নতুন সময় প্রতিবেদক
Published : Sunday, 8 July, 2018 at 5:54 PM, Update: 09.07.2018 8:02:28 AM, Count : 1075
ফখরুলের নেতৃত্বে বদরুদ্দোজা, কামাল, রব, সিদ্দিকী ও মান্নার জোট

ফখরুলের নেতৃত্বে বদরুদ্দোজা, কামাল, রব, সিদ্দিকী ও মান্নার জোট

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে 'বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য' গড়াই এখন বিএনপির মূল টার্গেট। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের মাধ্যমে 'গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার', আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনই এই ঐক্যের মূল লক্ষ্য। এতদুদ্দেশ্যে ২০ দলীয় জোটের বাইরের পাঁচটি দলকে নিয়ে শিগগির 'বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য' গড়তে যাচ্ছে বিএনপি। দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। ঈদুল আজহার পর আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে পৃথক মঞ্চ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে তারা। কিছু দাবি আদায় হলে বা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হলে দলগুলোকে নিয়ে 'নির্বাচনী মোর্চা' করবে বিএনপি। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।  তবে দলের দুই শীর্ষ নেতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পদটি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর এই জোটে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য থাকছে। নতুন এ জোটের সম্ভাব্য নাম নিয়ে আলোচনা চলছে। প্রাথমিকভাবে 'বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য ফ্রন্ট' বা 'বৃহত্তর ঐক্য ফ্রন্ট' নাম দুটি বিবেচনায় রয়েছে। জানা গেছে, দাবি আদায়ে দলীয়ভাবে একক বা ২০ দলীয় জোটের ব্যানারের চেয়ে এখন 'বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য' গড়েই রাজপথে কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচিতে নামতে চায় বিএনপি।

তবে বিএনপির এ টার্গেট বাস্তবায়ন করা কঠিন চ্যালেঞ্জ বলেও মনে করছেন দল ও জোটের নেতা এবং রাজনৈতিক বিশ্নেষকরা।

বিএনপির 'বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য' গড়ার পথে চ্যালেঞ্জগুলোর অন্যতম হচ্ছে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্বাচন, নিজের দলকে সুসঙ্গত রাখা, ২০ দলীয় জোটকে সন্তুষ্ট রাখা, আসন ছাড় দেওয়ার জটিলতা, রাজনীতির 'গুণগত' পরিবর্তন। অবশ্য গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনের ব্যাপারে নীতিগতভাবে একমত হলে অন্য কোনো বিষয়ে সমস্যা হবে না বলে আশাবাদী বিএনপি নেতারা।

জানা গেছে, জামায়াতের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ থাকায় ২০ দলীয় জোটের শরিক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বৃহত্তর জোট গঠনের পথে দলটি প্রধান বাধা ছিল। এখন রাজনৈতিক দল হিসেবে জামায়াতের নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন না থাকায় নির্বাচনে জোটের শরিক দল হিসেবে না ভেবেই বৃহত্তর ঐক্যে গড়তে যাচ্ছে পাঁচটি দল। জামায়াতকে দল হিসেবে না ধরে তাদের নেতাদের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে আসন ছাড় দেবে বিএনপি।

সূত্র জানায়, চলতি মাস তিন সিটি নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত থাকবে বিএনপি। আগস্ট মাসজুড়ে জাতীয় শোক দিবসের নানা আয়োজন এবং পবিত্র ঈদুল আজহা থাকায় বড় ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি দেবে না দলটি। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন উপলক্ষে ব্যাপক কর্মসূচির মধ্য দিয়ে মাঠে নামবে বিএনপি। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচির পরপরই যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচিতে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে তারা। বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়লেও তাদের নির্বাচনী ইশতেহার পৃথক হবে।

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশ আজ গভীর সংকটে। দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নেই। আওয়ামী লীগ আবারও বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে বাদ দিয়ে একটি একদলীয় নির্বাচনের ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, তারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনের শাসন কায়েম করতে জাতীয় ঐক্য গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। তারা আশা করছেন, শিগগির বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গড়া সম্ভব হবে।

সূত্র মতে, ২০ দলীয় জোটের বাইরের এই পাঁচটি দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিরিজ বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। দলগুলোর শীর্ষ নেতারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে নির্দলীয় সরকারের অধীনে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায়ের আন্দোলনের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছেছেন। একই সঙ্গে নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠন ও দেশে আইনের শাসন কায়েম এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবির সঙ্গে একমত হয়েছেন তারা।

নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না গতকাল বলেন, খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর দলটির বোধোদয় হয়েছে যে, একা কিছু করা যাবে না। অন্যদিকে সাধারণ ছাত্রদের ওপর সরকারের নির্যাতনের পর অন্যরাও একটি প্ল্যাটফর্মে এসে আন্দোলন করতে আগ্রহী হয়ে উঠছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব দলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিসহ অন্যান্য মৌলিক দাবিতে এক মঞ্চে না হলেও পৃথক মঞ্চ থেকে যুগপৎ কর্মসূচি হতে পারে। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার পর এ রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে।

চ্যালেঞ্জও অনেক: বিএনপির বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য গড়ার পথে অনেকগুলো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হতে পারে। অনেক আগে থেকেই এ দলগুলোকে নিয়ে বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে বিএনপি। তবে এ জোট শেষ পর্যন্ত নির্বাচনী মোর্চা পর্যায়ে গড়ানোর পথ সহজ নয়। বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে শীর্ষ নেতৃত্বের পদটি বিএনপি রাখতে চায়। তবে দলের দুই শীর্ষ নেতা চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারারুদ্ধ এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে থাকায় কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ ক্ষেত্রে অধ্যাপক ডা. বদরুদ্দোজা চৌধুরী, ড. কামাল হোসেন বা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্য থেকে একজন শীর্ষ নেতাকে পদটি দেওয়ার ব্যাপারে আলোচনা চলছে।

সূত্র জানায়, বৃহত্তর জোট গড়ার ক্ষেত্রে বিএনপিকে নিজ দল ও ২০ দলীয় জোটকে সুসংহত রাখার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে। বিশেষ করে নির্বাচনে আসন বণ্টনের বিষয়টি নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিএনপি ও জোটের প্রভাবশালী কেন্দ্রীয় নেতাদের আসন বৃহত্তর জোটের প্রভাবশালী নেতাদের কেউ দাবি করলেও সংকট তৈরি হতে পারে। বিষয়টি নিয়ে এখন থেকে বিএনপি ও জোটের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিএনপির একজন ভাইস চেয়ারম্যান জানান, যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজের দল এবং জোটের ঐক্য সুসংহত রাখতে হবে। নিজ দল ও জোটের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের বাদ দিয়ে অন্য কাউকে মূল্যায়ন করলে সংকট তৈরি হবে। বিশেষ করে ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীকে অবমূল্যায়ন করা যাবে না। সব দলের অংশগ্রহণে সুষ্ঠু নির্বাচন হলে প্রতি আসনে ১০-২০ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয় ও পরাজয় নির্ধারণ হয়। এ ক্ষেত্রে জামায়াতের ভোট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দলের কয়েকজন প্রভাবশালী নেতার মতে, বৃহত্তর জোটের পাঁচটি দলের সুনির্দিষ্ট কোনো ভোটব্যাংক নেই। তবে শীর্ষ নেতাদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কিছুটা হলেও গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft