ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ৯ বৈশাখ ১৪৩১
‌চৌগ‌াছায় ক্ষুরা‌রো‌গে একই গ্রা‌মে ২০টি সহ শতা‌ধিক গরুর মৃত‌্যু আত‌ঙ্কিত গ্রামবাসী
জুবা‌য়ের হো‌সেন, য‌শোর
প্রকাশ: Saturday, 30 March, 2024, 9:28 PM

‌চৌগ‌াছায় ক্ষুরা‌রো‌গে একই গ্রা‌মে ২০টি সহ শতা‌ধিক গরুর মৃত‌্যু আত‌ঙ্কিত গ্রামবাসী

‌চৌগ‌াছায় ক্ষুরা‌রো‌গে একই গ্রা‌মে ২০টি সহ শতা‌ধিক গরুর মৃত‌্যু আত‌ঙ্কিত গ্রামবাসী

য‌শো‌রের চৌগাছা উপ‌জেলার পাশা‌পোল ইউ‌নিয়‌নের বাড়ীয়‌ালী গ্রা‌মে গত ২০ দি‌নে ক্ষুরা‌ রো‌গে আক্রন্ত হ‌য়ে অন্তত ২০ গরুর মৃত‌্যুর ঘটনা ঘ‌টে‌ছে ব‌লে দা‌বি গ্রামবাসীর।

সর্ব‌শেষ শ‌নিবার ৩০ মার্চ, বাড়ীয়ালী গ্রা‌মের মৃত দিদার ব‌ক্সের ছে‌লে ম‌তিয়ার রহমা‌নের ২ মি‌নি‌টের ব‌্যবধা‌নে দু‌টি এ‌ড়ে গরু মৃত‌্যুবরণ ক‌রে।

গরু দু‌টির আনুমা‌নিক বাজার মূল‌্য প্রায় তিন লক্ষ টাকা। এর ফ‌লে আত‌ঙ্কিত হ‌য়ে প‌ড়ে‌ছে গ্রামবাসী।
তা‌দের অ‌ভি‌যোগ উপ‌জেলায় প্রাণীসম্পদ অ‌ফিস থাক‌লেও তারা কখ‌নো এ বিষ‌য়ে স‌চেতনতামূলক কোন পরমর্শ বা প্রতি‌রোধমূলক কোন ব‌্যবস্থা গ্রহণ ক‌রে‌নি।

ফ‌লে প্রাণীসম্পদের কর্মকর্তা‌দের দা‌য়ি‌ত্বের অব‌হেলার অ‌ভি‌যোগ উ‌ঠে‌ছে।

এ বিষ‌য়ে ম‌তিয়ার রহমা‌নের ভা‌তিজা মোঃ টিটন হো‌সেন জানান, রো‌গের লক্ষণ হি‌সে‌বে গরুর পা‌য়ের ক্ষু‌রের ম‌ধ্যে ঘা ও মুখ দি‌য়ে লালা ঝর‌ছে এরপর একসময় গরুগু‌লো মৃত‌্যুর‌কো‌লে ঢ‌লে পড়‌ছে।

এ বিষ‌য়ে গ্রা‌মের লোকজন উপ‌জেলা প্রাণীসম্পাদ অ‌ফি‌সে যোগা‌যোগ করে‌ছে কিনা জান‌তে চাই‌লে তারা জানান, প্রাণীম্পদ অ‌ফি‌সে যোগা‌যোগ ক‌রে‌নি। তারা স্থানীয় গ্রাম‌্য পশু ডাক্তা‌রের মাধ‌্যমে প্রাথ‌মিক চি‌কিৎসা ক‌রি‌য়ে‌ছেন।

সূ‌ত্রে জানা গে‌ছে গত তিন সপ্তা‌হে উপজেলার বি‌ভিন্ন গ্রা‌মে প্রায় শতা‌ধিক গরু এ রো‌গে আক্রান্ত হ‌য়ে মারা গে‌ছে।
আর আক্রান্ত হয়েছে কৃষক ও বিভিন্ন খামারের পাঁচ হাজারের অধিক গরু।

এলাকার প্রাণী চিকিৎসকদের (পল্লী পশুচিকিৎসক) পরামর্শে ভ্যাকসিন, টিকা ও ওষুধ ব্যবহার করেও খুরা রোগটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এলাকার গরু-ছাগল পালনকারী কৃষক ও খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, ভ্যাকসিন-ওষুধেও কাজ হচ্ছে না। বিষয়টি তাদের ভাবিয়ে তুলেছে। পরীক্ষা নিরীক্ষা করে চিকিৎসা চলছে। ইতোমধ্যে আক্রান্ত গরুর ভ্যাকসিন, টিকা ও ওষুধ পুশ করা হয়েছে। তাদের ধারণা এটি ক্ষুরা রোগের নতুন ধরণ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, এ উপজেলায় খামার রয়েছে দুই হাজার ৩০৪টি। খামার মালিক ও কৃষকদের প্রায় এক লাখ ২৫ হাজার গরু রয়েছে। গত তিন সপ্তাহ আগে উপজেলায় গরুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।

অতিসম্প্রতি এ রোগে পুড়াপাড়া এলাকার আবুল  হোসেনের ১টি, লাল চাদের ১টি ও বাবলুর রহমানের ১টি, পাতিবিলার রিতা ডেইরি ফার্মে ২টি, আরাধনের ১টি, সঞ্চজয় ঘোসের ২টি, নারায়ণপুর ইউনিয়নের বুন্দলীতলা গ্রামের তরিকুল ইসলামের ১টি ও একই গ্রামের সাইফুল ইসলামের ১টি, চাঁদপাড়া গ্রামের আবু ছার হোসেনের ১টি ও বুলু রহমানের ১টিসহ এই উপজেলায় অর্ধশত গরু ক্ষুরা রোগে মারা গেছে। মারা যাওয়া প্রত্যেকটি গরুর বাজার মূল্য ৮০ হাজার থেকে দুই লাখ টাকা। সেই হিসেবে গত কয়েকদিনে প্রায় কোটি টাকার গরু মারা গেছে। এদিকে চাঁদপাড়া গ্রামের আলী হোসেনের ২টি, আবু সালামের ১টিসহ উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের শতাধিক ছাগল মারা গেছে।

এ বিষয়ে একাধিক কৃষক ও ডেইরি ফার্ম মালিকদের অভিযোগ, চৌগাছা প্রাণিসম্পদ অফিসের কাউকে গ্রামে আসতে দেখা যায় না। এমনকি গরু-ছাগলের ফার্ম মালিকরা তাদের চেনেও না। কোনো ব্যক্তি গরু-ছাগলের চিকিৎসা নিতে উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে গেলে তাদের সাথে ব্যাপক খারাপ আচারণ করাও অভিযোগ রয়েছে। সরকার প্রাণিসম্পাদ উন্নয়নে নানামুখী কর্মসূচি গ্রহণ করলেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কর্মকর্তাদের গড়িমসির ফলে তা মাঠে মারা যাচ্ছে। সরকারের কোটি টাকা ব্যয় হলেও কোনো সুবিধা পাচ্ছে না কৃষক ও গরু-ছাগল ফার্ম মালিকরা।

সিংহঝুলী গ্রামের ফার্ম মালিক টাইফুর রহমান টাইম হোসেন বলেন, আমার খামারের খুরা রোগ আক্রান্ত গরু নিয়ে দুশ্চিন্তায় মধ্যে আছি। ভ্যাকসিনসহ ওষুধ দিয়েছি, তবে কোনো কিছুতেই কাজ হচ্ছে না। ফার্মের সব গরু বিক্রি করে দেওয়ার কথা ভাবছি। তিনি আরো বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের কোনো লোক আমার ফার্মে আসেন না। বারবার যোগাযোগ করেও লাভ হয়নি। প্রাণিসম্পদ বিভাগের লোকজন এসে আক্রান্ত গরুগুলোর চিকিৎসা দিলে হয়তো এ যাত্রা রক্ষা পেতাম।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল কবির বলেন, রোগের প্রতিষেধক হিসেবে ভ্যাকসিন দেয়া হচ্ছে। মানুষের মধ্যে জনসচেতনতা সৃষ্টি, উঠান বৈঠক ও মেডিক্যাল ক্যাম্প করে রোগ প্রতিকার সম্পর্কে অবগত করা হচ্ছে। সাধারণত এফএমডি বা ক্ষুরা রোগের ধরন রয়েছে দুটি। ধারণা করা হচ্ছে, এ উপজেলায় আক্রান্ত রোগটি ক্ষুরা রোগের নতুন ধরণ। আশা করা হচ্ছে, আগামী দু সপ্তাহের মধ্যে খুরা রোগটি কিছুটা কমে আসবে। তিনি বলেন লোকবল কম থাকাই মানুষের কাঙ্খিত সেবা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status