ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
সদস্য হোন |  আমাদের জানুন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
শুক্রবার ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪ ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
চা বিক্রি করে কোটিপতি, বাণিজ্য মেলায় স্পেশাল টি স্টল!
নতুন সময় প্রতিবেদক
প্রকাশ: Thursday, 8 February, 2024, 1:27 PM

চা বিক্রি করে কোটিপতি, বাণিজ্য মেলায় স্পেশাল টি স্টল!

চা বিক্রি করে কোটিপতি, বাণিজ্য মেলায় স্পেশাল টি স্টল!

নাম আজহার উদ্দিন; বয়স ৪৫। সবাই চেনে রাজা মামা নামে। চা বিক্রেতা রাজা শূন্য থেকে শুরু করে এখন কোটিপতি। এবারের বাণিজ্য মেলায় সবচেয়ে বড় চায়ের স্টলটি তার।

পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আয়োজিত ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ৩৫১টি স্টল-প্যাভিলিয়নের মধ্যে আলাদা করে নজর কাড়ে একটি চায়ের দোকান।

 

থরে থরে সাজানো মাটির কাপ, পিতলের জগ, আর দোকানের কোণায় রণসাজে সজ্জিত এক রাজার তাম্রমূর্তি। সেই তাম্রমূর্তির পাশে দাঁড়ানো মাথায় পাগড়ি আর শরীরে লাল শেরোয়ানি পড়া লোকটাকে সবাই ডাকছেন রাজা মামা নামে।
 
দর্শনার্থীরা শুধু চা খেতে না, রাজা মামার সঙ্গে সেলফি তুলতে বাণিজ্য মেলায় লাইন পর্যন্ত ধরেছেন। তিনি গোঁফে তাও দিতে দিতে হাসি মুখে সবার সঙ্গে তুলছেন সেলফি, জনে জনে গিয়ে রাজা মামা জিজ্ঞাসা করছেন চায়ের স্বাদ ঠিক আছে কি-না!
 

সময় সংবাদকে আজহার উদ্দিন থেকে রাজা মামা হয়ে ওঠার গল্প বলতে গিয়ে চল্লিশোর্ধ্ব মানুষটি জানান, 
জীবনযুদ্ধে ধাক্কা খেতে খেতে আজ এ অর্জন তার। শুধু চা বিক্রি করে করেছেন তিনটি বাড়ি, কামিয়েছেন কোটি টাকা। বর্তমানে সারা দেশে রাজা মামার ২৮টি চায়ের দোকান আছে।
 

রাজা মামার জন্ম ময়মনসিংহের ত্রিশালের নওধার গ্রামে। দুই ভাই, চার বোনের বড় সংসারে শৈশবে স্বচ্ছলতার মুখ দেখেননি বললেই চলে।
 
জীবিকা নির্বাহের তাগিদে শৈশব-কৈশোর কেটেছে কখনো মানুষের বাসায় কাজ করে, কখনো রাখাল হিসেবে অন্যের গোয়াল ঘরে, আবার কখনওবা বাসে চকলেট-সিগারেট হকারি করে।
 
কৈশোর থেকে যৌবনে পদার্পণ করেও কেন জানি ভাগ্য সুপ্রসন্ন হচ্ছিল না রাজা মামার। ভাগ্যান্বেষণে ত্রিশাল থেকে পাড়ি জমান ঢাকা। বিমানবন্দর এলাকায় শুরু করেন হকারি। থাকার কোনো জায়গা ছিল না বলে বহুদিন রাত কাটিয়েছেন পাবলিক টয়লেটের ছাদে।
 

পরবর্তীতে একজনের মাধ্যমে গ্রামের জমি বিক্রি করে পাড়ি জমান দুবাইতে। কিন্তু দুবাইতে গিয়েও যেন অন্ধকারে নিজের ভাগ্য হাতড়ে বেড়াচ্ছিলেন এ চা বিক্রেতা। দুবাইতে আয়-রোজগার খুব বেশি কিছু করতে না পারলেও সেখানকার বাবুর্চিদের অনুরোধ করে শেখেন চা বানানোর কায়দা-কানুন। দুবাইয়ের শেখরা কী চা পান করেন, সেই চায়ের রেসিপি ও পরিবেশন শিখে রাজা মামা মনস্থির করেন দেশে ফিরে নিজের একটি চায়ের দোকান দেবেন।
 
২০১৮ সালে দেশে ফিরে বিমানবন্দর এলাকায় ভ্যান গাড়িতে চা বিক্রি শুরু করেন রাজা মামা। সেই সময় তার এক কাপ চায়ের দাম ছিল ৫০ টাকা। মানুষ ৫০ টাকা কাপে চা খাবে, তাও আবার রাস্তার পাশের চা। তা ছিল তখন অকল্পনীয়। কিন্তু যারা একবার রাজা মামার চা খেয়েছেন, তারা নাকি আর অন্য কোনো চায়ে স্বাদ পাননি - এমন দাবি রাজা মামার।
 
সময় সংবাদকে রাজা মামা বলেন, 'যখন দুধের লিটার ২০ থেকে ২৫ টাকা, তখন থেকে ৫০ টাকা দামে এক কাপ চা বিক্রি করি। এখন দুধের লিটার ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকা, এখনও একই দামে চা বিক্রি করি। অনেকেই দুধ-চিনির দাম বেড়েছে বলে চায়ের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আমি বাড়াইনি।'
 
চা বিক্রিতেই ভাগ্য ফিরেছে রাজা মামার। শুরুতে মিরপুরে দিয়েছেন স্থায়ী চায়ের দোকান। এরপর একে একে দেশের নানা প্রান্তে মোট ২৮টি চায়ের দোকান দিয়েছেন তিনি।
 
শুধু চা বিক্রি করেই মাসে কয়েক লাখ টাকা মুনাফা করেন বলেও জানান তিনি। রাজা মামা বলেন, 'এক সময় ৪ হাজার টাকা থেকে ৫ হাজার টাকা বেতনের চাকরির জন্য মানুষের হাতে পায়ে ধরেছি। চাকরি পাইনি। চা বিক্রি করি বলে মানুষ অনেক তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে। এখন আমার চায়ের দোকানের কর্মচারীরা ১২ হাজার থেকে ২৮ হাজার টাকা বেতন পায়। আমি বিশ্বাস করি একজন মানুষ পরিশ্রম করলে এবং যে কাজকে ভালোবাসে সেখানে লেগে থাকলে সাফল্য আসবেই।’
 
রাজা মামার চায়ে কী এমন আলাদা স্বাদ জানতে চাইলে ইসরাত নামে এক ক্রেতা বলেন, 'মিরপুরে রাজা মামার দেয়া প্রথম চায়ের দোকানে চা খেয়েছিলাম। এক চুমুক দেয়ার পরেই দেখি মুখ খাঁটি দুধ, পেস্তা বাদাম আর অদ্ভুত এক সুগন্ধীতে ভরে গেছে। চা শেষে চায়ের মালাই একদম জিভে লেগে থাকে। সেই থেকে রাজা মামার চায়ের ভক্ত। বাণিজ্য মেলায় তার স্টল আছে শুনে কেনাকাটা করার আগে তার দোকানে এসেছি চা খেয়ে দিন শুরু করবো বলে।'
 

রাজা মামার চায়ের রেসিপি সম্পর্কে জানতে চাইলে সময় সংবাদকে তিনি বলেন, দুবাইয়ের রাজা-বাদশাহরা যে রেসিপির চা খান তিনি একই রেসিপি ব্যবহার করে চা তৈরি করেন। কাঠবাদাম, কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, জাফরান, তালমিছরি, সুগন্ধি ও নানান মসলা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে তার সঙ্গে আবার গুঁড়া দুধ দিয়ে চা তৈরি করা হয়। এই চা সরাসরি আগুনে গরম না করে উত্তপ্ত বালুতে গরম করা হয়। এতে করে চায়ের স্বাদ আরও বাড়ে।
 
তবে দুবাইয়ের চায়ের তুলনায় রাজার চায়ে ভিন্নতা তার চা পরিবেশনের পাত্রে। মাটির কাপে চা পরিবেশন সম্পর্কে রাজা মিয়া বলেন, 'বাংলার মাটির অজস্র গুণ। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় গুণ এই কাপে চা ঢাললে বাড়তি পানি মাটির পাত্র শুষে নেয়। শুধু দুধ আর মালাইয়ের অংশটুকু কাপে থাকে। এতে করে চায়ের স্বাদ বহুগুণে বেড়ে যায়।'
 
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে রাজা জানান, তিনি দেশের প্রতিটি জেলায় নিজের চায়ের দোকান দিতে চান। আপাতত রাজশাহী ও বরিশাল বিভাগ ছাড়া বাকি বিভাগগুলোতে তার চায়ের দোকান আছে। সবকিছু ঠিক থাকলে শিগগিরই বরিশাল বিএম কলেজের পাশে নতুন একটি চায়ের দোকান দেয়ার পরিকল্পনা আছে তার।
 
গত ২১ জানুয়ারি শুরু হওয়া ২৮তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা চলবে আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মেলা চলবে। ছুটির দিন মেলা চলবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এবারের বাণিজ্য মেলার প্রবেশ টিকিট মূল্য গতবারের চেয়ে ১০ টাকা বাড়িয়ে ৫০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর শিশুদের টিকিটের মূল্য ২০ থেকে বাড়িয়ে করা হয়েছে ৩০ টাকা।

পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ১৭/ডি আজাদ সেন্টার, ৫৫ পুরানা পল্টন, ঢাকা ১০০০।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status