ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২৪ জুন ২০২৪ ১০ আষাঢ় ১৪৩১
য‌শোর থে‌কে হা‌রি‌য়ে যে‌তে ব‌সে‌ছে গ্রাম বাংলার ঐ‌তিহ‌্যবাহী ঘু‌ড়ি শিল্প
জুবা‌য়ের হো‌সেন, য‌শোর
প্রকাশ: Wednesday, 29 May, 2024, 5:48 PM

য‌শোর থে‌কে হা‌রি‌য়ে যে‌তে ব‌সে‌ছে গ্রাম বাংলার ঐ‌তিহ‌্যবাহী ঘু‌ড়ি শিল্প

য‌শোর থে‌কে হা‌রি‌য়ে যে‌তে ব‌সে‌ছে গ্রাম বাংলার ঐ‌তিহ‌্যবাহী ঘু‌ড়ি শিল্প

ঘু‌ড়ি গ্রাম বাংলার এক প্রাচীন খেলনা শি‌ল্পের নাম। বাংলা বৈশাখ মা‌সে গ্রা‌মের মা‌ঠে মা‌ঠে ধান কাটা শেষ হ‌লে শরতের সাদা নীল আকাশে ‌শিশু কি‌শোররা মে‌তে উঠত ঘু‌ড়ি উড়া‌নো নি‌য়ে। ঘু‌ড়ির পিং পিং আওয়া‌জে গ্রাম বাংলার আকাশকে মা‌তি‌য়ে রাখত। পেজা মেঘ আছে আর রঙ-বেরঙের ঘুড়ি নেই দৃশ্যটা মনে হয় বাংলাদেশের জন্য বড্ড বেমানান ছিল।

এদেশে এমন একজন মানুষ খুঁজে পাওয়া মুশকিল যিনি একবারের জন্যও নাটাই আর ঘুড়ি হাতে নেন নি। তাইতো প্রতি‌যো‌গিতা হত কে কত বড় কত সুন্দর ডিজাইনের ঘু‌ড়ি তৈ‌রি কর‌তে পা‌রে। এ কা‌জে বড়রাও ছোট‌দের সহ‌যো‌গিতা করত।

কিন্তু এখনকার প্রজন্মরা এ শিল্প‌কে প্রায় ভু‌লে যে‌তে ব‌সে‌ছে। বর্তমান প্রজন্মের শিশু কি‌শোররা মে‌তে আ‌ছে মোবাইল ফে‌ান আর গে‌মের আস‌ক্তি‌তে।

ঘুড়ি যে শুধু এদেশের মানুষের আনন্দের অন্যতম উৎস ছিল তা কিন্তু নয়। এটি জড়িয়ে আছে আমাদের সংস্কৃতির অনুষঙ্গ হিসেবেও।

তথ‌্যসূত্র বল‌ছে, ঘুড়ির ইতিহাস বহু প্রাচীন। মানুষ প্রথম গাছের পাতা দিয়ে ঘুড়ি তৈরি করে। অবশ্য কোন দেশের আকাশে প্রথম ঘুড়ি উড়েছিল তা নিয়ে রয়েছে বিস্তর তর্ক-বিতর্ক। ধারণা করা হয়, দক্ষিণ এশিয়ার আকাশেই সর্বপ্রথম উড়েছিল।

ই‌তিহাস বল‌ছে, প্রায় ২ হাজার ৮০০ বছর পূর্বে চীন দেশে সর্বপ্রথম ঘুড়ির উৎপত্তি ঘটেছে। পরবর্তীকালে এটি এশিয়ার অন্যান্য দেশ - বাংলাদেশ, ভারত, জাপান এবং কোরিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এছাড়াও, ইউরোপে ঘুড়ি খেলাটির প্রচলন ঘটে প্রায় ১ হাজার ৬০০ বছর পূর্বে।

বলা হয়ে থাকে যে, এক সময় পলিনেশীয় নাবিকদের দ্বারা এই ঘুড়ি এশিয়া থেকে ছড়িয়ে পড়ে অন্যান্য মহাদেশেও।  ৪শ’ খ্রিস্টপূর্বাব্দে গ্রিসে প্রথম ঘুড়ি ওড়ানোর দাবি করেন বিজ্ঞানী আরকিয়াতাস। আবার গ্রিসেরও অনেক আগে থেকে সেই ৩ হাজার বছর আগে চীনারা প্রথম ঘুড়ি উড়িয়েছে বলে দাবি করে।

তবে যেই এর আবিষ্কারক হোক না কেন নাটাই হাতে পেলে এটি ওড়ানোর মজা এখন বিশ্বজনীন।
ঘুড়ির দুনিয়া আজকের পৃথিবীতে প্রায় সব দেশেই ঘুড়ি ওড়ানোর কম‌বে‌শি প্রচলন রয়েছে।

পুরানো ঢাকায় হাকরাইন নামে ঘুড়ি ওড়ানো উৎসব বিপুল জনপ্রিয়। আমা‌দেন দে‌শেও মদনা, আউক্কা, পতেঙ্গা, চং, সাপা, গোয়া ইত্যাদি না‌মে ঘু‌ড়ি র‌য়ে‌ছে। এখনো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঘুড়ির সুতায় মাঞ্জা দেওয়া নিয়ে আনন্দ হয়।

কাটাকাটির খেলাঘুড়ি ওড়ানোর মধ্যেই খেলা কিন্তু থেমে থাকেনি। এর আসল মজা হলো কাটাকাটির খেলা। অন্যের ঘুড়িকে কেটে দেয়ার আনন্দ উত্তেজনা কেবল ঘুড়িয়ালরাই টের পান। ঘুড়ির সুতা ধারালো করতে আমাদের দেশে মাঞ্জা দেওয়া হয়।সাধারণত ভাতের মাড়, সাগু গোলা, কাচের গুঁড়ার মিশ্রণের মধ্যে সুতাকে ডুবিয়ে রোদে শুকিয়ে ধারালো করা হয়। তারপর সেই মাঞ্জা দেওয়া ধারালো সুতা নিয়ে ঘুড়িয়ালরা নেমে পড়ে তাদের আকাশযুদ্ধ কাটাকাটির মিশনে। একটি ঘুড়ি কাটা পড়লে তার পেছনে ছুটতে শুরু করে ছোট্ট ছেলেরা। মাঠ ঘাট পেরিয়ে ওই কাটা ঘুড়ি হাতে পাওয়ার পরই যেন তাদের সান্ত্বনা।

কিন্তু সম‌য়ের ব‌্যবধা‌নের কা‌লের প‌রিক্রমায় আধনু‌কিতার ছোঁয়ায় বাংলার অন‌্যান‌্য গ্রামীণ জনপ‌দের মত য‌শোর জেলার বি‌ভিন্ন অঞ্চল থে‌কে হা‌রি‌য়ে যে‌তে ব‌সে‌ছে ঐ‌তিহ‌্যবাহী প্রাচীন এ শিল্প‌টি।

সুধী মহ‌লের দাবী ঘু‌ড়ি শিল্প‌কে টি‌কি‌য়ে রাখ‌তে সরকারসহ স‌চেতন মহ‌লের লোকজন আশু পদক্ষেপ গ্রহণ কর‌লে এ শিল্প‌কে পুণরায় ফি‌রি‌য়ে আনা সম্ভব।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status