কাজী শামীম কাতার থেকে
Published : Tuesday, 5 June, 2018 at 1:34 AM, Count : 200
সবুজ ঘাস আর খেজুর গাছের নিচে প্রবাসী শ্রমিকদের ইফতার

সবুজ ঘাস আর খেজুর গাছের নিচে প্রবাসী শ্রমিকদের ইফতার

কাতারে বসবাসকারী বাংলাদেশী প্রবাসী শ্রমিকরা ইফতার করার জন্য মনে আনন্দ নিয়ে প্রস্তুুতি নিচ্ছে খোলা আকাশের নিচে সবুজ মাঠে এবং সাগর তীরের উচু যায়গায় ।বিশুদ্ধ পানি, আলু চপ, বেগুনী, ডাল বরা, মুড়ী, ছোলা, জিলাপি, কলা, আপেল, খেজুরসহ কাতার সরকার থেকে দেওয়া বিরিয়ানি তাদের ইফতারের ম্যানুতে আছে।

প্রতিবছর পবিত্র রমজান এলে দোহার মধ্যে বিশেষ করে নাজমা, ইশারা আছমা, দোহা জাদিদ, সুকওয়াকিপ, কর্নিশ, সবজী মার্কেট, মোররা, মদিনা খলিফা, নিউ রাইহান এলাকায় ছোট পরিসরের সবুজ মাঠে ইফতার সামগ্রী নিয়ে প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যস্ততা দেখা যায়। এক সংগে ৫/৭ জন মিলে সবুজ মাঠের বিভিন্ন পাসে সবাই গোল হয়ে বসেন এবং ইফতার সারেন। তারা এখানকার স্থানীয় বিভিন্ন দোকানে কাজ করেন কেউ কেউ সবজী ও মাছ বিক্রেতা। প্রত্যেকে একেক পদের ইফতার দোকান থেকে নিয়ে আসেন এবং সম্মিলিত ভাবে খেয়ে থাকেন। এছাড়াও অনেকে কাতার সরকার থেকে দেওয়া ইফতার সংগ্রহ করে এইসব সবুজ ঘাসে বসে ইফতার সেরে নেন।

মুন্সিগন্জ জেলার কামাল সিকদার বলেন, আমি ও আমার রোম সদস্য দুইজনসহ আজকে ইফতার করতে সবুজ ঘাসের উপর এসেছি। এখানে পাসেই সারী সারী খেজুর গাছ থাকাতে মনে আনন্দ পাই এবং এখানে ইফতার সেরে তৃপ্তি পাই।তবে এখন গরম আবহাওয়ার কারনে নিয়মিত আসতে পারিনা।

কুমিল্লা জেলার কামরুল ইসলাম বলেন, এই ছোট পার্কটি আমাদের বাসার কাছে হওয়াতে নিয়মিত এখানে এসে ইফতার করি কারন পাসেই মসজিদ আছে সহজেই জামাতে নামাজ আদায় করতে পারি অন্যথায় রোমে ইফতার করলে জামাতে নামাজ আদায় করা যায়না।

এখানে যারা ব্যাচেলর রুমে ভাড়া থাকেন তাদের অধিকাংশই খেমাতে ইফতার করে থাকেন। প্রতি রমজানে কাতার চ্যারিটি ও কাতারের ধনাড্য শেখরা প্রায় প্রতিটা মসজিদের পাশে বিশাল আকারের অস্থায়ী তাঁবু তৈরি করে থাকেন। এসব তাবুতেও প্রতিদিন বিনামূল্যে ইফতার খাওয়ানো হয়। সেখানে যে কেউ গিয়ে ইফতারে অংশ নিতে পারেন। এসব তাবুঁকে  আরবিতে খেমা বলা হয়। এখানে কখনও বিরিয়ানি, আবার কখনও আরবি মেন্দি দেওয়া হয়।ছোট তাঁবুতে ৩০০ থেকে ৫০০ জন এবং বড় তাবুঁতে ৮০০ থেকে প্রায় ১০০০ জন রোজাদার ইফতার করারর জন্য বসতে পারেন।

তবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে দেশীয়  ইফতার সামগ্রী ছাড়া রোজা যেন পূর্ণতা পায় না।  তাই  ইফতারের সময় স্থানীয় বাংলাদেশি রেস্টুরেন্টগুলোতে ভিড় জমান বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

অন্যদিকে দুপুরের পর পরই স্থানীয় বাংলাদেশী-রেস্তোরাঁগুলো জমে উঠে ইফতারির বাহারী আয়োজনে। আলুর চপ, ছোলা, বেগুনী, আলু পাকোড়া, শাক বরা,জিলাপী, বুরিন্দা, রসমালাই, হালিমসহ ঐতিহ্যবাহী দেশীয় ধাঁচের খাবার মিলছে এসব দোকানে। এসব রেস্তরাঁগুলোতে বিভিন্ন স্বাদের ইফতার নিতে ভিড় জমায় প্রবাসী বাংলাদেশীসহ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, শ্রিলংকা ও মিসরীয়রা ।


« পূর্ববর্তী সংবাদপরবর্তী সংবাদ »


সর্বশেষ সংবাদ
সর্বাধিক পঠিত
সম্পাদক ও প্রকাশক: নাজমুল হক শ্যামল
দৈনিক নতুন সময়, বাড়ি ৭/১, রোড ১, পল্লবী, মিরপুর ১২, ঢাকা- ১২১৬
ফোন: ৫৮৩১২৮৮৮, ০১৯৯৪ ৬৬৬০৮৯, ইমেইল: newsnotunsomoy@gmail.com
Developed & Maintainance by i2soft