফুল আজমের আন্তর্জাতিক অবদান স্মরণ করেন। তিনি জানান, ঐ যুদ্ধে অংশ নিয়ে জর্ডান, পাকিস্তান ও ইরাক সরকারের পক্ষ থেকে তিনি একাধিক সামরিক সম্মাননা অর্জন করেছিলেন, যা মধ্যপ্রাচ্যে এখনো গর্বের সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
সভাপতি সার্জেন্ট জি. এম. ফারুক হোসেন বলেন, অসকস একটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন। এখানে ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয়ের কোনো স্থান নেই। অবসরপ্রাপ্ত সৈনিকদের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বিশ্বে আর কোনো দেশ নেই যেখানে মাত্র নয় মাসের যুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনী ও সাধারণ জনগণ একসঙ্গে স্বাধীনতা অর্জন করেছে এটাই আমাদের দেশের সর্বোচ্চ গৌরব।
অনুষ্ঠানে বাউফলের স্থানীয় সাংবাদিকরাও উপস্থিত ছিলেন। সারাদিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশপ্রেম, সশস্ত্রবাহিনীর প্রতি শ্রদ্ধা ও জাতীয় চেতনায় নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হয়।