শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, 2০২1
সোনাগাছির এই যৌনকর্মীর একটি সঙ্গমের রাতের অভিজ্ঞতা জানুন, চমকে উঠবেন
নতুন সময় প্রতিনিধি
Published : Monday, 13 September, 2021 at 9:23 PM, Update: 13.09.2021 9:24:46 PM
'ছেলেদের পুরুষাঙ্গটি আমার কাছে আইসক্রিমের মতো'

'ছেলেদের পুরুষাঙ্গটি আমার কাছে আইসক্রিমের মতো'

কলকাতার, তথা ভারতের অন্যতম বড় এবং প্রাচীন যৌনপল্লি হলো সোনাগাছি ৷ জনশ্রুতি, জনৈক সোনা গাজির দরগা ছিল এই অঞ্চলে, তার থেকেই নাম সোনাগাছি ৷ বহু মেয়ে এই যৌনপল্লিতে বিশ্বের আদিমতম পেশায় জড়িত ৷ উত্তর কলকাতার সাবেক দর্জি পাড়া এলাকা, রাস্তার নাম- গৌরী শঙ্কর লেন, আর সারা দুনিয়ার কাছে ‘সোনাগাছি’, ব্যাস এই নামটাই যথেষ্ট এলাকার সাইন বোর্ড হিসাবে। এই দর্জি পাড়াতেই থরে থরে ঘরে ঘরে সাজানো শয্যায় মর্জিনারা ‘মজা’ দেন খদ্দেরদের।

যৌনতার এই বড় বাজার সম্পর্কে নথীপত্র, ইন্টারনেট ইত্যাদি জানিয়ে দেবে এটাই এশিয়া মহাদেশের বৃহত্তম ‘রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট’। ছোট ছোট জামা কাপড় পরে এক একটা শরীর সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে এই পাড়ায়। কিছুটা শপিং মলের মতই! পছন্দের ‘পণ্য’ নিজের গায়ে চাপিয়ে নেওয়া যায় অর্থের বিনিময়ে। এখানেও তেমনটা হয়, এক্সট্রা পাওয়ানা, নিজেও পণ্যের ওপর চেপে পড়তে পারেন গ্রাহক। এককথায় দেহব্যবসার শপিং মল! আর এই সোনাগাছির এক যৌনকর্মীর সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আমাদের সোনাগাছির প্রতিনিধি! চলছিল প্রশ্ন উত্তর পালা! সায়ন্তনের খোলামেলা প্রশ্নের খোলামেলাই উত্তর দিয়েছেন ২৫ বছরের এই বাঙালি কন্যা প্রিয়াঙ্কা পাল!

সাংবাদিক: আপনি তো একজন বাঙালি! তাই তো?
প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ! তবে আমার মা ওপার বাংলার!

সাংবাদিক: আপনার পুরো নাম কি?
প্রিয়াঙ্কা: প্রিয়াঙ্কা পাল! তবে সোনাগাছিতে অনেকে অনেক নামেই ডাকে! কল্পনা, প্রিয়া, পাপড়ি! যার যে নাম ভালো লাগে! (হাসি)

সাংবাদিক: নিজে ব্যাপারে কিছু বলুন! কিভাবে এই জগতে প্রবেশ করলেন?
প্রিয়াঙ্কা: কিভাবে এই জগতে প্রবেশ করলাম সেটা বলার আগে, কেন এই জগতে প্রবেশ করলাম আগে সেটা বলি! আমি ভদ্র ঘরের মেয়ে,আমাদের অবস্থা খুব ভালই ছিল। টালিগঞ্জের এক অভিজাত ব্যবসায়ীর বাড়িতে আমার জন্ম! আমার বাবা বর্তমানে একজন নামকরা বিজনেসম্যান! ফ্যামিলি বলতে আমরা তিন জন! মা, বাবা এবং আমি! বাড়ির একমাত্র কন্যাসন্তান হওয়ার দরুন ছোটবেলা থেকেই কোনো কিছুর অভাব রাখেননি আমার বাবা! পড়াশোনার পাশাপাশি নাচটা আমার একটা প্যাশান! যখন আমি ক্লাস সেভেনে পড়ি তখনি বাবা আমায় কলকাতার এক নাম করা (শ্রুতিনন্দন) নৃত্যগোষ্ঠীর স্কুলে ভর্তি করিয়ে দেন! আচ্ছা খুব বোরিং লাগছে কি আমার কথাগুলো?

সাংবাদিক: না না আপনি বলুন!
প্রিয়াঙ্কা: আচ্ছা কিভাবে আমি এই জগতে এলাম সেটাই বলি! বর্তমানে আমি কলকাতা ইউনিভার্সিটিতে আর্টস এর স্টুডেন্ট! আসলে সোনাগাছিতে আমি থাকি না! ওটা আমার পার্ট টাইম ইনকামের একটা রাস্তা বলতে পারেন!

সাংবাদিক: কিন্তু আপনি তো বললেন আপনি একজন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান! নেহাত পকেটমানি পাওয়ার জন্য আপনি এখানে আসলেন? নাকি এর পিছনে অন্য কোনো কারণ?
প্রিয়াঙ্কা: না না একদমই না! পকেটমানিটা ছুতো! আসলে এখানে অনেক এন্টারটেনমেন্টেরও সুযোগ আছে! খোলাখুলি বলতে গেলে আমি একজন ফ্যান্টাসি প্রেমী! সেক্সটা আমার কাছে এখন একটা প্যাশান! রোজ রাতে একটা করে কাস্টমার হলে আমার শান্তি! (সহাস্যে)

সাংবাদিক: কিন্তু আমরা তো শুনেছি সোনাগাছিটা একটি পতিতালয়! কিছু মানুষ এটাকে অনেক অপবিত্রও মনে করে! শুধুমাত্র একটু ফ্যান্টাসির নেশায় সোনাগাছিতে আসাটা কি আপনার মতো এক অভিজাত বাড়ির মেয়ের পক্ষে ঠিক দেখায়? মানে আমি বলতে চাইছি এটা ছাড়াও তো আরও অনেক রাস্তা খোলা ছিল!
প্রিয়াঙ্কা: তা ছিল! কিন্তু যোগাযোগের সূত্রপাতটা এখান থেকেই! আর আমি তো আগেই বললাম এটা আমার একটা পার্ট টাইম কাজ! এই যে এখন আমি এখানে আছি, এটা সম্পূর্ণ আমার ইচ্ছায়! আমি যেকোনো সময় বাড়ি ফিরতে পারি! এখানে অন্য মেয়েদের সেই স্বাধীনতা নেই!

সাংবাদিক: বুঝলাম! কিন্তু এই যোগাযোগের সূত্রপাতটা কিভাবে হলো?
প্রিয়াঙ্কা: সংবাদপত্রের একটি বিজ্ঞাপন থেকে!

সাংবাদিক: কিরকম?
প্রিয়াঙ্কা: আসলে সংবাদপত্রে যেসব এসকর্ট সার্ভিস বা কল গার্লের বিজ্ঞাপনগুলি থাকে, আমার ধারণা সেই সংস্থাগুলির বেশিরভাগই দেশের বড়ো বড়ো পতিতালয়ের সাথে যুক্ত! একদিন সেই বিজ্ঞাপনের পাতায় হঠাৎই চোখ চলে যায়! কিছুটা কোতুহলবশতঃ ফোন করি একটি সংস্থার দেওয়া বিজ্ঞাপনের নাম্বারে! জানতে পারি তারা এই সোনাগাছির সাথে যুক্ত! সেদিন থেকেই শুরু আমার জীবনের নতুন যাত্রাপথ!

সাংবাদিক: একটা এতো বড়ো পদক্ষেপ! ভয় করেনি?
প্রিয়াঙ্কা: একদম যে করেনি তা বলবো না! তবে সাহস নিয়ে এগিয়েছি! ওই যে বললাম আমি সেক্স এডিক্টেড! সেক্সের তাড়নায় আমাকে দিয়ে সব কিছু করিয়ে নিয়েছে! তবে আমাকে সাহায্য করেছে আমার এক খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু, যে এই পতিতালয়ের একটি গ্ৰুপেরও সদস্য! সুতরাং আমার এখানে আসতে ততটাও অসুবিধা হয়নি, যতটা বাকি মেয়েদের ক্ষেত্রে হয়!

সাংবাদিক: আপনার বাবা মা জানেন আপনি এই সংস্থার সাথে যুক্ত?
প্রিয়াঙ্কা: (হাসির সাথে) একদমই না!

সাংবাদিক: আচ্ছা আমরা শুনেছি এখানে মেয়েদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করা হয়! মানে শরীর খারাপ থাকার সত্ত্বেও কাস্টমারদের সার্ভিস দিতে হয়! আপনার সাথেও কি এমনটা হয়?
প্রিয়াঙ্কা: না না একদমই না! সোনাগাছি মেয়েদের নিয়ে অনেকের ভুল ধারণা আছে! যদিও আগে এসব অনেক ঘটনা ঘটতো তবে এখন পরিস্থিতি অনেক পরিবর্তন হয়েছে! এখন মেয়েরা এখানে স্বইচ্ছায় আসে! সোনাগাছিসহ রাজ্যের নানা যৌনপল্লীর নারীদের নিজেদেরই একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন আছে – দূর্বার মহিলা সমন্বয় কমিটি। তারাই সমস্ত কাজটি পরিচালনা করে! এখানে মেয়েদেরকে সাধারণত ক্যাটাগরিভিত্তিক নির্বাচন করা হয়! যেমন ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ ক্যাটাগরি! এখানে ১৯ বছর থেকে ৪৫ বছরের মহিলাও আছে! কম বয়সী (২৫ বছর পর্যন্ত) সুন্দরী মেয়েদের ‘বি’ ক্যাটাগরিতে রাখা হয়! আর যারা স্বেচ্ছায় এখানে আসে তাদের ‘এ ক্যাটাগরি’তে রাখা হয়! যেমন আমি!

সাংবাদিক: বুঝলাম! আচ্ছা এই যে আপনি রোজ নতুন নতুন পুরুষদেরকে নিজের শয্যাসঙ্গী করেন, কোনোরকম অস্বস্তি বা অপ্রস্তুত বোধ করেছেন কখনও?
প্রিয়াঙ্কা: প্রথম দিকে একটু সমস্যা হতো! তবে এখন এটা আমার কাছে একটা খেলা! নতুন নতুন পুরুষের সাথে আলাপ করা এবং পছন্দ মতো পুরুষদের সাথে রাত্রিযাপন করাটা আমার কাছে এক স্বর্গীয় অনুভূতি! একজন সেক্স এডিক্টেড মহিলার কাছে কোনো অচেনা পুরুষের সাথে রাট কাটানোটা কোনো ব্যাপার না! আমি খুব খোলামেলা স্বভাবের! তাই নতুন নতুন ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করতে বেশ ভালোই লাগে!

সাংবাদিক: ঠিক কখন আপনি অনুভব করলেন যে আপনি সেক্স এডিক্টেড?
প্রিয়াঙ্কা: ক্লাস সেভেন বা এইট হবে, তখন থেকেই আমার মধ্যে একটা যৌনানুভুতি শুরু হয় যেটা আমার বাকি বন্ধুদের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা! ছেলেদের সাথে বন্ধুত্ব করা, অফ লাইনে নতুন নতুন পুরুষদের সাথে বন্ধুত্ব পাতানো একটা নেশা হয়ে যায় তখন থেকে! ক্লাস এইটেই আমি আমার খুব ক্লোস ফ্রেন্ডের সাথে ওরিই বাড়িতে সেক্স করি! সেদিন খুব আত্মতুষ্টি অনুভব করি! সেদিনের পরেও আরও কয়েকবার তার সাথে সেক্স করি! কিন্তু দিন দিন আমার এই চাহিদাটা যেন বাড়তে থাকে! একটা সময় আমার খুব ভয় হতো! এটা কি আমার স্বাভাবিক পবিত্রি নাকি কোনো অসুখ! বাড়াবাড়ি এমন পর্যায় যায় যে ডাক্তারের সাথে কনসাল্ট করি! কিন্তু ডক্টর আমাকে আশ্বাস দেন যে এটা আমার স্বাভাবিক চাহিদা!

সাংবাদিক: এখানে কি রোজিই নতুন নতুন ক্লায়েন্ট আসে আপনার?
প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ রোজই আসে কিন্তু আমার ইচ্ছানুযায়ী আমি তাদেরকে সময় দিই! কাস্টমারদের চাহিদা অনুযায়ী যেমন তাদেরকে মেয়েদের ছবি দেওয়া হয়, তেমনি ‘এ ক্যাটাগরি’র মেয়েদের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা উল্টো! এ ক্যাটাগরিতে মেয়েদেরকে ছেলেদের ছবি দেখানো হয়! আমার ক্ষেত্রে এমনটাই হয়!

সাংবাদিক: প্রতিদিনই কি আপনার পছন্দমতো ক্লায়েন্ট জুটে যায়?
প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ প্রায় প্রতিদিনই হয়ে যায়! আবার কোনো কোনো দিন ২-৩ জন ক্লায়েন্টও পেয়ে যাই! তবে বর্তমানে করোনা পরিস্থিতি এবং লকডাউন এর জন্য এখন কাজ একটু কম করছি

সাংবাদিক: ২-৩ জন ক্লায়েন্ট? শারীরিকভাবে অসুস্থ্য বোধ করেন না? নাকি এটাও সেক্স এডিকশনেরই একটি অঙ্গ?
প্রিয়াঙ্কা: হ্যাঁ বলতে পারেন! আসলে সবটাই মুডের উপর! মাস দুয়েক আগের একটি ঘটনা! সেদিন আমি অলরেডি দুজনের সাথে ইন্টারাক্ট করেছি! রাতে আবার কল আসে! এক কলেজ স্টুডেন্ট এসেছিলো! তার শারীরিক গঠন এতো সুন্দর যে আমি না করতে পারিনি! সেদিন পরিস্থিতি খুব খারাপ হয়েছিল! উত্তেজনার বসে আমি তার পুরুষাঙ্গে এক কামড় বসিয়ে দিই! সেই পরিস্থিতিতে কিছু বোঝা যায়নি, কিন্তু ছেলেটি খুব ব্যাথা পেয়েছিলো! পরে আমাকে ফোনে জানিয়েছিল! আসলে ওরাল সেক্সের সময় পুরুষদের যৌনাঙ্গটা আমার কাছে আইসক্রিমের মতোই মনে হয়! (আবার হাসি)

সাংবাদিক: শেষ প্রশ্ন! ভবিষ্যতে কি হতে চান? এই পেশাকেই সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে চান?
প্রিয়াঙ্কা: স্বপ্ন তো অনেক আছে! তবে এটা আমার পেশা না! ভবিষ্যতে আমি পেশাদার পর্নস্টার হতে চাই! তার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি এখন থেকেই!

সাংবাদিক: কেমন প্রস্তুতি?
প্রিয়াঙ্কা: নিজেকে আরও আকষণীয় করার জন্য প্রতিদিন জিম করছি! নিজের ডায়েট চার্টেরও কিছু পরিবর্তন করেছি! পড়াশোনার পাশাপাশি একটি অভিনয় প্রতিষ্ঠানেও এডমিশন নিয়েছি!



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft