ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
রোববার ২১ জুলাই ২০২৪ ৬ শ্রাবণ ১৪৩১
১৭ বছর পর তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে টুক্কুনি
নতুন সময় ডেস্ক
প্রকাশ: Tuesday, 19 September, 2023, 2:28 AM

১৭ বছর পর তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে টুক্কুনি

১৭ বছর পর তিন সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে টুক্কুনি

৮ বছর বয়সে হারিয়ে যায় মমতাজ বেগম ওরফে টুক্কুনি। মেয়েকে ফিরে পেতে খোঁজাখুঁজিও করে দরিদ্র বাবা-মা। কিন্তু কোথাও মেয়ের সন্ধান মিলেনি। অবশেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের কল্যাণে দীর্ঘ ১৭ বছর পর হারিয়ে যাওয়া সন্তানকে ফিরে পেয়েছে বাবা-মা। সন্তান ফিরে আসায় পরিবারে বইছে আনন্দের বন্যা। টুক্কুনি জামালপুরের বকশীগঞ্জ পৌর শহরের কাগমারিপাড়া এলাকার আবুল হাসেমের মেয়ে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভাব অনটনের কারণে ৮ বছর বয়সী টুক্কুনিকে বকশীগঞ্জ পৌর শহরের পাখিমারা গ্রামের নেহার বেগমের মাধ্যমে তার মেয়ের ঢাকার কাঠাঁলবাগান বাসায় কাজে পাঠানো হয়। ওই বাসায় কাজ করা কালিন হারিয়ে যায় সে। তখন সে জামালপুর জেলার নাম ছাড়া বাড়ির ঠিকানা ভালোভাবে বলতে পারেনি। ফলে হারানোর পর অনেক খোঁজাখুঁজি করেও টুক্কুনিকে পায়নি তারা বাবা-মা। একপর্যায়ে টুক্কুনিকে ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়েই দেয় তার পরিবার। সেই টুক্কুনি ১৭ বছর পর তিন সন্তান নিয়ে বাবা-মায়ের বুকে ফিরে এসেছেন। রোববার লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পশ্চিম চৌপল্লী গ্রামের স্বামীর বাড়ি থেকে নিজ বাড়িতে আসেন টুক্কুনি। নাতী-নাতনীসহ মেয়েকে পেয়ে খুশে আত্মহারা তার গোটা পরিবার। 

জানা গেছে, ঢাকার বাসা থেকে বের হয়ে টুক্কুনি আর বাসা খুঁজে পায়নি। ভুল করে চট্টগ্রামের বাসে উঠে পড়ে সে। চট্টগ্রামে নামার পর রাস্তার পাশে কাঁদতে থাকে টুক্কুনি। তখন চট্টগ্রাম শহরের এক নারী টুক্কুনিকে তার বাসায় নিয়ে যান। বাড়ির ঠিকানা বলতে না পারায় তিনি তার বাসায় রেখে দেন এবং লালন পালন করেন। তার নাম রাখেন মমতাজ। পরে ২০১৩ সালে লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ থানার পশ্চিম চৌপল্লী গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে রাসেল মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে দেন। বিষয়টি টুক্কুনি তার স্বামীকে জানান এবং তার বাবা মাকে খুঁজে দিতে বলেন। তার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনও টুক্কুনি ওরফে মমতাজের পরিবারকে খুঁজতে থাকে। কোনো উপায় না পেয়ে গত কয়েকদিন আগে স্বামীর পরিবারের লোকজন ফেসবুকে একটি পোস্ট দেয়। সেখানে টুক্কুনির দেওয়া বর্ণনানুযায়ী পিতার নাম হাসেম, মায়ের নাম স্বরফুলি, কাকার নাম কাসেম, বোনের নাম রাশেদা ও দুলালী। বাড়ি পাখিমারা, খালার বাড়ি দড়িপাড়া উল্লেখ করা হয়। 

বকশীগঞ্জ ব্র্যাক রোডের বাসিন্দা ওমর ফারুক রঞ্জু পোস্টটি শেয়ার করেন। নজরে আসে থানা-পুলিশের। বকশীগঞ্জ থানার ওসি সোহেল রানা বিষয়টি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান এবং দ্রুত টুক্কুনির ঠিকানা বের করার উদ্যোগ নেন। সাংবাদিকরা বিষয়টি প্রচার করেন। এতে দ্রুতই টুক্কুনির পরিবারের সন্ধান মিলে। টুক্কুনির বাবা-মা ও স্বামীর সঙ্গে কথা বলেন ওসি। রোববার টুক্কুনিকে শ্বশুর বাড়ি থেকে বকশীগঞ্জে বাড়িতে নিয়ে আসেন তার বাবা-মা।   

টুক্কুনি বলেন, ‘আশায় ছিলাম আমার বাবা, মা, ভাই, বোনদের একদিন ফিরে পাব। আমার স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজন আমাকে সহযোগিতা করেছেন। যে কারণে আমি বাবা-মার কাছে আসতে পেরেছি। আজ আমি কতটা খুশি তা বলে বুঝাতে পারবো না।’ 

আবুল হাসেম বলেন, ‘আল্লাহ চেয়েছিল বলেই হারিয়ে যাওয়ার ১৭ বছর পর মেয়েকে ফিরে পেয়েছি। সঙ্গে পেয়েছি জামাই ও তিন নাতি। যারা আমার মেয়েকে ফিরে পেতে সহযোগিতা করেছেন, তাদের ঋণ কোনো দিন শোধ করতে পারব না।’  

এ ব্যাপারে বকশীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সোহেল রানা জানান, সৎ ইচ্ছা থাকলে সব কিছু করা সম্ভব। টুক্কুনির ক্ষেত্রে তাই ঘটেছে। সকলের সহযোগিতায় কাজটি সহজ হয়েছে।

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status