|
লিবিয়ায় অপহরণের শিকার চার যুবক দেশে ফিরে দিলেন ভয়ঙ্কর বর্ণনা!
নতুন সময় প্রতিবেদক
|
![]() লিবিয়ায় অপহরণের শিকার চার যুবক দেশে ফিরে দিলেন ভয়ঙ্কর বর্ণনা! জানা যায়, লালমনিরহাটের পঞ্চগ্রাম ইউনিয়নের লিবিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে এ চার যুবক অপহরণ হয়। এরপর পরিবারের কাছে বাংলাদেশি দুটি বিকাশ নাম্বার দিয়ে দাবি করা হয় পাঁচ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ। পরে টাকা না পাওয়ায় তাদের ওপর শুরু হয় নির্যাতন। এক পর্যায়ে অপহরণকারীরা তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। পরে খবর পেয়ে লিবিয়ার সেনা সদস্যরা তাদের উদ্ধার করেন এবং সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে চার বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠান। আর দেশে ফিরে তারা অপহরণের সেই ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতার কথা বর্ণনা করেন। লিবিয়ায় জিম্মি হওয়া লালমনিরহাট পঞ্চগ্রামের আল-আমিন মিয়া (২৩) জানান, পহেলা রমজানের আগের দিবাগত (১১ মার্চ) রাত আনুমানিক ২টার দিকে ঘরের দরজা খোলার জন্য ডাক দেয়া হয় তাদের। এ সময় তিনি দরজা খোলা মাত্র দুজন ব্যক্তি তার মাথায় পিস্তল ধরে। এরপর ঘরের ভেতরে থাকা মোবাইল, ল্যাপটপ ও টাকা নিয়ে নেন তারা। পরে লাইন করে দাঁড় করিয়ে সবাইকে একটি গাড়িতে তোলা হয়। গাড়িতে উঠার সময় আল-আমিন মিয়া দেখেন অপহরণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের এলাকার লিবিয়া প্রবাসী মিজানুর রহমান। তাই তিনি মিজানকে ডাক দিলে পেছন দিক থেকে বন্দুক দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়। পরে কালো কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে দুহাত বাঁধা হয় তার। অপহরণের শিকার লালমনিরহাটের একই এলাকার লিবিয়া প্রবাসী রাকিবুল ইসলাম (২৪) জানান, তাদেরকে অপহরণের পর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে বাংলাদেশি দুটি বিকাশ নম্বর দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা করে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এরপর থেকেই শুরু হয় অমানবিক নির্যাতন। এক পর্যায় লিবিয়ার সেনা সদস্যরা তাদেরকে উদ্ধার করেন। এরপর লিবিয়ার একটি কারাগারে ৭৫ দিন তাদেরকে রাখা হয়। পরে আরও একটি কারাগারে ১৭ দিন রেখে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদেরকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়। কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার আল আমিন (২২) বলেন, ‘অপহরণের পর কথায় কথায় একটি পাইপ দিয়ে আমাদের পায়ের তালুতে মারা হতো। আমাদেরকে ভয়ঙ্করভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমি আর বিদেশ যেতে চাই না। দেশেই কিছু করে বাঁচতে চাই।’ তাদের অভিভাবকরা জানান, সন্তানদের ফিরে পাবেন কখনো ভাবতেই পারেননি তারা। আর যখন ফিরে পেয়েছেন, তখন আর কখনোই পাঠাবেন না বিদেশে। প্রয়োজনে দেশে দিনমজুরি করবে, তবু বিদেশে আর নয়। সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) লালমনিরহাট জেলা শাখার সহ-সভাপতি সুপেন্দ্র নাথ দত্ত বলেন, বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় বিদেশ যাওয়ায় অনেক বাংলাদেশি বিদেশে গিয়ে নানা সমস্যায় পড়ছেন। তাই কর্মসংস্থানের জন্য কেউ বিদেশ গেলে সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া উচিত।
|
| পূর্ববর্তী সংবাদ | পরবর্তী সংবাদ |
