ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
সোমবার ২২ এপ্রিল ২০২৪ ৯ বৈশাখ ১৪৩১
৬৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, জীবিত উদ্ধার হয়নি কেউ
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 26 March, 2024, 1:30 AM

৬৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, জীবিত উদ্ধার হয়নি কেউ

৬৫ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান, জীবিত উদ্ধার হয়নি কেউ

কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা নদীতে পর্যটকবাহী ট্রলার ডুবির ঘটনায় সমাপ্ত হয়েছে ৬৫ ঘণ্টার শ্বাসরুদ্ধকর অভিযান। এ অভিযানে নিখোঁজ ৮ জন সকলেরই মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় নিহত মোট ৯ জনের মধ্যে রয়েছে ভৈরব হাইওয়ে থানার কনস্টেবল সোহেল রানা, তার স্ত্রী ও তাদের দুই শিশু সন্তান। নিহত অন্যরা হলো ভৈরব পৌর শহরের আমলাপাড়া এলাকার ঝন্টু দে’র স্ত্রী রুপা দে, তার ভাই টুটন দে’র মেয়ে আরাধ্য ও ভগ্নিপতি বেলন দে, নরসিংদী জেলার বেলাব থানার দড়িকান্দি এলাকার দারু মিয়ার কন্যা আনিকা আক্তার, ভৈরব পৌর শহরের কমলপুর এলাকার সুবর্না বেগম।

ট্রলারে পর্যটকের পরনে লাইফ জ্যাকেট থাকলে সকলকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হতো, বলছে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। ঘটনা সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস নৌ পুলিশ সুপারের।

গত শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সোমবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ৬৫ ঘণ্টার টানা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর ডুবে যাওয়া ট্রলার ও নিখোঁজ সকলের মরদেহ উদ্ধার করার পর অভিযান সমাপ্ত হয়।

শনিবার কাক ডাকা ভোর, কিশোরগঞ্জের ভৈরবের মেঘনা পাড়ে বসে আহাজারি করছেন কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলার ফাতেহাবাদ গ্রামের মো. আলীম ও রওশন আরা বেগম দম্পতি। অপেক্ষা কিশোরগঞ্জের ভৈরব হাইওয়ে থানায় কর্মরত তাদের ছেলে কনস্টেবল সোহেল রানা, ছেলের বউ মৌসুমি বেগম এবং ৫ ও ৭ বছর বয়সী দুই নাতি রাইসুল ও মাহমুদারকে উদ্ধারের। তখনো তাদের বিশ্বাস সবাই উদ্ধার হবেন জীবিত। ওই দিন বিকালে মরদেহ উদ্ধার করা হয় ছেলের বউ মৌসুমি বেগমের। পরদিন মরদেহ উদ্ধার হয় নাতি মাহমুদার। সোমবার সকালে পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানা ও তার ৫ বছরের ছেলে রাইসুলের মরদেহ উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল। ৬৫ ঘণ্টা পর জানা গেল পরিবারের কেউ বেঁচে নেই।

গত শুক্রবার বিকেলে ভৈরব থেকে ট্রলার যোগে নারী-পুরুষ মিলিয়ে ১৫-১৬ জন মেঘনা নদীতে ঘুরতে যান। ফেরার সময় ভৈরবের বিপরীত পাশে মেঘনা নদীর ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আশুগঞ্জের চর সোনারামপুরের সীমানায় অপরদিক থেকে আসা একটি খালি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে ট্রলারটি সম্পূর্ণ ডুবে যায়।

এসময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় কয়েকজন পাড়ে উঠতে পারলেও নিখোঁজ হন ৮ জন। উদ্ধার হওয়া সুবর্না বেগমকে ভৈরব হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ডুবে যাওয়া পর্যটকবাহী ট্রলারটি উদ্ধার করে রোববার আশুগঞ্জের চর সোনারামপুর চরে রাখা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক এনামুল হক বলেন, ‘মেঘনা নদীর প্রবল স্রোতে উদ্ধারকাজে দেরী হয়েছে। আমাদের অভিজ্ঞ ডুবুরিরা নিখোঁজ সবার মরদেহ উদ্ধার করেছে। পাশাপাশি ডুবে যাওয়া ট্রলারটির অবস্থান শনাক্ত করে সেটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবে পর্যটকবাহী এই ট্রলারের যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরনে থাকলে গল্পটা ভিন্ন হতে পারত। আগামীতে এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনা এড়াতে লাইফ জ্যাকেটের বিকল্প নেই।’

আজ শনিবার রাতে নিহত পুলিশ কনস্টেবল সোহেল রানার বাবা আবদুল আলিম বাদী হয়ে ব্রাহ্মণবাড়ীয়া জেলার আশুগঞ্জ থানায় বাল্কহেডের চালক ও সহকারীকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে ভৈরব নৌ পুলিশ।

এ ঘটনায় দোষীদের আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়ে নৌ পুলিশ সিলেট ও কিশোরগঞ্জ অঞ্চলের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘মামলাটি দায়েরের পর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দোষীদের শনাক্ত করে যথাযথভাবে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে। আমরা মরদেহ একজনের ময়নাতদন্ত করিয়েছি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, স্থানীয় সাক্ষীরা মামলা তদন্তে সহায়ক হবে। এ ঘটনা সবাইকে নাড়া দিয়েছে। আমাদের একটি পুলিশ পরিবার নিঃশেষ হয়ে গেছে। দোষীদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ বিচারের আবেদন করব আমরা।’

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status