ই-পেপার সোমবার ১৪ নভেম্বর ২০২২
ই-পেপার |  সদস্য হোন |  পডকাস্ট |  গুগলী |  ডিসকাউন্ট শপ
বৃহস্পতিবার ২৫ জুলাই ২০২৪ ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
বিএনপি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না
তাজুল ইসলাম
প্রকাশ: Thursday, 10 August, 2023, 6:50 PM

বিএনপি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না

বিএনপি বাকস্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না

বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারকারী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সবসময়ই ঘোলা জলে মাছ শিকার করে ক্ষমতায় আসতে চায়। জন্মলগ্ন হতেই বিএনপির মুখে জনগনের ভোটাধিকার, গনতন্ত্রের কথা বললেও তারা নিজেরাই গনতন্ত্র হতে অনেক দূরে অবস্থান করেছে। যার প্রমান তাঁরা আবারও দিলো, বেসরকারী টেলিভিশন সময় টিভি ও একাত্তর টিভির টকশো অনুষ্ঠানে অংশ না নিয়ে বর্জনের সিদ্ধান্ত জানিয়ে।

৮ অগাস্ট দৈনিক মানবজমিনে প্রকাশিত খবরে উল্লেখ করা হয়, ‘পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘একাত্তর’ ও ‘সময়’ টিভির টকশো সাময়িকভাবে বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। সম্প্রতি টিভি টকশোতে অংশ নেওয়া দলের নেতাদের উদ্দেশ্যে এবিষয়ে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য সচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি স্বাক্ষরিত চিঠিটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট নেতাদের কাছে পৌছে দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে দলের নেতাদের চিঠি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। 

চিাঠতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘কয়েকটি টিভি চ্যানেলের মালিকপক্ষ সরকারী দলকে খুশ করতে উলঙ্গভাবে আমাদের বিরুদ্ধে বিশেষ করে আমাদের নেতা তারেক রহমানের বিরুদ্ধে শত্রুতামূলক প্রতিবেদন করেই চলেছে। কখনও কখনও টকশো মঞ্চের উপস্থাপক অথবা উপস্থাপিকাসহ গোটা মঞ্চটাই পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয় আমাদের দল ও নেতৃত্বকে হেয় প্রতিপন্ন করতে। এমতাবস্থায় দলের সিনিয়র আলোচকদের পরামর্শ ও হাইকমান্ডের  অনুমোদনক্রমে আমরা একাত্তর ও সময় টিভির টকশো সাময়িকভাবে বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’

বিএনপি সমর্থক ও আলোচকদের প্রতি আহবান জানিয়ে বিএনপির মিডিয়া সেল হতে পাঠানো চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘আমাদের দলের আলোচকদের অনুপস্থিতিতে দর্শকদের কাছে ওই টকশো ও চ্যানেল দর্শকমূন্যতায় পর্যবসিত হবে। আর তখনই কেবল তারা আমাদের দর্শক-শ্রোতাদের পছন্দ ও সত্য তথ্য দিতে বাধ্য হবে। আসুন আমরা সব আলোচকরা আগামী ৯ আগস্ট থেকে একাত্তর ও সময় টিভির টকশোতে অংশগ্রহণ বন্ধ রাখি। ‘পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত এই বর্জন চলবে’-এমনটাও চিঠিতে উল্লেখ করা আছে।

তার মানে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে তাদের দলের সিনিয়র নেতা ও হাইকমান্ড এর নির্দেশনায় এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।  বিএনপির হাইকমান্ড মানেই দেশত্যাগী, সাজাপ্রাপ্ত আসামী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশেই দেশের জনপ্রিয় দুটি টিলিভিশনের নামে সরকার দলীয় ট্যাগের অভিযোগ তুলে বিএনপি তাদের বর্জনের আহবান জানিয়েছে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি যদি ক্ষমতায় আসে তাহলে এই বর্জন চ্যানেল দুটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগাম নোটিশ ছাড়া আর কিছু নয়। চ্যানেল দুটি বর্জনের মাধ্যমে বিএনপি প্রমান করলো তারা মুখে মুখে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বললেও আদতে তাদের অবস্থান এর বিপরীতে। 

গণমাধ্যম হচ্ছে সমাজের পথপ্রদর্শক। গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অপরিহার্য। গণমাধ্যমের স্বাধীনতার আহবান জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ২০২১ সালের ১৫ জুন লন্ডনপ্রবাসী বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান নামের আইডি হতে তার ছবি সম্বলিত একটি পোস্টার আপলোড করে ক্ষমতাসীন দলের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, ‘গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধারের জন্য সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে বিপন্ন করার যেকোন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ভাই-বোনদেরকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহবান জানাচ্ছি।’ আজ মাত্র দুই বছর পর তিনি নিজেই সংবাদমাধ্যম, সংবাদ উপস্থাপক তথা গণমাধ্যমের ওপর দোষারোপ করে তাদের বর্জন করার নির্দেশনা দিয়ে দিলেন। বিএনপি’র নেতা-কর্মী, সমর্থকদেরকে আহবান করলেন চ্যানেল দুটিকে দর্শক শূন্যতায় পরিনত করতে। এখানেই একটা বিষয় উল্লেখ্য যে, সময় ও একাত্তর টেলিভিশনের নিয়মিত দর্মকের পাশাপাশি সময় টিভির ইউটিউব সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা ২০ মিলিয়নেরও বেশি এবং  একাত্তর টেলিভিশনের সাবক্রাইবারের সংখ্যা প্রায় ৭০ লাখ। এছাড়াও চ্যানেল দুটির নিজস্ব ফেসবুক, টুইটার ও ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ারের সংখ্যাও ঈর্ষণীয়।  

ষড়যন্ত্রের মন্ত্র ও ক্ষমতালোভী বিএনপি বাংলাদেশের গণতন্ত্র, জনমত, নির্বাচনের প্রতি অর্থবহ ও কল্যাণকর অবস্থানে কখনও ছিলো না, এখনও নেই। বিএনপির জন্ম ইতিহাস বলে, গনতান্ত্রিক আদর্শের সাথে দলটির কোনো সম্পর্ক নেই। অস্ত্রের মুখে ক্ষমতা দখলকারী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজের ইতিহাসগোপন করতে গিয়ে জনগনের সাথে প্রতারনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিচয় দিতেই মূলতঃ বিএনপি নামের একটি রাজনৈতিক দল গড়ে তুলেছিলেন। সময়ের সাথে বিএনপি বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে বাংলাদেশের একটি বৃহত্তম রাজনৈতিক দল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেলেও আদর্শিক অবস্থান এখনও আগের জায়গায়ই আছে। সেই অবস্থান হতেই আজ দেশের অন্যতম দুটো বড় টেলিভিশন চ্যালেনকে তারা বর্জনের আহমান জানিয়েছে। বিএনপির মতের বাইরে কিছু বললে হয়তো খুব শিগগিরিই তারা দেশের পুরো গণমাধ্যমকেই বর্জন করতেও দ্বিধা করবে না। 


তাজুল ইসলাম
সাংবাদিক ও চলচ্চিত্র পরিচালক

� পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ �







  সর্বশেষ সংবাদ  
  সর্বাধিক পঠিত  
এই ক্যাটেগরির আরো সংবাদ
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, গ্রীন ট্রেড পয়েন্ট, ৭ বীর উত্তম এ কে খন্দকার রোড, মহাখালী বা/এ, ঢাকা ১২১২।
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: [email protected]
কপিরাইট © দৈনিক নতুন সময় সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত | Developed By: i2soft
DMCA.com Protection Status