শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, 2০২1
নতুন সময় ডেস্ক
Published : Monday, 13 September, 2021 at 9:14 PM

স্তনের আকার ‘পাহাড়প্রমাণ’, নেট দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন বাংলার সবচেয়ে বড় স্তনের এই মডেলব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্ট- অর্থাত্‍ প্লাস্টিক সার্জারি করে নিজের স্তন যুগলকে বড় করা। যুগে যুগে পুরুষের কাছে পরম আকাঙ্ক্ষার বিষয় হচ্ছে নারীর স্তন। আর এই বড় স্তন পেতে নারীদেরও চেষ্টা অন্ত নেই। ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টের মাধ্যমে এখন যে কেউ পেতে পারেন নিজের পছন্দসই আকারের স্তন। স্তনের মাঝে সিলিকনের প্যাড অপারেশনের সাথে ভরে এই স্তন বৃদ্ধির কাজটা করা হয়।

তবে স্তন বৃদ্ধির চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন কলকাতার এক বাঙালি মডেল রোশনী গুহ। পেশায় তিনি মডেল, শরীরের বাকি অংশ স্বাভাবিক, কিন্তু স্তনের আকার স্বাভাবিকের তুলনায় বেশ বড়ো, বলা চলে ‘পাহাড়প্রমাণ’!

এই মুহূর্তে নেট দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন এই বাঙালি মডেল! অস্ত্রোপচার করে স্তনের আকার অনেকেই বাড়িয়ে থাকেন। ডাক্তারি ভাষায় বলে ব্রেস্ট ইমপ্ল্যান্টস।

বিশেষ করে যদি পেশায় মডেল হন, তাহলে এই অস্ত্রোপচার খুবই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে বিশ্বের সবচেয়ে বড়ো স্তনের অধিকারী হলেন জার্মনিীর এক নগ্ন মডেল মেরা হিলস (বেশি পরিচিত Beshine নামে)। মেরা হিলস হলেন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় স্তনের অধিকারী।

রোশনী জানিয়েছেন, কোনও কৃত্রিম উপায় নয়, স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর স্তন এত বড়! যদিও নেটিজেনদের অনেকে মনে করেন যে অনেক বাঙালি মডেল আছেন যাদের স্তন রোশনীর থেকেও বড়ো।

তবে লোকে যে যাই বলুক, রোশনীর দাবি বাংলার সব বড়ো বড়ো মডেলদের শারীরিক গঠন অনুযায়ী তাদের যা স্তনের আকৃতি, তার তুলনায় রোশনীর স্তনের আকৃতি বড়ো এবং তার সাথে সুডৌল।

রোশনীর অন্তর্বাসের সাইজ 34KK। তিনি জানান, বিশালাকার স্তনের জন্য মাঝেমাঝেই পিঠেব্যাথায় ভুগতে হয়। তিনি আরও জানান, সঠিক সাইজের জামা খুঁজে পেতেও তাঁকে মাথার ঘাম পায়ে ফেলতে হয়।

তাঁর ভাষায়, ” ১৫ বছর বয়সেই আমায় ডি-কাপ ব্রা পরতে হত। স্কুলে সবাই হাসি-ঠাট্টা করত আমায় নিয়ে! তখন বুঝতে পারতাম না, আমার দোষটা কোথায় ?

যত বয়স বাড়তে থাকল, নিজেকে শক্ত করলাম! ভাবলাম, আমি কেন বাকি লোকেদের কথা শুনে কষ্ট পাচ্ছি ? এটাই আমার শরীরের স্বাভাবিক গড়ন!”

মডেলিং এর পাশাপাশি রোশনী একজন যৌনকর্মী। কোচবিহারের দিনহাটা নামক একটা গ্রামে জন্ম এই বংগো তনয়ার। সেখানে বড়ো হয়ে উঠে নিজের সত্তাকে প্রকাশ করার কোনো জায়গা ছিল না।

১৪ বছর বয়সে এক দীপাবলির রাতে রোশনী নিজের এক মাসতুতো দাদার কামের শিকার হন তিনি। এক বিবৃতিতে রোশনী জানান “সেদিনের সেই রাতের কথা ভয়ে বাড়ির কাউকে বলতে পারিনি।

আর সেটাই আমার সবচেয়ে বড়ো ভুল ছিল। আমার অসহায়তার সুযোগ নিয়ে সপ্তাহখানেক পর আবার আমাকে ধর্ষণ করে। কাউকে বললে খুনের হুমকিও দেয়। আমি চুপ থাকিনি। অনেক ছোটবেলাতেই কলেরা রোগে আমার মা মারা যায়।

সুতরাং বলার মতো একমাত্র মানুষ আমার বাবা। বাবাকে সব কথা বললাম। বাবা বিশ্বাস করলেন না। নিজের প্রতি ঘেন্যা এসে গেলো। সিদ্ধান্ত নিলাম সব ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করবো।

কিন্তু সেই দাদার কেউ দৃষ্টি সর্বদা থাকতো আমার শরীরের উপর। ১৬ বছর বয়সে আমি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাই। তখন যাওয়ার কোনো জায়গা ছিল না। প্রথম আশ্রয়স্থল হল নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন।

স্টেশনেই বেশকিছু রাত কাটাই। খাবারের জন্য আমাকে যৌনকর্মীর পেশা বেছে নিতে হয়েছিল। তারপরেই আমি এনজিওর সঙ্গে যুক্ত হই।”

বাঙালি হয়েও মডেল থেকে যৌনকর্মী, কতটা কঠিন ছিল এই রাস্তা? রোশনী বলেন, “সহজ ছিল না! সেই আদিম যুগ থেকে আমাদের সমাজ সবাইকে ভাবতে বাধ্য করিয়ে এসেছে যে নারীর সন্মান্তই সবচেয়ে বড়ো !

আমি কিভাবে আমার জীবনকে পরিচালনা করবো সেটা সম্পূর্ণ আমার ব্যক্তিগত! আমার জীবনে যা কিছু ভালো বা খারাপ হোক, তার দায়ভার যেমন আমি সমাজের ঘরে চাপায় না, তেমনই আমার জীবনধারার উপর সমাজ আঙ্গুল তুলুক, সেটার অধিকারও আমি সমাজকে দিতে নারাজ!”

সোশ্যাল মিডিয়ায় রোশনীকে নিয়ে লেখালেখি হয়! বিভিন্ন ব্লগ সাইটেও রোশনীর বেশ কিছু ইন্টারভিউ আছে! ইনস্টাগ্রামে তার ফলোয়ারের সংখ্যাও নেহাত কম নয়! রোজিই নতুন নতুন ছবিতে ভরিয়ে রাখেন তার প্রোফাইল!

লাইক, কমেন্টের পাশাপাশি খারাপ ভালো মিলিয়ে মিশিয়ে বিভিন্ন মন্তব্য করেন তার ফ্যান থেকে হেটার্সরা! পতিতালয়ে “এ ক্যাটাগরির” মধ্যে রোশনীকে রাখার কারণ কি তার স্তনের সৌন্দর্যতা?

এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “হ্যা কিছুটা সত্যি! আমার মতো অনেকেই আছে যারা অনেক বছর ধরে পতিতালয়ে বেশ্যাবৃত্তি করে। তাদেরকে দেখে বোঝার উপায় নেই কারণ তারা সাধারণত “এ ক্যাটেগরির” যৌনকর্মী।

কিছু স্পেশ্যাল অকেশান এবং স্পেশাল কাস্টমার ছাড়া এ ক্যাটেগরির যৌনকর্মীরা সার্ভিস দেয় না। তবে আমি এই পেশায় না আসলে অবশ্যই একজন অভিনেত্রী হতে চাইতাম! বর্তমানে আমাকে এসকর্ট সার্ভিসের জন্য রেগুলার করতে হয়!

নিজেকে ফিট রাখতে পুষ্টিকর আহারাদির পাশিপাশি জিমটাও প্রতিদিন করি! কারণ আমাদের পেশায় রূপ এবং শারীরিক গঠনই মূল সম্পদ!”

দেখুন রোশনীর একটি টিকটক ভিডিও



পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft