বুধবার, ০৮ ডিসেম্বর, 2০২1
ওসমান গনি
Published : Sunday, 30 May, 2021 at 12:15 PM, Update: 30.05.2021 1:21:49 PM
বিশিষ্ট লেখক, মোঃ ওসমান গনি

বিশিষ্ট লেখক, মোঃ ওসমান গনি

যুগে যুগে পৃথিবীতে কিছু মানুষ জন্মগ্রহণ করেন ব্যক্তি, সমাজ, দেশ কিংবা জাতির পরিবর্তনের জন্যে। তারা সর্বদায় মানব কল্যাণে নিজেকে ব্রত রাখেন, পরার্থে তাঁরা তাদের জীবন উৎসর্গ করেন। মানব সেবা যেন তাদের কাছে সবচেয়ে বড় ধর্ম। তেমনই একজন আমার দেখা মানবদরদী, সমাজসেবক, পরোকারী, অকুতোভয় জিল্লুর রহমান। যার ধর্মই মানুষের বিপদে ছুটে যাওয়া, বিপদ থেকে রক্ষা করা।

ছোট বেলা থেকেই মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোই তাঁর চিরাচয়িত স্বভাব সুলভ বৈশিষ্ট্য। জিল্লুর রহমান আমার দেখা এমনই একজন মানুষ। মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে তার মধ্যে নেতা সুলভ গুণাবলী পরিলক্ষিত হয় এবং নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। আজো তা ধারাবাহিক ভাবে মানব সেবায় তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন ।

জিল্লুর রহমান রাজশাহী জেলার বাগমারা উপজেলার শ্রীপুুর ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামে ৩০ সেপ্টম্বর ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে এক মুসলিম সমভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা ইসলামইল হোসেন এবং মাতা হাসিনা বেগম। দুই ভাই এবং তিন বোনের মধ্যে সবার জ্যেষ্ঠ তিনি। 

জিল্লুর রহমানের শিক্ষা জীবন শুরু নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে। তিনি শ্রীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ভর্তি হন বাগমারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে। ১৯৯৬ সালে তিনি বাগমারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পাশ করেন। মাধ্যমিক পাশ করার পর তিনি উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হন রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার তৎকালীন দাওকান্দি ডিগ্রী কলেজে। সেখান থেকে সফলতার সহিত ১৯৯৮ সালে উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করেন। তারপর রাজশাহী কলেজে তিনি বাংলায় স্নাতক শেষ করেন এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রী অর্জন করেন।

ছাত্রজীবন শেষে জিল্লুর রহমান বিভিন্ন স্থানীয় এবং জাতীয় পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। দৈনিক সমকাল, আমাদের সময়সহ বিভিন্ন পত্রিকায় কাজ করেন। এ সময় সাংবাদিক সংগঠনেও নেতৃত্ব দেন তিনি।

২০০০-২০০৪ সালে বাগমারায় সর্বহারা এবং বাংলা ভাইয়ের আগমন ঘটলে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভীতি ও আতংক বিরাজ করে। সর্বহারা ও বাংলা ভাইয়ের বাহিনীর হাতে বাগমারায় মানুষ চরম অত্যাচার, নির্যাতন ও হত্যার শিকার হয়। এ সময় সন্ত্রাসীদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে জীবনের চরম ঝুকি নিয়ে তিনি সর্বহারা এবং বাংলাভাই বাহিনীর হাতে নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠু সংবাদ প্রকাশ করেন এবখ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্তমানে তিনি বাগমারা থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক মহোদয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন।

আমার দেখা মতে, জিল্লুর রহমানের রক্তের সাথে মিশে ছিল পরোপকারীতা। মানুষের উপকারে পাশে দাঁড়ানোই যার স্বভাব, মানুষের সুখে-দুখে বিপদে তার দু’হাত বাড়িয়ে দেয়া যার ধর্ম। ছোট বেলা থেকেই তাঁর মধ্যে রাজনৈতিক স্বত্তার বিকাশ হতে থাকে। তিনি বাগমারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে লেখাপড়া অবস্থায় ক্লাস ক্যাপটিন নির্বাচিত হন। সেই থেকে ছাত্র রাজনীতির সাথে জড়িয়ে পড়েন। ১৯৯৩ সালে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র অবস্থায় বাগমারা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কমিটিতে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৯৭ সালে দাওকান্দি ডিগ্রী কলেজে অধ্যয়নরত অবস্থায় ছাত্রলীগের আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নির্বাচিত হন ।

২০০৮ সাথে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের পক্ষে নির্বাচনে সক্রিয় অংশ গ্রহণ করেন। সংসদ নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হককে বিজয়ী করার লক্ষ্যে অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সহ স্থানীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীর পক্ষে একজন নিবেদিত কর্মী হিসেবে সর্বদায় কাজ করেন তিনি। এছাড়াও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে সর্বদা অগ্রণী ভূমিক পালন করেন তিনি। এর জন্য তিনি সব সময় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর কাছে একজন ত্যাগী  এবং পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে জনপ্রিয়তা অর্জনও করেছেন।

বাগমারা উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নে এক সময় আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে শূণ্যতায়ও তিনি এগিয়ে আসেন। তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বের কারনে তিনি একজন সৎ, যোগ্য এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে ২০১৬ সাল থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের হাল ধরেন। পরবর্তীতে জিল্লুর রহমান শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন । আমার জানামতে, তৃণমূল নেতাকর্মী ও দলের স্বার্থে নিবেদিতপ্রাণ মনুষ তিনি।

মাননীয় সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হকের মাধ্যমে শ্রীপুর ইউনিয়নবাসীর ভাগ্যের উন্নয়নে সর্বদা মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন সাহায্য সহযোগিতা করে যাচ্ছেন জিল্লুর রহমান। 

তিনি ইউনিয়নবাসীর চলাচলের জন্য রাস্তাঘাট, বিদ্যুৎ, স্ট্রিট লাইট, মসজিদ-মাদ্রাসা সংস্কার, সুপেয় পানির ব্যবস্থা সহ বিভিন্ন প্রকার উন্নয়নমূলক কাজ করে যাচ্ছেন এমপি মহোদয়ের মাধ্যমে। দেশে চলমান করোনাকালীন সময়ে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে মানুষকে খাদ্য সামগ্রী, মাস্ক বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা এবং সচেতনতামূলক কাজে তিনি প্রশংসীত হয়েছেন।

এমনসব পরিস্থিতিতে ইউনিয়নবাসী আগামীতে কেমন দেখতে চান শ্রীপুর ইউনিয়ন? ঘুনে ধরা, পোকাই খাওয়া, পিছিয়ে পড়া, অনুন্নত শ্রীপুর ইউনিয়ন? না কি জিল্লুর রহমানের উন্নয়নের ছোঁয়ার আলোয় আলোকিত শ্রীপুর ইউনিয়ন? জিল্লুর রহমানের দ্বারা যে ভাবে শ্রীপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন হচ্ছে তা দেখে অনেকেই ইষান্বিত হচ্ছেন। তাঁর উন্নয়নের ছোঁয়ার আলোয় আলোকিত শ্রীপুর ইউনিয়নের উন্নয়ন বন্ধ করতে মরিয়া হয়ে পড়েছে একটি চক্র। তাঁর বিরুদ্ধে ছড়ানো হচ্ছে মিথ্যা অপবাদ। উন্নয়ন থেকে দূরে রাখতে সৃষ্টি করা হচ্ছে বিভেদ। এতে ইউনিয়ন জুড়ে আগামীর যে উন্নয়ন তা বন্ধ করার একটা সুকৌশল। আগামীতে মডেল এবং আধুনিক ইউনিয়ন চাইলে নতুন নেতৃত্বকে আনতে হবে ক্ষমতায়। 

মোঃ ওসমান গনিবিশিষ্ট লেখক, কলামিষ্ট এবং শিক্ষকবাগমারা, রাজশাহী।


পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত


DMCA.com Protection Status
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, ২৫/১ পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: info@notunshomoy.com
Developed & Maintainance by i2soft