ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ৯ বৈশাখ ১৪৩১
ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তপ্ত আনন্দমোহন কলেজ
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Sunday, 31 March, 2024, 1:24 PM

ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তপ্ত আনন্দমোহন কলেজ

ছাত্রলীগের ২ গ্রুপে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, উত্তপ্ত আনন্দমোহন কলেজ

ময়মনসিংহে আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। গত দুই দিনে তিন দফা হামলা, মারপিট, ভাংচুর, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণে চারজন আহত হয়েছেন। ক্যাম্পাসে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ।

গতকাল শনিবার ৩০ মার্চ, রাত সাড়ে ৮ টার দিকে নগরীর কলেজ রোড় ও মীরবাড়ী এলাকায় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, হামলা, ভাংচুর, গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখ সজল বলেন, গত (২৯ মার্চ) আনন্দমোহন কলেজের পল্লী কবি জসীম উদ্দিন হলের ছেলেদের মধ্যে সামান্য ঝামেলা হয়। ওই ঘটনার জেরে শনিবার (৩০ মার্চ) নাজমুলের নেতৃত্বে রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমাদের বাসার দরজা, জানালা, গেটে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে আমার একটি দোকান লুট করে। এসময় নাজমুল ও তার লোকজন গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণ করেছে।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, রাত সাড়ে ৮টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা শেখ সজলের দোকান ও তাদের বাড়িতে হামলা করে নাজমুল ও তার লোকজন। তবে, কোনো গুলি ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা বা কেউ আহত হয়নি।

আনন্দ মোহন ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুল হোসেন বলেন, ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদ হোসেন রানা, আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখ সজলসহ বহিরাগত অজ্ঞাতনামা ৩৫ থেকে ৪০ জন প্রায়ই আবাসিক হলে এসে বিভিন্ন অপকর্ম করার চেষ্টা করতেন। আমিসহ আবাসিক হলে থাকা সাধারণ শিক্ষার্থীরা তাদের এসব অপকর্মে বাধা দিলে তাদের সঙ্গে শত্রুতার সৃষ্টি হয়।

এ বিরোধের জেরে গত শুক্রবার (২৯ মার্চ) বিকেল ৪টার দিকে অন্তত ৩৫ থেকে ৪০ জন পূর্ব পরিকল্পিতভাবে পল্লী কবি জসীম উদ্দিন আবাসিক হলের ৩০৫ নম্বর রুমে প্রবেশ করে আমার সহপাঠি জুয়েল হাসান, নাজমুল হাসান, নাঈমদের পেয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং বলে আমাদের কথামতো না চললে হল থেকে বের করে দেবে। আমার সহকর্মী জুয়েল হাসান এসবের প্রতিবাদ করলে তাকে মারপিট করে। মারপিট করার একপর্যায়ে চাকু দিয়ে জুয়েল হাসানকে হত্যার উদ্দেশ্যে বাম চোখ লক্ষ্য করে ছুরিকাঘাত করে। এতে সে রক্তাক্ত জখম হয়। পরে তার চিৎকারে অন্যান্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে তারা চলে যায়। আহত জুয়েল হাসানকে দ্রুত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ১৮ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করেন।

পরবর্তীতে ওই দিন বিকাল সোয়া ৫টার দিকে আবার তারা আনন্দমোহন কলেজের একই হলে প্রবেশ করে আমার কক্ষে এক লক্ষ টাকার জিনিসপত্র ভাংচুর করে। এসময় আমার ট্রাংকে থাকা নগদ ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এসময় মইনুল ইসলাম ঢালী বাধা দিতে গেলে চাপাতি দিয়ে কোপ দেয়। কোপ ফেরাতে গিয়ে ঢালীর ডান চোখে লেগে গুরুতর আহত হয়। এ সময় মুরাদ নামে আরও একজনকে কুপিয়ে ডান হাতের আঙ্গুল কেটে ফেলে।

ছাত্রলীগ নেতা নাজমুল হোসেন দাবি করেন, শনিবার রাতে আমি ক্যাম্পাসে ছিলাম না। এই হামলা বা ভাংচুরের ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। মামলা থেকে বাঁচতে এটা তাদের সাজানো নাটক।

নাজমুল আরও বলেন, এই ঘটনায় ওইদিন রাতে ১২ জনকে আসামি করে কোতোয়ালী মডেল থানায় অভিযোগ দায়ের করি।

জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির বলেন, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আল আমিনের দেওয়া কয়েকটি কমিটি অবৈধ। এসব অবৈধ কমিটির বিষয়ে আমার কিছু বলার নেই।

জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোহাম্মদ আল আমিন বলেন, নাজমুল নামের একটা ছেলে আছে। তার লোকজন নিয়ে শেখ সজলের দোকান ও বাড়ি ঘরে হামলা করেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের প্রক্রিয়াধীন।

ওসি মোহাম্মদ মাইন উদ্দিন বলেন, শুক্রবারের ঘটনায় নাজমুল বাদী আনন্দমোহন কলেজ ছাত্রলীগের আহ্বায়ক শেখ সজলসহ ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status