ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ১৪ জুলাই ২০২৪ ২৯ আষাঢ় ১৪৩১
হীরামন্ডি, অতিষ্ট জনগণ ও লন্ডনের পলিটিক্যাল নবাব
সালাহ্ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরী
প্রকাশ: Saturday, 25 May, 2024, 2:02 PM
সর্বশেষ আপডেট: Saturday, 25 May, 2024, 4:34 PM

হীরামন্ডি, অতিষ্ট জনগণ ও লন্ডনের পলিটিক্যাল নবাব

হীরামন্ডি, অতিষ্ট জনগণ ও লন্ডনের পলিটিক্যাল নবাব

কাজের শত ব্যস্ততার মাঝেও রাতে অন্তত নেটফ্লিক্সে একটা সিনেমা, প্রায়শই ফাষ্ট ফরোয়ার্ড করে হলেও দেখে ঘুমোতে যাই। বেশ ক'মাস ধরেই লক্ষ্য করছি, আন্তর্জাতিক এই ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নতুন কন্টেন্ট তেমন একটা তোলা হয়না। বরং নতুন যে কন্টেন্টগুলো উঠছে, এর বড় একটা অংশই ভারতীয় সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ। গল্পের প্রায় একই ধাঁচের ঘ্যানর-ঘ্যানরের কারণে ভারতীয় এসব কন্টেন্ট আমায় টানেনা একদম। কিন্তু গতরাতে সঞ্জয় লীলা বানসালির 'হীরামন্ডি' ওয়েব সিরিজটা ফাষ্ট ফরওয়ার্ড করে দেখলাম।

গতকাল চোখে পড়লো পত্রিকার কয়েকটা শিরোনাম। চামেলী নামের ক্ষমতাবান এক নারীকে "সাময়িক বহিষ্কার" করা হয়েছে। যেকোনো ঘটনা ধামাচাপা দিতে কিংবা বিব্রতকর কোনো পরিস্থিতি এড়াতে এই সাময়িক বহিষ্কার কিংবা বরখাস্ত সংস্কৃতি আমাদের সমাজে বহুদিন থেকেই চলছে। গণমাধ্যম কিংবা জনগণের দৃষ্টি অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিতে এই সংস্কৃতির জুড়ি নেই।  

আমাদের এই দেশে চামেলী গোছের চরিত্রের আনাগোনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। বহুযুগ আগে থেকেই এসব চলছে। আশির দশকে সামরিক শাসক হোসেন মুহাম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখলের পর ওনার চারপাশে অসংখ্য "চামেলী"র আনাগোনা ছিলো। ব্যাংকার চৌধুরী বদরুদ্দিনের স্ত্রী থেকে শুরু করে অনেকের স্ত্রীকেই তিনি ক্ষমতার জোরে ছিনিয়ে নিয়ে নিজের রক্ষিতা করেছেন। আবার অনেক নারী এমনকি বিনোদন জগতের নামকরা কেউকেউ নিজেদের ইচ্ছাতেই এরশাদের সান্নিধ্যের স্বাদ চেখে বিত্তবান হয়েছেন। ঢাকার অভিজাত এলাকায় প্লট পেয়েছেন - বিদেশেও সম্পদ গড়েছেন। যদিও জেনারেল এরশাদের বিরুদ্ধে বিদেশে টাকা পাচার কিংবা সেখানে সম্পদ গড়ার কোনো প্রমাণ আজ অব্দি কেউ পায়নি। লিবিয়ার গাদ্দাফি থেকে শুরু করে ইরাকের সাদ্দাম হোসেন, এমনকি মধ্যপ্রাচ্যের প্রায় সব শাসকের সাথেই জেনারেল এরশাদের দারুণ সখ্যতা ছিলো। ওনারা সবাই এরশাদকে ইসলামের বন্ধু এবং বাংলাদেশের মতো সেক্যুলার রাষ্ট্রকে ইসলামী রাষ্ট্রে পরিণত করার সিপাহসালার গণ্য করতেন। এরশাদ এক্ষেত্রে বেশকিছু পদক্ষেপও নিয়েছেন। যেমন, ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে প্রতিষ্ঠা, রবিবারের বদলে শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি ইত্যাদি। কোনো অনারব মুসলিম রাষ্ট্র তখনও শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির সিদ্ধান্ত নেয়ার সাহস করেনি। কারণ, পশ্চিমা নিয়ন্ত্রিত বিশ্ব ব্যবস্থায় রবিবার দিনটাই সাপ্তাহিক ছুটি হিসেবে গণ্য হয় আসছে যুগের-পর-যুগ। এরশাদ সাহেবের ব্যক্তিগত জীবনে "চামেলী"-দের আনাগোনা না থাকলে ওনাকেই হয়তো বাংলাদেশের মানুষও ইসলামের সিপাহসালার হিসেবেই মেনে নিতেন। 

আরব দেশের রাজা-বাদশাহ, যারা নিজেদের ইসলামের সেবক হিসেবেই প্রচারে ব্যস্ত ওনাদের প্রায় সবার জীবনেও নারীঘটিত কাজকারবার প্রায় প্রকাশ্যেই চলে। ওনারা পশ্চিমা দেশগুলোয় শতশত কোটি টাকা খরচ করে বিলাসী প্রাসাদ গড়েন। ওসব দেশে পা রাখার পর ওনাদের পরিবারের নারী সদস্যরা হিজাব-বোরকা ছুঁড়ে ফেলে পশ্চিমা কালচারের গা ভাসিয়ে দেন। পশ্চিমা দেশে আরব শাসকদের একেকটা বিলাসী মহল যেনো ঠিক হীরমন্ডিরই আধুনিক সংস্করণ।  

সঞ্জয় লীলা বানসালির 'হীরামন্ডি" ওয়েব সিরিজের খুব কৌশলে কিছু বিষয় দেখিয়েছেন। ওসব জায়গার সব নারী মুসলমান। ওনাদের খদ্দেররাও বিত্তবান মুসলিম নবাব, যারা বাহ্যত ব্রিটিশদের তাবেদার। এই ওয়েব সিরিজের প্রেক্ষাপট অবিভক্ত লাহোর। ওই হীরামন্ডিতে ব্রিটিশরাও যেতো, কিন্তু অমুসলিম কেউ যেতো না। অন্তত এই ওয়েব সিরিজের বার্তা এমনটাই। আরেকটা বিষয় দেখানো হয়েছে। হীরামন্ডির মুসলমান রক্ষিতাদের নবাবপত্নীরাও সম্মান করতেন। পরিবারগুলোর যুবকদের ওখানে পাঠানো হতো আদব-কায়দা শিখতে, নারীদের সম্মান করতে শিখতে। তারমানে, মুসলমান নবাব পরিবারগুলোয় রক্ষিতা, হীরামন্ডি, মদ ইত্যাদি খুব স্বাভাবিক বিষয় ছিলো। কারণ, ব্রিটিশদের সাথে ওঠা-বসার কারণে ওনাদের মাঝেও ওসব পশ্চিমা সংস্কৃতির সংক্রমণ ঘটে। 

এখন আর নবাবী যুগও নেই, ব্রিটিশ শাসকরাও নেই। ব্রিটিশের গোলামীর শেকল থেকে আমরা মুক্ত হয়েছি বহু যুগ আগেই। এরই মাঝে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জন করেছি স্বাধীন বাংলাদেশ। তারপরও, আমাদের সমাজে যারা নিজেদের অসাধারণ ভাবেন এবং বাকি সবাইকে সাধারণ জনগণ, ওই স্বঘোষিত এলিট শ্রেণী বা রাজনীতিবিদদের মাঝে আজও নবাবী ভাব আর খায়েশ অব্যাহত আছে। এই তো মাত্র কয়েক বছর আগেই

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status