গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্রজনতার আন্দোলনে নিহত এক শিক্ষার্থীর লাশ উত্তোলন করা হয়েছে কবর থেকে। বুধবার (৮জানুয়ারি) সকাল ১০টায় মহানগরীর গাছা মেট্রো থানার গাছা সড়কের কুনিয়া মির্জাবাড়ী সড়কের পাশে কুনিয়া উত্তরপাড়া ওয়াকফ স্টেট কবরস্থান থেকে নিহতের লাশ উত্তোলোন শুরু করা হয়। এসময় স্থানীয় উৎসুক জনতার ভিড় সামলাতে হিমশিমে পড়তে হয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যদের।
নির্বাহী মেজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যদের উপস্থীতিতে আদালতের নির্দেশে বেলা পৌনে ১টায় কবর থেকে নিহতের লাশ উত্তোলন করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় নিহতের মরদেহ।
নিহত ব্যাক্তি হলেন হৃদয় ইসলাম (১৪), তিনি ময়মনসিংহের ত্রিশাল থানার গণ্ডখোলা গ্রামের সুলতান মিয়া ও সাজেদা বেগম দম্পতির ছেলে। তিনি পরিবারের সাথে পিতামাতা ও বড় ভাইয়ের সাথে যৌথ পরিবারে গাজীপুর মহানগরীর গাছা মেট্রো থানার কুনিয়া জামাল মার্কেট এলাকায় ভাড়াকৃত বাসায় দীর্ঘ দেড়যুগ ধরে বসবাস করতেন।
হৃদয় পড়াশোনার পাশাপাশি মালবাহী ট্রাকের সহযোগী হিসেবে কাজ করে পরিবারের জিবিকার যোগানে সহায়তা করতেন।
স্থানীয় প্রতিবেশি, নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা জানান, হৃদয় গত বছরের ২০জুলাই ছাত্রজনতার আন্দোলনে অংশ নিতে গাছা সড়কের মূল ফটকে মহাসড়কে যায়। সেখানে একপর্যায়ে পুলিশের ছোড়া গুলিতে নিহত হয় হৃদয়। স্থানীয় ও স্বজনরা এ হত্যাকাণ্ডের সুস্থ তদন্ত পূর্বক বিচার প্রত্যাশা করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী মেজিস্ট্রেট অব্রজোতী বড়াল বলেন, "আদালতের নির্দেশে বৈশম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত হৃদয়ের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। নিহতের লাশ শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের সুরতহাল নমূনা সংগ্রহ করে আজ সন্ধ্যার মধ্যে লাশ ফের কবরস্থ করা হবে দ্রুত।"