বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর, 2০২1
নতুন সময় প্রতিবেদক
Published : Wednesday, 13 October, 2021 at 5:33 PM, Update: 13.10.2021 10:48:08 PM
 কোরআন অবমাননা করায় বৃদ্ধকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া

কোরআন অবমাননা করায় বৃদ্ধকে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া

ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলার দাওগাঁও ইউনিয়নের শুকপাটুলী গ্রামে কোরআন অবমাননার অভিযোগে আকবর আলী (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে গ্রাম্য সালিসে জুতার মালা পরিয়ে গ্রামছাড়া করা হয়েছে। তিন মাস দশ দিন ওই বৃদ্ধকে গ্রামে প্রবেশের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন সালিসের বিচারকরা। তিনি নিজে কাফেরসহ তার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে বলেও ফতোয়া দেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) শুকপাটুলী বাজারে দুপুর ১২টায় তিন থেকে চার শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এ সালিস অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার আব্দুল হেকিম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, অসুস্থতার কারণে আমি সালিসে যেতে পারিনি, তবে ঘটনার খবর শুনেছি।  

এলাকাবাসী ও আকবরের স্ত্রী অজুফা খাতুন জানান, সোমবার (১১ অক্টোবর) সকালে ছোট মেয়ে রহিমার জামাই মনজুরুল ১০ থেকে ১২ জন লোক নিয়ে তাদের বাড়িতে আসে। বড় মেয়ে আয়েশার সঙ্গে ছোট মেয়ে রহিমার পাওনা ৩০ হাজার টাকা নিয়ে ঝগড়া চলে আসছে। ছোট মেয়ের জামাই ও তার সঙ্গে আসা লোকজন আমার বৃদ্ধ স্বামী আকবর আলীকে (৬৫) কোরআন ছুঁয়ে কথা বলার জন্য বললে তিনি কোরআন অবমাননা করেন। এতে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে চলে যাওয়ার সময় নিজের ভুলের বিষয়ে ক্ষমা চান।
 
মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) বিষয়টি জানাজানি হলে সকাল ১১টার দিকে শুকপাটুলী বাজারে তিন থেকে চার শতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে সালিস অনুষ্ঠিত হয়। ওই সালিসে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মকবুল হোসেন, মসজিদ কমিটির সভাপতি ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমজান আলী মাস্টার, বটতলা মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমান, শুকপাটুলী দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা কুতুব উদ্দিনের উপস্থিতিতে আকবর আলী নিজের ভুলের কথা স্বীকার করে সবার কাছে ক্ষমা চান। নিজের ভুলের বিষয়ে ক্ষমা চাওয়ার পরও গ্রাম সালিসে উপস্থিত মাতুব্বররা বৃদ্ধ আকবর আলীকে জুতার মালা গলায় দিয়ে গ্রাম ঘুরিয়ে ৩১০ দিন গ্রামে আসতে বারণ করেন। তার স্ত্রী তালাক হয়ে গেছে, নতুন করে তাদের বিয়ে পড়ানোসহ কলেমা পড়ে মুসলমান হওয়ার ফতোয়া জারি করা হয়।  

ঘটনার পর থেকে ওই বৃদ্ধ গ্রামছাড়া। কোথায় আছেন কেউ বলতে পারছে না। বৃদ্ধ আকবর আলীর স্ত্রী অজুফা জানান, আমার স্বামীর বয়স হয়েছে। কখন কী করে, কী বলে তার ঠিক নেই। সালিসের পর থেকে তার বৃদ্ধ স্বামীর কোনো খোঁজ নেই। বুড়া মানুষ, কোথায় যায়, কী খায় কে জানে বলে চোখের পানি মোচেন। চাপা কণ্ঠে তিনি বলেন, আমারও নাকি তালাক হয়ে গেছে। আবার নাকি বিয়ে পড়াবে। বৃদ্ধ আকবর আলীর নাতনি হালিমা খাতুন জানান, দাদা কোথায় আছে আমরা কেউ জানি না। সমাজ বিচার করেছে, না মেনে কি উপায় আছে?  

স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা মকবুল হোসেন বলেন, ‘আসলে অন্যায় করলে তো শাস্তি পাবেই। ধর্মীয় রীতিতে যে শাস্তি আছে তার চেয়ে কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে।’

রমজান আলী মাস্টার বলেন, ‘আমরা সমাজে বসবাস করি। আমরা কোনো শাস্তি দেই নাই। হুজুররা যে ফতোয়া দিয়েছেন তাকে তার চেয়ে কম শাস্তি দেওয়া হয়েছে। তিন মাস দশ দিন সে বাড়িতে আসতে পারবে না। সামাজিকভাবে তাকে একঘরে করা হয়েছে।’

মুক্তাগাছা থানার ওসি মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ফতোয়া দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা বলেন তিনি। সূত্র : বাংলানিউজ।



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft